রিয়েল হিরোদের গল্প ৫


640x392_96087_227742

খলীফা উমার ফারুক (রা.) নিজের অভ্যাসমত রাত্রে প্রজাদের অবস্থা জানার উদ্দেশ্যে মদীনা শহর টইল দিতেন। লোকেরা শয্যাগ্রহণ করে আরাম করত। আর তাদের আমীর তাদের সমস্যাবলী অবগত হওয়ার জন্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার নিমিত্তে শহর প্রদক্ষিণ করতেন। একদিন একটা খোলা মাঠ বেঁয়ে হাটছিলেন। মাঠের এক প্রান্তে একটি তাঁবু খাটানো ছিল। তিনি তাঁবুর ভেতর থেকে একজন মহিলার কান্না ও কাতরানোর আওয়াজ শুনতে পেলেন। উমার (রা.) তা শুনে ঐ দিকেই যাত্রা করলেন। তাঁবুর দরজায় একজন পুরুষ বসেছিল। উমার (রা.) তাকে সালাম দিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কে?’ লোকটি বলল, ‘আমি মরু অঞ্চলের অধিবাসী। এই শহরে আমি অপরিচিত বিদেশী মানুষ। আমীরুল মু’মেনীনের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছি। যাতে কিছু সাহায্য লাভ করতে পারি’।

    এবার উমার (রা.) ঐ মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ও কে? এবং কেন কাতরাচ্ছে?’। লোকটা একটু বিরক্ত হল। কারন, সে তো জানে যে, সে আমীরুল মু’মেনীনের সাথেই কথা বলছে! লোকটা বলল, ‘আল্লাহর বান্দা তুমি নিজ রাস্তা দেখ। যে কথার সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নাই সেই কথা কেন জিজ্ঞেস করছ?!’

      উমার তাকে নম্রতার সাথে বলল, ‘ওহে বিদেশী ভাই! তুমি তোমার সমস্যার কথা খুলে বল। যদি সম্ভব হয় তাহলে আমিই তোমার সাহায্য করব’। লোকটা তখন বলল, ‘শোনো! আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা দেখা দিয়েছে। কাছে অন্য কোন মহিলাও নেই যে, তার এই অবস্থায় তাকে সাহায্য সহযোগিতা করবে’।

      এই কথা শোনা মাত্রই আমীরুল মু’মেমীন উমার তাঁর বাড়ির দিকে রাওনা হল। তাঁর সহধর্মিনী উম্মে কুলসুমকে ঘুম থেকে জাগালেন। বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তোমাকে আজ নেকি করবার সুযোগ করে দিয়েছেন’। কুলসুম (রা.) বললেন, ‘নেকি অর্জনের জন্য কি এমন কাজ বলুন?’

  উমার (রা.) তাঁর স্ত্রীকে সব খুলে বললেন। তারপর দুজনে মিলে প্রসব করানোর জরুরি জিনিস এবং কিছু খাদ্যসামঘ্রী নিয়ে তাঁবুর নিকটি এলেন। উম্মে কুলসুম (রা.) তাঁবুর ভেতরে গেলেন এবং প্রসব করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। আর উমার (রা.) এবং লোকটি মিলে খাবার তৈরির জন্য ব্যস্ত হলেন। উমার (রা.) নিজে আগুন ধরানোর জন্য ফুঁক দিচ্ছেন।

      এদিকে মহিলার প্রসব হয়ে গেছে। তাঁবুর ভেতর থেকে খলিফা পত্নী বললেন, ‘আমীরুল মু’মেনীন! আপনার সাথীকে সুসংবাদ দিন যে, আল্লাহ তাআলা তাকে পুত্র সন্তান দান করেছেন’।

   যখন ঐ ব্যক্তি এই কথা শুনল, তখন সে অবাক-হতবাক হয়ে গেল! ইনিই আমীরুল মুমেনীন; যিনি তার সাথে খাবার বানাচ্ছেন! আগুনে ফুঁক দিচ্ছেন!

      ঐ দিকে লোকটির স্ত্রীও অবাক। এতক্ষন যে নার্সের মতো তার সেবা করল আর প্রসব করালো সে আসলে বিশাল সালতানাতের আমীরের স্ত্রী! আলী ফাতেমা (রা.) এর কন্যা এবং রসুলুল্লাহ (সা.) এর নাতনী! [সুনহরে আওরাক্ব/ ১৪৬-৪৭ পৃষ্ঠা]

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in ইসলাম. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s