ইসলাম কি তরবারির জোরে প্রসার লাভ করেছে?


শেখ ফরিদ আলম

হামেশাই ইসলাম সম্পর্কে একটা অপবাদ দেওয়া হয় যে ইসলাম প্রসার লাভ করেছে তরবারীর জোরে। মানে বলপ্রয়োগ করে। মুসলমানরা কোন রাজ্য জয় করলে রাজ্যবাসীদের নাকি মুসলিম হতে বাধ্য করতেন নতুবা কতল করতেন। এই কথা যে ১০০% মিথ্যা তার হাজারো প্রমান আছে। একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও নিজের বুদ্ধির অল্প ব্যবহার করেও বুঝে যাবে এটা কতটা অযৌক্তিক আর মিথ্যায় ভরা অপবাদ। যেমন ধরুন, স্পেন বা ভারত উপমহাদেশে মুসলিমরা ১০০০ বছরের মতো শাসন করেছে। কিন্তু এসব দেশে কি মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট? নাহ, এখানে মুসলিমদের থেকে কয়েক গুন বেশি অমুসলিম আছে। যদি এদের জবরদস্তি মুসলিম করা হতো তবে কি এখানে অমুসলিম থাকার কথা ছিল? নাহ, ১০০০ বছর ধরে অমুসলিমদের জবরদস্তি মুসলিম করা হলে একজন অমুসলিমও থাকার কথা নয়। আরো দেখুন, আরব দেশ গুলোতে চৌদ্দ’শ বছর ধরেই মুসলিমরা শাসন করছে তারপরেও সেইসব দেশে যথেষ্ট পরিমাণে অমুসলিম আছে। এইসব দেশ জলন্ত উদাহরণ এটার যে মুসলিম শাসকরা জবরদস্তি অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করেননি।

মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার কথা ধরুন এখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট। ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। কবে, কোন সৈন্য এ দেশ দুটিতে তরবারীর জোরে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে? এখানে তো মুসলিম সম্রাটরা কখনোই শাসন করেনি। এরা মুসলিম হয়েছে ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে, তরবারী জোরে নয়।

ইসলাম বা মুসলিমরা কি সত্যিই অমুসলিমদের জবরদস্তি মুসলিম করেছে? অনান্য ধর্মে হস্তক্ষেপ করেছে? ধর্মপালনে বাধা দিয়েছে? এসব ব্যাপারে ঐতিহাসীকদের মতকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, তাঁদের কাজই ইতিহাস নিয়ে গবেষনা করা আর সত্যান্বেষন করা। আসুন কয়েকজন ঐতিহাসিক এবং সত্যান্বেষীর মতামত জানা যাক –

◆ ইসলাম কোন ধর্মের নীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। কোন ধর্মের অবজ্ঞা করেনি। কোন ধর্মীয় বিচারালয় বিধর্মীদের শাস্তি প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেনি। ইসলাম কখনো লোকদের ধর্মকে বলপূর্বক পরিবর্তনের সংকল্প করেনি। [M.D Saint Hiller]

◆ ঐতিহাসিক পি.কে হিট্টি বলেন – মুসলমান আইনের আওতার বাইরে থেকে অমুসলিমরা তাদের নিজেদের ধর্মীয় নেতা কর্তৃক পরিচালিত আইন কানুন মেনে চলার সম্পূর্ণ অধিকারী ছিলেন। [মধ্যযুগের রুপরেখা/১০৪ পৃষ্ঠা]

◆ স্যার পি.সি রায় বলেছেন – একথা সরাসরি মিথ্যা যে, ইসলাম তরবারির জোরে প্রচারিত হয়েছে। ইসলাম যদি তরবারির দ্বারাই প্রচার লাভ করবে তবে মুসলমানের রাজত্ব হওয়া সত্ত্বেও এত হিন্দু কি করে বসতি লাভ করল? যদি ও কথা সত্য হয়, তবে হিন্দুদের ঐ অঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। [করাচি অভিভাষন, ২৯ আগষ্ট ১৯৩২]

◆ ঐতিহাসিক আর্নল্ড বলেছেন – মুসলিম মুজাহিদদের একহাতে তলোয়ার আর অপর হাতে কুরান – পাশ্চাত্য মনীষীদের এই চিত্র ঔপন্যাসিক সত্যতা থেকে কিছু মাত্র বেশি গুরুত্বপুর্ণ নয়। [দ্য প্রিচিং অব ইসলাম]

◆ মুসিওমিদিও বলেছেন – ইসলামের প্রতি অনর্থক দোষারোপ করে বেশিরভাগ সেই সমস্ত লোক, যারা সাম্প্রদায়িকতার ব্যধিতে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে অথবা স্বল্পবিদ্যা হেতু ইসলামকে ঠিক বুঝতে পারেনি।

◆ ড. গিস্টাড লিবান বলেছেন – সত্যি বলতে কি, ইসলাম ধর্ম তরবারি দ্বারা প্রচারিত হয়নি বরং বক্তৃতাতে লোকে সাগ্রহে ইসলাম গ্রহন করেছে।

ঐতিহাসিকদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে ইসলাম তরবারি দিয়ে প্রসার লাভ করেনি। না মুসলমান শাসকরা অনান্য ধর্মের প্রতি অত্যাচার-অবিচার করেছে। ইসলাম যে তরবারির দ্বারা প্রচারিত হয়নি এর সবথেকে বড় উদাহরণ হল বর্তমানে পৃথিবীতে সবথেকে বর্ধনশীল ধর্ম হল ইসলাম। আর পাশ্চাত্যেই এর বিস্তার হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। প্রশ্ন হচ্ছে পাশ্চাত্যে কোন মুসলিম এদের ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করছে?

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in অমুসলিমদের চোখে ইসলাম, ইসলাম. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s