মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজই ইসলামীক কাজ!


13254511_225752897806847_9108528826163222411_n

লিখেছেন – সাবির আলী

প্রতিটা জিনিসের একটা স্বভাবধর্ম বা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য আছে। আরবীতে যাকে বলা হয় ফিতরাত। এই যেমন ধরুন পানি। পানির স্বভাবধর্ম হচ্ছে সে সবকিছু ভিজিয়ে দেয়। আগুন জ্বালিয়ে দেয়, বাতাস প্রবাহিত হয় ইত্যাদি। আরো বলা যেতে পারে যেমন গরু ঘাস, লতাপাতা খায়, মাংস খায়না, আবার সিংহ মাংস খায় কিন্তু ঘাস খায়না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মানুষের তাহলে স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত টা কি? আদৌ কি মানুষের তা আছে? হ্যাঁ আছে বৈ কি!
ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মানুষ মূলত দুই প্রকার। এক, যার মানবিকতা আছে, আর দুই, যার মানবিকতা নেই। আসলে এই মানবিকতাই হচ্ছে স্বভাবধর্ম। যে মানবিক নয় সে ফিতরাতের উপরে নেই। যেমন, একজন সিগারেট খায় আর নিজেকে ধ্বংস করে। তারপর কায়দা করে ধোয়া উড়িয়ে অন্যের নাকে মুখে এক গাদা মারণ রোগের জীবাণু ঢুকিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে শূন্যে মাথা তুলে থাকায়। এরা কখনই মানবিক নয়। ইসলামে সকল প্রকার নেশাদ্রব্য হারাম তথা নিষিদ্ধ, তাই সে বিড়ি, সিগারেট হোক বা মদ হেরোইন হোক। তাহলে ইসলাম এখানে মানবিক তথা স্বভাবধর্মের অনুকুল। আবার কোন পুরুষ যখন তার হাত, পা, চোখ, কান অথবা মন দিয়ে কোন মেয়েকে ধর্ষণ করে, তখনও সে মানবিক থাকে না অর্থাৎ স্বভাবধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ওদিকে ইসলামে চোখের জেনা, কানের জেনা, হাতের জেনা এমনকি মনের জেনার (জেনা অর্থাৎ অবৈধ সম্পর্ক) কথা উল্লেখ করে তা হারামের পর্যায়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখানেও ইসলাম ফিতরাত তথা স্বভাবধর্মের অনুকুলে। আরো বলা যায়, ছোট থেকে বড় অনেক বিষয়ে। তালিকা সুদীর্ঘ। তবুও কিছু ছোট এবং বড় বিষয় উল্লেখ করছি যা মানবিক এবং সমান্তরাল ভাবে ইসলামিকও।
(১) চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, ধোকা এগুলি একাধারে ইসলাম বিরোধী এবং অমানবিক অর্থাৎ স্বভাববিরুদ্ধ
(২) ঘুষ, সুদ, জুয়া, জবর দখল, সম্পত্তি আত্মস্যাৎ, ইয়াতীমের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া, উগ্র ও লাগামহীন পুঁজিবাদ, অবাস্তব রক্তক্ষয়ী কমিউনিষ্ট শ্রেণি সংগ্রাম- এসবই মানবতা বা ফিতরাত বিরুদ্ধ এবং সেই সাথে এগুলি ইসলামের সাথেও সাংঘর্ষিক।
(৩) রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, গুম, অপহরণ ইত্যাদি যেমন অমানবিক তেমনি অনৈসলামিক।
(৪) পরকীয়া, অবাধ ও বিকৃত যৌনতা এসব স্বভাববিরুদ্ধ এবং ইসলাম বিরুদ্ধ।
(৫) পরপকারীতা, দানশীলতা, সংযম ও শান্তিপ্রিয়তা প্রশংসনীয় এবং মানবিক তাই এগুলিই মানুষের স্বভাবধর্ম। আর ইসলামে এগুলি শুধু প্রশংসিত নয় বরং মুসলিমদের জন্য এগুলি অপরিহার্য।
(৬) জল, বিদ্যুৎ, জ্বালানী যাই সংরক্ষণ করা হোক, তা নিঃসন্দেহে মানবিক বা স্বাভাবজাত গুন। ইসলাম বলে অপচয়কারী শয়তানের ভাই।
(৭) রোগী দেখতে যাওয়া, তার শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, অথবা ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, বা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা মানবিক এবং স্বভাবধর্ম আর ইসলামে এগুলি উচ্চ প্রশংসনীয়, ক্ষেত্র বিশেষে অপরিহার্য।

এভাবে লিখতে থাকলে শেষ করা মুশকিল। এককথায় আপনি মানবিক কিছু করলেই অর্থাৎ তাতে মানুষের কল্যাণ থাকলেই ভাববেন আপনি ইসলামিক কিছু করেছেন। আর মানুষের জন্য অকল্যাণকর কিছু করলে নিশ্চিত জানুন আপনি ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করে ফেলেছেন। এতকিছুর পরে যদি শেষে বলি ইসলামই মানুষের স্বভাবধর্ম তাহলে আশাকরি অত্যুক্তি হবেনা। অবশ্য আমরা একথা শুধু বলিনা, মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ‘ প্রতিটি মানুষ তার স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত অর্থাৎ ইসলামের উপরেই জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার পরিবার, তার পরিবেশ তাঁকে ফিতরাত থেকে ইহুদী, নাসারা বা মাজুসী বানায়’। হ্যাঁ, এটাই বলেছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা)।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in ইসলাম, জীবনের উদ্দেশ্য, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার, সুখী জীবন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s