জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ইসলাম গ্রহনের গুজব ছড়িয়ে লাভটা কার?!


লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

অং সান সু চি, নীল আর্মস্ট্রং, প্যারিস হিলটন, সুনিতা উইলিয়াম, উইল স্মিথ, ধোনি এবং আরো অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ইসলাম গ্রহন নিয়ে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং স্যোশাল সাইট গুলোতে পোষ্ট দেখা যায়। যখনই কেউ এসব দেখে… না জেনে, না বুঝে তা শেয়ার করা শুরু করে দেয়। সত্য মিথ্যার খোঁজও নেই না। এতে মিথ্যাবাদী হয়ে গোনাহগার তো হয়ই তার সাথে ইসলাম বিদ্বেষীদের ফাঁদে পা ফেলে কত বড় বোকামী করে তাও বুঝতে পারেনা। প্রত্যেকটা ‘শেয়ার’ ইসলামের দুশমনদের ‘জয়’ !!

অবাক হচ্ছেন তো?! অবশ্য অবাক হওয়ারই কথা। এই ব্যাপারে বলার আগে কিছু জরুরি কথা জেনে নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! যদি কোন পাপাচারী (ফাসেক) তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আঘাত না কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও’ (সুরা হুজুরাত/৬)। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘মানুষের মিথ্যা ও পাপের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই প্রচার করে’ (সহীহুল জা’মে/৪৩৫৬; ৪৩৫৮)। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে একজন মুসলিমের জন্য কিছু শুনলেই তার সত্যতা না জেনে প্রচার করা যাবেনা, গুজব ছড়ানো যাবেনা। এমনকি ‘ওরা মনে করে’, ‘ওরা বলে’ বলেও কিছু প্রচার করা যাবেনা। যেমন নবী সা. বলেন, ‘ওরা মনে করে (এই বলে কোন কথা প্রচার করা) মানুষের কত নিকৃষ্ট অসীলা!’ (সহীহুল জামে/২৮৪৩)।

এবার আসি মুল আলোচনায়, একথা নিশ্চয় জানেন যে বর্তমানে পৃথিবীতে সবথেকে বেশি বর্ধণশীল ধর্ম হল ইসলাম। ইউরোপ, আমেরিকা সহ সারা বিশ্বেই মানুষরা ইসলামকে জানছে এবং কবুল করছে। আর এটা কোন মিথ্যা প্রচার নয়। অনেক গবেষণা হয়েছে এনিয়ে। অনেক রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন, বৃটেনের সোয়ান্সী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের প্রতি আঘাত ও প্রতিঘাতের ওপর একটা ব্যাপক গবেষনা চালিয়েছে ২০১০ সালে। সেখানে দেখিয়েছে যে, নাইন ইলেভেন পর বৃটেনেই প্রায় এক লক্ষ লোক ইসলাম গ্রহন করেছে। এদের মধ্যে যুবকযুবতী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতরাই বেশী। এই রিপোর্ট আরো অনেক মূল্যবান তথ্য বের করেছে। রিপোর্টটি পড়ুন এই সাইটে http://faith-matters.org/  অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামের এই জয়কেই ইসলাম বিদ্বেষীরা মিথ্যা বলে প্রচার করতে চান। আজ যে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ লোক ইসলাম কবুল করছেন সেটাকে তারা গুজব বলে প্রমাণিত করতে চান। আর সেই জন্যই তারা মাঝে মাঝেই প্রচার করেন যে অমুক ইসলাম গ্রহন করেছেন তমুক ইসলাম গ্রহন করেছেন। আর বোকা মুসলিমরা না জেনেই তা শেয়ার করা শুরু করে। আনন্দ করা শুরু করে। কিছুদিন পর প্রমানিত হয় এসব মিথ্যা। হয়ত সেই জনপ্রিয় ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে প্রচার করা হয়েছিল তারা ইসলাম কবুল করেছেন তারাই বিবৃতি দিল এসব মিথ্যা। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? ইসলামের শত্রুরা একটা সুযোগ পেয়ে গেল এটা বলার যে সবই গুজব। সব রিপোর্ট, সব গবেষণা গুজব। ইসলাম বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। কেউ ইসলাম কবুল করছেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে, এমন প্রচার করছে যাতে সত্য গুলোকেও গুজব বানিয়ে ফেলছে। আর এটা হচ্ছে একমাত্র কিছু মুসলিমদের বোকামীতে।

তাই মুসলিম ভাইদের কাছে অনুরোধ করব ইসলামের শত্রুদের এই ফাঁদে পা দেবেন না। কোন কিছু যাঁচাই না করে প্রচার করতে গিয়ে আপনি ইসলামের সেবা তো করছেনই না বরং ইসলাম বিদ্বেষীদের হয়ে কাজ করছেন। তাদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন। একথা নিশ্চয় জানেন যে, ১৯৭৯ সালের ১৬ এপ্রিল TIME ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে মাত্র দেড়শত বছরের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে ৬০ হাজারেরও অধিক বই লেখা হয়েছে। হিসেব করলে দেখা যাবে প্রতিদিন একের অধিক বই লেখা হয়েছে। যদি ১৯৭৯ সালের আগেই তেমন হয় তবে ৯/১১ এর পর সেই সংখ্যা কত গুণ বেড়েছে তা কল্পনা করাও মুশকিল!! তারা দিনরাত লেগে আছে কোন না কোন ভাবে ইসলাম বিরোধীতায়। তাদের ফাঁদ গুলোকে চেনা আর তা থেকে সাবধান হওয়া আমাদের জন্য জরুরি।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in ইসলাম. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s