ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট


d3c504038228d93224ec0ed42cf491dc

লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

ইসলামের যে সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট গুলো যুগে যুগে মানুষকে মুগ্ধ করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইসলাম শুধু (প্রচলিত) ইবাদতকেন্দ্রিক ধর্ম নয়। অনান্য ধর্মের ক্ষেত্রে খেয়াল করবেন এখন শুধু উপাসনার পদ্ধতি এবং উতসব গুলোই টিকে আছে। এসবের বাইরে খুব কম নির্দেশ আদেশ আছে। কিন্তু ইসলাম ভোরে ওঠা থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই এমনকি পেচ্ছাপ-পায়খানা বা স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা অথবা পশু পক্ষীর সাথে ব্যবহারেও আদব কায়দা, নিয়ম কানুন শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম আসলে (প্রচলিত) ধর্ম নয়, ইসলাম হল দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা। ইসলামে ‘ধর্ম আলাদা পরিবার, ব্যবসা, লেনদেন ইত্যাদি আলাদা’ এরকম কোন থিওরি নাই। বরং ধর্ম ও দুনিয়া ইসলামে একই। সকল ক্ষেত্রেই, সবকিছুতেই ইসলাম কিছু উপদেশ-নির্দেশ দিয়েছে যা প্রত্যেক মুসলমানকে মেনে চলতেই হবে। আর এটা ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট। আজ সকালে শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানীর হাদীস সম্ভার বইটি পড়তে গিয়ে কয়েকটা চমৎকার হাদিস পড়লাম। যা মেনে চললে আমাদের সকলের জীবনই আলোকিত হবে ইন শা আল্লাহ!

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন –

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের সন্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই তার আত্মীয়তার বন্ধন আটুট রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে’। [বুখারী/৬১৩৮]

‘ততক্ষন পর্যন্ত তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে’। [বুখারী/১৩; মুসলিম/৪৫]

‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, পাপ করলে সাথে সাথে পূণ্যও করো, যাতে পাপ মোচন হয়ে যায় এবং মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করো’। [আহমাদ, তিরমীযি, হাকেম, সহীহুল জামে/৯৭]

‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম বান্দা হল সেই, যার চরিত্র সুন্দর’। [ত্বাবারানী, সহীহুল জামে/১৭৯]

‘সবার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবার চেয়ে সুন্দর এবং তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে নিজ স্ত্রীদের নিকট উত্তম’। [সহীহুল জামে/১২৩২]

‘‘জান্নাত অনিবার্যকারী কর্ম হল, উত্তম কথা বলা, সালাম প্রচার করা এবং অন্ন দান করা’। (সঃ তারগীব/২৬৯৯)।

‘তোমরা ধারণা করা থেকে দূরে থাক। কারণ, ধারণা সবথেকে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা জাসুসি করো না, গুপ্ত খবর জানার চেষ্টা করো না, পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ রেখো না, একে অন্যের পিছনে পড়োনা, তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই-ভাই হয়ে যাও’। [বুখারী, মুসলিম, সহীহুল জা’মে/২৬৭৯]

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ঐ ব্যাক্তি সবচেয়ে খারাপ, যাকে মানুষ তার অশালীন কথার ভয়ে ত্যাগ করেছে’। [আবু দাউদ; সহীহ; হাদীস নং ৪৭৯১]

‘সে মুমিন নয়, যে ভরপেট খায় অথচ তার পাশেতার প্রতিবেশী উপোস থাকে’। [ত্বাবারানী; হাকেম; সহীহুল জা’মে/৫৩৮২]

‘তোমরা সকল ধর্মের মানুষদেরকে দান কর’। [ইবনে আবী শাইবা; সিঃ সহীহাহ/২৭৬৬]

‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী’। [সিলসিলাহ সহীহাহ/৪২৬]

‘আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশির সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়’। [আহমাদ, সহীহুল জামে/৩৭৬৭]

 

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s