ইসলামী দেওয়াল লিখন


লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

বংশ নিয়ে গর্বঃ

অনেক ব্যাপারেই এখন মানুষ জাহিলিয়াত যুগের মতো করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বংশ নিয়ে গর্ব করা। বিশেষ করে বিয়ের সম্বন্ধ করার সময় বংশকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছেলে/মেয়ে খুব ভালো, চরিত্রবান, দ্বীনি হলেও বংশ মর্যাদা না থাকায় অনেকেই সম্বন্ধ করতে চাইনা। অথবা নাম করা বংশের বখাটে ছেলে বা চরিত্রহীন মেয়েকে ঘরে তুলে। মহানবী সা. বলেন ‘যাকে তার আমল পশ্চাদ্বর্তী করেছে, তাকে তার বংশ আগ্রবর্তী করতে পারে না’ [মুসলিম/২৬৯৯, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান] রাস্তা-ঘাটে আকছাড় শুনে থাকি বংশ নিয়ে গর্বের কথা। কিন্তু বাপ-দাদার ভালো কাজ কী কোন মানুষের ভালো হওয়ার সার্টিফিকেট হতে পারে? আর হলেও এই সার্টিফিকেটের কী কোন মুল্য হবে হিসাবের দিন? আল্লাহ বলেন, ‘…তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন’ [সুরা হুজুরাত/১৩] মুত্ত্বাকী, আল্লাহ ভীরুতা, চরিত্র একটা মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি। বাপ-দাদার ভালো কাজ বা বংশ দিয়ে কখনও কাউকে বিচার করা যায়না। আর এসবে তার ভালত্ব বা খারাপত্বও নির্ভর করেনা। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাসপন্ন ব্যক্তি সে, যে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার। আর সবচেয়ে উচ্চ বংশীয় লোক সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর’।

 ❖ দয়ার নবীর যুদ্ধঃ

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা. সর্বমোট যুদ্ধ করেছিলেন ৬৩ টি মতান্তরে ৮৩ টি। আর তাতে বিরোধী পক্ষের লোক মরেছে ৭৫৯ টি। নিজেদের লোক মরেছে ২৫৯ টি। মতান্তরে বিরোধী পক্ষের লোক মরেছে ৮৩৮ টি। নিজেদের লোক মরেছে ৪২২ টি। বন্দি করেছেন ৬৫৬৬ টি। মুক্তি দিয়েছেন ৬৫৬৩ টি। প্রানদন্ড দিয়েছেন মাত্র দুটির। [মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ/ সংগ্রাম ও জিহাদ অধ্যায়]পক্ষান্তরে বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধ গুলোর কথা চিন্তা করুন তো। শুধু হিরোশিমার উপর আক্রমনেই সত্তর হাজার লোক মরেছে। রুশ-জাপান যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ার যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ভারত-পাক যুদ্ধ, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ, আফগানিস্থান যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ প্রভৃতি যুদ্ধ গুলোতে মৃত সংখ্যা কত তা কল্পনা করাও কঠিন। যদি বলেন এই যুগের আর সেই যুগের যুদ্ধের তুলনা করা সঠিক নয় তবে সেই যুগ বা তার আগের অশোক কিংবা আলেকজান্ডারের যুদ্ধ গুলোই দেখা হোক। সেখানেও দেখা যাবে যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা প্রচুর।
তায়েফের ঘটনা নিশ্চয় আমরা সকলেই জানি। আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে তায়েফে কী অত্যাচারই না সহ্য করতে হয়েছে দয়ার নবীকে। তাঁর পেছনে বাচ্চাদের লাইয়ে দেওয়া হয় এবং পাথর মারতে বলা হয়। রাসুল সা. এর সাড়া শরীর রক্তে ভরে যায়। এই ঘটনার পর যখন পর্বত নিয়ন্ত্রনকারী ফিরিস্তা মুহাম্মাদ সা. কে বলেন, – ‘হে মুহাম্মাদ! আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে যা নিশ্চয় আল্লাহ শুনেছেন। আর আমি পর্বতের ফিরিস্তা। আপনার প্রতিপালক আমাকে আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। আপনি ওদের ব্যাপারে আমাকে যা ইচ্ছা তাই নির্দেশ দিন। যদি আপনি চান যে, আমি মক্কার দুই পাহাড়কে একত্রিত করে ওদেরকে পিষে ধ্বংস করে দিই, তাহলে তাই হবে’।তখন নবী সা. বললেন, –‘না, বরং আমি এই আশা করি যে, আল্লাহ ঐ জাতির পৃষ্ঠদেশ হতে এমন বংশধর সৃষ্টি করবেন, যারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না’। [বুখারী/৩২৩১; মুসলিম/৪৭৫৪]

