পাউরুটি কী পেলো?


লিখেছেন: রাহনুমা সিদ্দিকা

 কনক ওর আম্মুর সাথে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটাতে এসেছে। ছোটবেলায় কনক করতো কী, জানো? যা দেখতো তা-ই কিনতে চাইতো- কিছু একটা দেখলেই বায়না করা শুরু করতো-

– রাহাত ভাইয়ার দুইকাঁটাওয়ালা পেনসিল আছে- আমারও লাগবে আম্মু উঁ উঁ…

– ওটা দুইকাঁটাওয়ালা পেনসিল না, ওটাকে পেনসিল কম্পাস বলে কনক। ও দিয়ে অনেক কিছু আঁকা যায়। কিন্তু তুমি এখনও ছোট্ট, আম্মি। ওটার ধারালো কোণা আছে, দেখছো না? আঁকতে গেলে চোখে লেগে যেতে পারে। আরেকটু বড় হও, কিনে দেবো।

– না আমার লাগবে উঁ উঁ…
আবার একটু পর হয়তো একটা বারবি ঘড়ি দেখলো- আড়চোখে আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলতো- আমার গরে শুদু নীল গড়ি। গুলাপী গড়ি কত সুন্দর। রাইয়ানের বারবি গড়ি আছে, আমার বুজি থাকতে নেই? আম্মু, শুনছো?

অবশেষে আম্মু একটু রাগ রাগ গলায় বলতো-

– ক…ন…ক! এমন যদি করো- আর কোত্থাও নিয়ে যাবো না কিন্তু! যা কিছু দেখবে সব কিনতে চাইতে হয় না। তাহলে লোকজন পঁচা বলবে তোমাকে। আল্লাহও মন খারাপ করবেন। কারণ, প্রয়োজন ছাড়া অনর্থক কেনাকাটা অপচয়। অপচয়কারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন না!

এখন অবশ্য কনক বড় হয়েছে। এই নভেম্বরে ওর বয়স নয় হবে! সবকিছু বুঝতে পারে এখন। তাছাড়া ওর একটা ছোট্ট ভাই হয়েছে না? আম্মু বলেছে, কনক যা কিছু করবে সব কায়সার শিখে ফেলবে। তাই তো এখন কনক কায়সারকে দেখিয়ে দেখিয়ে দিনে তিনবার দাঁত ব্রাশ করে। আগে তো কনককে দিয়ে দাঁত ব্রাশ করানো এত কঠিন কাজ ছিলো! ঠোঁটের উপর একটুখানি দুধ লাগিয়ে বাকী দুধটা বেসিনেও ফেলে দেয় না, কারণ এইটা যে পঁচা কাজ, আম্মুকে ঠকানো- এখন কনক বুঝে গেছে। কায়সার এখনো সব কথা বোঝে না- কিন্তু কনক ভেবে রেখেছে যেদিন থেকে কায়সার কথা বুঝতে পারবে- সেদিনই ওকে বলে দিতে হবে কখনো যেন আম্মুকে না ঠকায়। তাতে আল্লাহ রাগ হবেন। যাহোক, কী যেন বলছিলাম? ও! কনক ওর আম্মুর সাথে স্টোরে এসেছে কেনাকাটা করতে। কনক ওর আম্মুকে জিজ্ঞেস করছে,

– আচ্ছা, আমরা পাউরুটি কিনলাম। স্টোরকিপার আঙ্কেলকে টাকা দিলাম। আমরা পেলাম পাউরুটি, উনি পেলেন টাকা। কিন্তু পাউরুটিটা কী পেলো আম্মু?

– হুম। চিন্তার বিষয় ত! জবাব দিচ্ছি। কিন্তু তার আগে তুমি বলতো পাউরুটি নিয়ে তুমি কী করবে?

– খাবো।

– কেন খাবে?

– মজা লাগে, এইজন্য!

– হাহা… হুম। সেটা একটা কারণ। আরো কারণ আছে ভেবে দেখ তো! আমরা কি শুধু মজা পাওয়ার জন্যই খাই?

– ভেব নি-ই। আচ্ছা, পাউরুটিটা খাবো এইজন্য যে এটা থেকে কার্বোহাইড্রেড পাবো- যা থেকে আমার শরীরের ভেতর শক্তি তৈরি হবে। সেই শক্তি দিয়ে কাজ করতে পারবো। খেলতে পারবো, পড়তে পারবো, হাঁটতে পারবো, কথা বলতে পারবো, এই তো, না?

– মাশা আল্লাহ! ঠিক তাই। তুমি খেয়ে ফেলার পর পাউরুটিটাও তোমার দেহের একটা অংশ হয়ে যাবে। পাউরুটিটা কী পাবে জানো? পাউরুটিটা আনন্দও পেতে পারে, কষ্টও পেতে পারে! তুমি যদি পাউরুটিটা খেয়ে যে শক্তি পাবে তা বাজে কাজে ব্যবহার করো- তাহলে পাউরুটিটা কষ্ট পাবে। আর যদি ভালো কাজ করো তাহলে সে আনন্দ পাবে। যদি তুমি খাবার থেকে পাওয়া শক্তি ভালো কাজে ব্যয় করো তাহলে একদিন- এই পাউরুটিটাই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বলবে- আল্লাহ কনক আমাকে খেয়ে শক্তি নিয়ে ভালো ভালো কাজ করেছে। তুমি কনককে তার পুরষ্কার দাও। আর যদি খারাপ কাজ করো তাহলে বলবে- কনক আমার থেকে শক্তি নিয়ে তা বাজে কাজে ব্যয় করেছে- তুমি ওকে শাস্তি দাও।

– পাউরুটি কথা বলতে পারবে মা?

– হুম। কারণ, এইদিন আল্লাহ যাকে চাইবেন কথা বলার শক্তি দেবেন। এটা কোন দিন তুমি জানো?

– হ্যাঁ, জানি। আমরা জান্নাতে যাবো নাকি জাহান্নামে যাবো সেটা বিচার করার দিন এটা।

আম্মু কনকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আম্মুটা যে কী! কনকের পরিপাটি চুলগুলোকে মাঝে মাঝে আদর করে একদম এলোমেলো করে দেন। কনক অবশ্য আজকে এলোমেলো চুল নিয়ে ভাবছে না। সে ভাবছে অন্য কিছু নিয়ে। এই যে, তুমি! যে এই গল্পটা পড়লে, তুমিও কি অন্যকিছু ভাবছো?

[এটা একটা শিশুতোষ গল্প। সাত থেকে দশ বছর বয়েসী শিশুদের জন্য লেখা]

 

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম ও পরিবার, উপদেশ, কচিকাচাদের জন্য, গল্প. Bookmark the permalink.

2 Responses to পাউরুটি কী পেলো?

  1. সোয়েব বলেছেন:

    আপনাদের সাইট টি অনেক ভালো .. আমি এখান থেকে লেখা কপি করি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s