আসসালামু আলাইকুম


রেহনুমা বিনত আনিস

আসসালামু আলাইকুম – আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! এটাই হবে জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক সম্ভাষন। আমাদের আদি-পিতা আদম (আ.) ফেরেস্তাকুলের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাঁদের এভাবেই অভিবাদন জানান এবং সৃষ্টির সেরা জীব হবার দাবীদার হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করেন। মানবকুলশ্রেষ্ঠ রাসূল (সা) কে সালামের প্রতিযোগিতায় কেউ কোনদিন হারাতে পারেনি, সালাম প্রদানকারী সালাম গ্রহীতার চেয়ে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তিনি আক্ষরিক অর্থেই সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সালাম দাতা অবশ্য অন্যদিকেও সালাম গ্রহীতার চেয়ে শ্রেয় অবস্থানে থাকে। কারণ রাসূল (সা) বলেছেন সালামের জবাব ততোধিক অথবা ন্যূনপক্ষে সমান দু’আর মাধ্যমে দিতে। যারা সালামের তাৎপর্য বোঝেন তারা পরস্পর প্রতিযোগিতা করেন সালাম দেয়ার ব্যাপারে।

অভিবাদন হিসেবে সালামের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। আমার ব্যাক্তিগতভাবে এমন ব্যাক্তির সাথে পরিচয় হয়েছে যিনি শুধু সালামের অর্থ শুনে ইসলাম গ্রহন করেন। এক দুর্যোগপূর্ণ প্রভাতে তাঁর যার সাথেই দেখা হচ্ছিল সেই বলছিলো, ‘গুড মর্নিং’ কিংবা ‘হাই’, আর তিনি মনে মনে গজগজ করছিলেন, ‘ইটস নট আ গুডমর্নিং অ্যান্ড আই অ্যাম নট ফিলিং হাই, রাদার আই অ্যাম অ্যাট দ্য লোয়েস্ট পয়েন্ট অফ মাই লাইফ’! এমন সময় তাঁর প্রতিবেশী প্রতিদিনের মত সেই দুর্বোধ্য সম্ভাষনে তাঁকে অভিবাদন জানায়। তিনি তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘কি বলছ ইংরেজীতে বল, কিছুই বুঝিনা, ছাই!’ প্রতিবেশী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললেন, ‘আমি তো কেবল বললাম, তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক!’ তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন, ‘আহ! শান্তি! এই তো আমার চাই! যে ধর্মের অভিবাদন এতটা প্রশান্তিদায়ক সে ধর্ম আদতে না জানি কতখানি শান্তিময়!’ ব্যাস, চলে এলেন ইসলামের পথে!
তবে সালামের একটা ভয়ানক দিকও আছে। আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রানীদের একজন সেই ব্যাক্তি যার অনিষ্টের ভয়ে মানুষ তাকে সালাম দেয়। এই ভয়ে এমনি সময় সালামের প্রতিযোগিতা করলেও দায়িত্বশীল পদে থাকলে নিশ্চিত করতাম দারোয়ান, পিয়ন থেকে কেউ যেন আমার আগে সালাম দিতে না পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের তল্পি নিজেই বহন করতাম কিন্তু দায়িত্বশীল পদে গেলে অসুস্থ অবস্থাতেও কারো সাহায্য নিতে পারতাম না। এমনকি একদিন ছোটভাই শাওন রাস্তার মধ্যখানে ব্যাগ নিয়ে টানাটানি দিলে ওকে নিরস্ত করার জন্য বললাম, ‘এবার কিন্তু লোকজন তোমাকে ছিনতাইকারী মনে করবে!’
বৃটিশরা তাদের দু’শ বছরের শাসনকালে আমাদের মাঝে সালাম এবং তল্পিবহন সংক্রান্ত হীনমন্যতা প্রোথিত করে দিয়ে গিয়েছে। এজন্য আমাদের পদস্থ কর্মকর্তারা লোকজন দেখলে মুখে কুলুপ এঁটে সালামের আশায় ভিক্ষার ঝুলি বিছিয়ে বসে থাকেন, সুস্থ সমর্থ দেহ নিয়েও অপরকে দিয়ে নিজের ব্যাগ বহন করিয়ে একপ্রকার আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকেন। অথচ এগুলো সবই অজ্ঞতাপ্রসূত অহমিকা। সালামের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সাথে এর কোন মিল নেই! দুঃখের ব্যাপার হোল বৃটিশরা যদিও গত অর্ধশতাব্দিতে শেষপর্যন্ত সভ্যতার নাগাল পেয়েছে, পরস্পরকে নাম ধরে ডাকতে শিখেছে, নিজের কাজ নিজে করতে শিখেছে, নিজের বোঝা নিজে বহন করতে শিখেছে, আমরা এখনো কুনোব্যাঙের মত গর্তের ভেতর বসে আত্মতুষ্টি নিয়ে সেই পুরোনো সুরে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাং করতেই আছি। তবে আমাদের এই অজ্ঞতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা কি খুব জরুরী? শিক্ষিত লোকজনের এই অবস্থা হলে জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যত কোনদিকে ধাবমান? এবার মনে হয় আমাদের ভেবে দেখা দরকার।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in ইসলাম. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s