 ❖ উত্তম জীবন সাথীঃ

আপনি খুব ভালো কবিতা লেখেন। আপনার কবিতা পড়ে কবি মহলে আলোচনা আর প্রশংসার ঝড় ওঠে। আপনার শব্দজ্ঞান প্রশংসনীয়। কিন্তু আপনার স্ত্রী কবিতার ‘ক’ -ও বোঝেনা। তাহলে আপনার কবিতা বা কবিত্বের কিই বা মর্যাদা দেবে সে?!! যেমন গাড়ির চাকায় সাইকেলের টায়ার লাগানো যায়না বা লাগালেও তাতে কাজ হয়না ঠিক তেমনি আপনার সাথীকে আপনার মতোই দ্বীনি হওয়া জরুরি। নয়লে আপনার দ্বীন-ধর্ম, ঈমান-আমল, জান্নাত বা আল্লাহর সাক্ষাত পাওয়ার আকাঙ্খা তার কাছে কোন ভ্যালু পাবেনা।

এমন ছেলে/মেয়েকেই বিয়ে করুন যে আপনার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। এটাই শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। এমন ছেলে/মেয়েকে বিয়ে করবেন না যে আপনাকে টেনে জাহান্নাম নিয়ে যাবে। মহানবী সা. বলেন, ‘যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদেরকে মুগ্ধ করে তার সহিত (তোমাদের ছেলে কিংবা মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না করো তবে পৃথিবীতে বড় ফিতনা ও মস্ত ফ্যাসাদ, বিঘ্ন ও অশান্তি সৃষ্টি হবে’ [ইবনে মাজাহ/১৯৬৭]

 ❖ আল্লাহর উপর ভরসাঃ

ছোটবেলাটা বেশীর ভাগ লোকেরই খুব সুন্দর কাটে। মানুষের কাছে স্বরণীয় হয়ে থাকে তার ছেলেবেলা, শৈশব। এর কারণ কী? নিশ্চয় একেক জন একেক রকম বলবে। সকলে তো একই জিনিস থেকে আনন্দ খুজে পাবেনা। সকলেরই নিজের নিজের ভালোলাগা, পছন্দ-অপছন্দ আছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে সবাই একমত হবেন, সেটা হল ছোটবেলাটা দুশ্চিন্তাহীন কাটে। যেকোন ব্যাপারেই আমাদের ভরসা থাকে বাবা-মা তো আছেই চিন্তা কিসের। সেটা পকেট খরচ হোক, অসুস্থতা হোক, কারও সাথে ঝগড়া হোক বা অন্য কিছু…। বাবা-মার উপর সকল দায়িত্ব থাকে বলেই হয়ত দুশ্চিন্তাহীন থাকা যায়। এই যে ভরসা বা মাথার উপর হাত থাকা… এটার যে কী আনন্দ তা আমরা ছোটবেলায় নিশ্চয় পেয়েছি। আর সেটার আজ অভাববোধও করছি খুব। ঠিক এই আনন্দ পাওয়া সম্ভব যদি আল্লাহর উপর আমরা পুরোপুরিভাবে ভরসা করতে পারি এবং তাঁকে অবিভাবক রুপে গ্রহন করতে পারি। যেকোন কাজ, স্বাস্থ্য, বিপদ, ভয়ে যদি আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস করি যে তিনি তো আছেনই, সব ঠিক করে দেবেন তাহলে দুশ্চিন্তাহীনভাবে সেই ছোটবেলার মতোই মজা নেওয়া সম্ভব।

মহান আল্লাহ বলেন,

☀ ‘আর তোমরা যদি মুমিন হও, তাহলে আল্লাহরই উপর ভরসা করো’। [সুরা মাইদাহ/২৩]

☀ ‘আর মুমিনদের উচিত, আল্লাহর প্রতিই নির্ভর করা’। [সুরা আলে ইমরান/১২২]

 ❖ কন্যা ভ্রুণ হত্যাঃ

– ‘এখনই বাচ্চা নিতে চাইছিনা’

– ‘প্রথম বাচ্চা তো সবে দের বছর হল..’

