আমরা সেই সে জাতি


আবুল আসাদ

 [আমরা সেই সে জাতি আবুল আসাদ সাহেবের বিখ্যাত একটি বই। এই বইতে তিনি মুসলিম জাতির মহান মনীষীদের সাহসীকতা, উদারতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, পরোপকার ও সততার ঘটনা গুলিকে সংকলন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইটি অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেই বই থেকে কিছু ঘটনা ইসলামের আলোর পাঠকদের জন্য পেশ করা হল। – সম্পাদক]

বড় উমারের ছোট অতীতকে স্মরণ করা

“এমন একটা সময় ছিল আমার জীবনে, যখন আমি খালাম্মার ছাগল চরাতাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে দিতেন মুষ্টিতে করে খেজুর। আর আজ সেই আমি এই অবস্থায় উপনীত হয়েছি।” একদিন মসজিদের মিম্বরে উঠে হযরত উমার (রা) শুধু একথা কয়টি বলেই নেমে পড়লেন। ঐ কথাগুলো এবং এই ধরণের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই অবাক হলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ বলেই ফেললেন, “আমীরুল মুমিনীন, এর দ্বারা তো আপনি লোকদের সামনে নিজেকে ছোট করলেন”।হযরত উমার (রা) বললেন, “ঘটনা হলো, একাকীত্বের সময় আমার মনে একথা জেগেছিল যে, তুমি আমীরুল মুমিনীন, তোমার চেয়ে বড় কে হতে পারে। তাই আমি প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে দিলাম যেন ভবিষ্যতে এমন কথা মনে আর না না জাগে।”

বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ঘটকালি

বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভাই আবু রুয়াইহা আশিয়ানি।ইয়েমেনি এক পরিবারে সেই ভাই বিয়ে করার ইচ্ছা করলেন। তিনি ধরলেন তার ভাই বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার বিয়ের পয়গাম পৌছাবার জন্য।ভাইয়ের অনুরোধে রাজী হলেন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ভাইয়ের বিয়ের পয়গাম নিয়ে গেলেন সেই ইয়েমেনি পরিবারে। তিনি গিয়ে বললেন, আমি বিলাল বিন রাবাহ, আবু রুয়াইহা আমার ভাই। তার ধর্ম ও চরিত্র দুইই খারাপ। আপনাদের ইচ্ছা হয় তারঁ সাথে আত্মীয়তা করুন, না হয় করবেন না।বিলাল (রা) ভাইয়ের পয়গাম নিয়ে গিয়েও ভাইয়ের দোষ গোপন করলেন না। অথচ কথাবার্তার মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই দোষগুলো প্রকাশ করা তার জন্য স্বাভাবিক ছিল না। বিলাল (রা)-এর এই স্পষ্টবাদিতা ও সততায় মুগ্ধ হল কনেপক্ষ। তারা বলল, এরকম একজন সত্যবাদী লোক তাদের মেয়ের বিয়ের পয়গাম এনেছে, এটা তাদের জন্য সৌভাগ্য, গৌরবের বিষয়। তারা বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল।

আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার অতুলনীয় বিশ্বাসপরায়ণতার জন্য উপাধি পেয়েছিলেন আস সিদ্দিক। শুধু বিশ্বাস ও আমলেই নয়, দানশীলতার ক্ষেত্রেও তার কোন তুলনা ছিলনা। উমার ইবনে খাত্তাব (রা) বলেছেন, “তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যার যা আছে তা থেকে যুদ্ধ তহবিলে দান করার আহবান জানালেন। এ আহবান শুনে আমি নিজে নিজেকে বললাম, “আমি যদি আবু বকরকে অতিক্রম করতে পারি, তাহলে আজই সেই দিন”।
এই চিন্তা করে আমি আমার সম্পদের অর্ধেক মহানবীর (সা) খেদমতে হাজির করলাম। আল্লাহ রাসূল (সা) জিজ্ঞাসা করলেন, “পরিবারের জন্য তুমি কী রেখেছ? বললাম, “যেই পরিমাণ এনেছি সেই পরিমাণ রেখে এসেছি”।
এরপর আবুবকর তার দান নিয়ে হাজির হলেন। মহানবী (সা) ঠিক ঐভাবেই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আবু বকর, পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট আছে?” আবু বকর জবাব দিলেন, “তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল রয়েছেন”।
আমি আমার কানকে আগের মতন করেই বললাম, “কোন ব্যাপারেই আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না”।

উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন

অর্ধেক পৃথিবীর পরাক্রমশালী শাসক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু গেছেন জেরুসালেমে।পরাজিত রোমান গভর্ণর তার হাতে তুলে দিয়েছেন রোমান নগরী। এর আগেই জেরুসালেম নগরীর পতন ঘটে মুসলিম বাহিনীর হাতে।রোমান গভর্নর মহা আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে উমার (রা)-কে নিয়ে গেলেন নগরীর ভিতরে।
রোমান গভর্নর সুসজ্জিত বিলাসবহুল প্রাসাদে খলীফার থাকার ব্যবস্থা করলেন।হযরত উমার (রা) সবিনয়ে এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমার ভাইদের সাথে সাধারণ তাঁবুতে থাকাই আমার জন্য বেশি আরামদায়ক হবে”।ইসলামের শাসক ও নেতারা এমনই ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সাধারণের সাথে একাত্ম। আলাদা প্রাসাদ নয়, সাধারনের সাথেই তারা বাস করতেন।

শীতে কাপড়ের অভাবে কেঁপেছেন খলীফা আলী

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক।আলী (রা) জ্ঞানের দরজা। ন্যায়দন্ডের এক আপোষহীন রক্ষক তিনি।মদীনার এক শীতের রাত। শীতে ঠকঠক করে কাঁপছেন আমীরুল মুমিনীন, বিশাল এক সাম্রাজ্যের শাসক আলী (রা)। শীত নিবারণের উপযুক্ত কাপড় তার নাই। অথচ তার রাস্ট্রীয় খাজাঞ্চীখানায় প্রচুর শীতবস্ত্র। বরং সে খাজাঞ্চিখানা তারই হাতের মুঠোয়। কিন্তু তা থেকে একটি কম্বল নেয়ার জন্য তার হাত সেদিকে প্রসারিত হতে পারছে না। কারণ সেই খাজাঞ্চীখানা জনগণের। তিনি তো রক্ষক মাত্র। সবার সাথে তার নামে যেটুকু বরাদ্দ হবে, তা-ই শুধু তার। অপেক্ষা করতে হবে তাকে সেই বরাদ্দের।তারঁ আপোষহীন ন্যায়দন্ড সদা উত্থিত ছিল। মানুষের জন্য শুধু নয়, তার নিজের জন্যও। আপনি আচরি ধর্ম তিনি অপরে শিখিয়েছেন।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in অমুসলিমদের চোখে ইসলাম, আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম, উপদেশ, গল্প নয় সত্যিই. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s