– ‘খাওয়াবো কী? থাকবে কোথায়?

– ‘শুধু খাওয়ালেই হয়না, মানুষও করতে হবে’

– ‘মেয়ের বিয়ে দেওয়ার মত টাকা কোথায় পাবো’

এরকম হাজারও বাহানায় ভ্রুণ হত্যা করা সমাজে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী উদ্যোগে প্রকাশ্যে এসব হচ্ছেনা বটে কিন্তু গোপনে এই একবিংশ শতাব্দীতেও এই জঘন্য কাজ হয়েই চলেছে। মানুষ দিনের পর দিন ফিরে যাচ্ছে সেই জাহিলিয়াত যুগে যে যুগ থেকে ইসলাম পৃথিবীকে মুক্ত করেছিল। জাহিলিয়াত যুগে কন্যা সন্তানকে বালুতে পুঁতে ফেলা হতো, প্রাচীন ভারতে কন্যা সন্তান জন্মালে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে বলা হতো, ‘তুমি যাও এবং তোমার ভাইকে পাঠিয়ে দাও’। আজও সেই লজ্জাজনক কাজ হয়ে চলেছে। তফাত এইটুকু যে এখন বালুতে পুঁতে না, নদীতে ভাসায় না.. এখন ডাসবিন, নোংরা জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কন্যা সন্তান জন্মালে দুঃখী হওয়া, অপছন্দ করা বা হত্যা জাহেলী যুগের আচরণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা দারিদ্র-ভয়ে হত্যা করো না, আমিই তাদেরকে জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ’। [বানী ইস্রাইল/৩১] তিনি আরো বলেন, ‘তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয় (কন্যা সন্তান জন্মের ব্যাপারে), তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে, সে চিন্তা করে যে, হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে না মাটিতে পুঁতে দেবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কতই না নিকৃষ্ট’ [সুরা নাহল/৫৯] বাঁচার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। এটা আল্লাহর দেওয়া অধিকার। এই অধিকার বাচ্চা-বড়র আলাদা নয়। নিশ্চয় ভ্রুণ হত্যা করাও খুন। পুত্র-কন্যা যেই ভ্রুণ’ই হোক। এই হত্যার হিসাব দুনিয়াতে না হলেও, সেই কন্যা দুনিয়াতে বিচার না পেলেও মহান আল্লাহর কাছে অবশ্যই পাবে। আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন জীবন্ত-প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’… [সুরা তাকফির/৮-৯]

দু‘আই তো ইবাদতঃ

‘দু’আই তো ইবাদত’ [আবু দাউদ, তিরমীযি ৫/২১১] দু’আ হল বিশ্বাসীদের শক্তিশালী অস্ত্র। দু’আর মহত্ম এবং ক্ষমতা সম্পর্কে জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, দু’আ ভাগ্য বা তাকদ্বীর পরিবর্তন করতে পারে। আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং তাঁরই উপর ভরসা করা, তাঁকে অভিভাবক মনে করা বিশ্বাসীদের বিশেষ গুণ। আল্লাহ নিজেই বলেছেন তাঁর কাছে চাইতে (দেখুন, সুরা গাফের/৬০ এবং সুরা বাক্বারাহ /১৮৬)। ‘যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার ইউপর ক্রোধান্বিত হোন’ [তিরমীযি, ইবনে মাজাহ ২/১২৫৮] আমাদের জীবনটা হল পরীক্ষা। আল্লাহ দুঃখ-কষ্ট, জান ও মালের ক্ষতি, ফসলের ক্ষতি, ব্যবসায় ক্ষতি, সম্পত্তি, স্ত্রী, সন্তান ইত্যাদির মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। যাতে বোঝা যায় কারা বিশ্বাসী, ধৈর্যশীল, পরহেযগার, আল্লাহ ভীরু। মহান আল্লাহ বলেন,’…আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার মাধ্যমে…’ [সুরা মায়েদা/৪৮] তিনি আরো বলেন, ‘এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে…’ [সুরা বাক্বারাহ/১৫৫]

এরকম অবস্থায় কষ্ট, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, বেকারত্ব, সম্পত্তিতে ক্ষতি, রোগ ব্যাধি, কবর আযাব, জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাইতে অবশ্যই সবাইকে দু’আ করা উচিত। নামাজের সময় তো আমরা অনেক দু’আ করিই। অনান্য সময়ও আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিত, আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। আমাদের যদি দুঃখ দুশ্চিন্তা করার সময় থাকে, কান্নাকাটি করার সময় থাকে, মনমরা হয়ে বসে থাকার সময় থাকে তবে আল্লাহর কাছে দু’আ করার সময় থাকবে না কেন?!!!!!!!

 ❖ সহজ জীবনব্যবস্থাঃ

আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনিই ভালো জানেন কিভাবে আমাদের চলা উচিত। কিভাবে চললে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবনা। বিপদে পড়ব না। নিজেদের প্রতি অত্যাচার করব না। তাই তিনি যুগে যুগে মানুষের কাছে তাঁর বাণী পৌছে দিয়েছেন এবং সতর্ককারীদের (নবী বা দূতদের) পাঠিয়েছেন। অনেকেই সতর্ক হয়েছেন অনেকেই কোন কেয়ার’ই করেননি। যেমন, আজকের যুগেও মানুষদের বেশিরভাগই সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বেখবর, উদাসীন, এনিয়ে কোন চিন্তা নেই। আল্লাহর মনোনিত ‘জীবন ব্যবস্থা’, আদেশ নির্দেশ আসলে আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য। আমাদের হালকা করার জন্য। আমরা ভুল করে অকারণ যুলুম যেন নিজেদের না করি, তাই আমাদেরকে কিছু নির্দেশ ও আদেশ দেয়া রয়েছে। নিঃসন্দেহে তা আমাদের জন্য কল্যাণের। যাতে আপনার ভালো থাকি। কিন্তু এইসব নির্দেশ না মেনে আমরা নিজেদের সাথে জুলুম করে চলি। ঝামেলায় পড়ি, অত্যাচারিত হই, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অবসাদে ভুগি, অশান্তিতে থাকি ইত্যাদি…।

বিয়ের আগে প্রেম বা বিবাহ বহির্ভুত যৌনাচার, সূদ, অবৈধ ব্যবসা, নেশা, পর্দাহীনতা, মাহরাম-গায়ের মাহরাম না মানা, অশ্লীলতা-নোংরামী, জুয়া, প্রতিশ্রুতি পালন না করা, চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা, ওজনে কম দেওয়া, প্রতারণা, ধোঁকাবাজি ইত্যাদি অবৈধ কাজ করে মানুষ কী সুখী হতে পেরেছে?!! অবশ্যই না। আল্লাহর হুকুমের খিলাফ করে কেউ সুখী হতে পারে না। ক্ষনস্থায়ী অল্প সুখ তার জীবনকে দুঃখে ভরিয়ে তুলতে পারে। যেমন এইচ.আই.ভি রোগীর সাথে সেক্স করে অল্পক্ষন হয়ত কেউ মজা পাবে কিন্তু তার অল্প মজা সারা জীবনের জন্য ‘সজা’ হয়ে দাঁড়াবে।

আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না’ [সুরা মাইদাহ/৬] ✦ ‘তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিনতা আরোপ করেননি’ [সুরা হাজ্জ/৭৮] ✦ ‘আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান। আর মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দূর্বল’ [সুরা নিসা/২৮] ✦ ‘আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিনতা তাঁর কাম্য নয়’ [সুরা বাক্বারাহ/১৮৫]

তাই, আসুন আমরা আল্লাহর মনোনিত দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা মেনে চলি। ভুল করে হলেও এমন কাজ না করি যা আমাদের অমূল্য সম্পদ-শরীর ও মনের পবিত্রতাকে নষ্ট করবে। যা করে আমাদের পরে পস্তাতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র জীবন দান করুন। আমিন।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in অধিকারীর অধিকার, উপদেশ, ফেসবুক স্টেটাস, শিক্ষা/ইলম, সমসাময়িক, সুখী জীবন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s