ফেসবুক স্টেটাস ২


লিখেছেন | শেখ ফরিদ আলম

❖ ধর্ষন বা ইভ টিজ রুখার জন্য ইসলাম শুধু নারীদের পর্দার কথাই বলেনা। আর ইসলাম অনেক মতবাদের মতো শুধু সমস্যা বলে যায়না তার সাথে সমাধানের কথাও বলে, আর সেসব ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলে। ধর্ষন বা ইভ টিজ বা ব্যভিচার রুখার জন্য ইসলাম বলে –

ক. পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে। নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। লজ্জাস্থানের হেফাজাত অর্থাৎ স্ত্রী ব্যতিত অন্যের সাথে যৌন সম্বন্ধ রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। [দ্রঃ সুরা নুর/৩০ আয়াত]
খ. নারীদের হিযাব বা শরীর ঢাকা পোষাক পড়তে বলা হয়েছে। আর এমন টাইট বা চাকচমকপূর্ণ পোষাক পড়তেও নিষেধ করা হয়েছে যা অন্যদের আকর্ষন করে। [দ্রঃ সুরা নুর/৩১ আয়াত]
গ. নারীদের একা ঘর থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাবা, ভাই বা মাহরাম কাউকে সাথে নিয়ে বাইরে যেতে বলা হয়েছে।
ঘ. যারা বিশ্বাসী তারা তো এসব মানবে কিন্তু যারা মানবে না এবং ধর্ষন করবে বা ইভ টিজ করবে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। যেমন ধর্ষন করলে মৃত্যুদন্ড দিবে।

এভাবে পুরুষ নারী এবং সরকারের সহযোগিতায় একটা সুসভ্য সমাজ তৈরি হবে। যেখানে না ধর্ষন হবে না ইভ টিজ। হলেও তা খুবই সামান্য পরিমাণে। এরকম ব্যবস্থা না নিয়ে কোন মতেই, কোন ভাবেই ধর্ষন বা শ্লীলতাহানী রুখা সম্ভব নয়। যেমন কড়া আইন করেও কি ভারতে ধর্ষন বন্ধ হয়েছে? বরং একটা রিপোর্ট মতে ধর্ষন ডবল হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাই আল্লাহই ভালো জানেন আমাদের জন্য কোনটা ভালো। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি ওরা অজ্ঞ যুগের বিচার ব্যবস্থা কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর উত্তম মীমাংসাদাতা (বিধানকর্তা) আছে? [সুরা মাইদাহ/৫০]

 

❖ যখন আপনি শিশু তখন কেমন নাচতে আর গান গাইতে পারেন তার উপর নির্ভর করবে আপনি ভালো ছেলে নাকি খারাপ। যখন ছাত্র তখন পড়াশোনার উপর নির্ভর করবে। যখন যুবক তখন কত কামাচ্ছেন তার উপর। যখন বিবাহিত তখন বউকে কত গয়না আর শাড়ি কনে দিচ্ছেন তার উপর। যখন বাবা তখন ছেলেদের কত বড় স্কুলে পড়াচ্ছেন তার উপর আর যখন বৃদ্ধ তখন ছেলে-মেয়ের প্রতিষ্ঠার উপর নির্ভর করবে আপনি ভালো মানুষ নাকি খারাপ। কিন্তু কখনোই আপনার চরিত্র আর ব্যাবহারের উপর আপনার ভালত্ব বা খারাপত্ব নির্ভর করবে না। হায়রে সমাজ !!

❖ ইসলামে অশুভ বা কুলক্ষণ বলে কিছু নেই। রবিবার বাঁশ কাটতে নেই, পরীক্ষা দিতে গেলে ডিম খেতে নেই, কুকুরের কান্না বা কাকের কাঁ কাঁ মানে খারাপ কিছু হবে এসব মানা ইসলামে হারাম। মুসলিমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন এবং একথা মানেন যে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত ভালো মন্দ কিছুই হয়না।

আল্লাহ বলেন – ‘.. যদি আল্লাহ তোমাকে ক্লেশ দান করেন, তবে তিনি ব্যতিত আর কেউ তার মোচনকারী নেই। আর যদি তোমাকে কল্যান দান করেন তবে তিনিই তো সর্ববিষয়ে শক্তিমান’ [সুরা আন’আম/১৭]

আর মুমিন আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপর ভরসা রাখবেই বা কেন? তিনি ছাড়া আর কেউ আছে কি, যে মুসিবাত দূর করতে পারে? বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে? রুযী দিতে পারে? শত্রু থেকে বাঁচাতে পারে?

❖ দেবরকে হাদীসে ভাবির জন্য মৃত্যুসম বলা হয়েছে। আর শালীও নিশ্চয় মৃত্যুসমান। দেবর-ভাবি, জিজা-শালী এই দুই সম্পর্কের মধ্যে যত অশ্লীল কাজ ও ব্যভিচার হয় তা অন্য কিছুতেই হয়না। সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হল এসবকে কেউ খারাপ চোখেও দেখেনা। দেবর যদি ভাবিকে বাজার নিয়ে যায় বা বাপের বাড়ি রাখতে যায় অথবা দুলহাভাই ভাই শালীকে মেলা নিয়ে যায়, বাড়ি রাখতে চাই এমনকি সিনেমা দেখতে গেলেও খুব কম বাড়িতেই আপত্তি করে। এটা যেন খুবই স্বাভাবীক ব্যাপার আর এসব দুলহাভাই, দেবরের অধিকার!!

‘…প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক, অশ্লীল আচরণের নিকটবর্তী হয়ো না….’ [সুরা আন’আম/১৫১]

 নবী সা. বলেন – ‘খবরদার! তোমরা (গায়ের মাহারেম) নারীদের নিকট যাতায়াত করো না’। আনসারদের এক ব্যক্তি বলল, ‘(স্বামীর আত্মীয়) দেবর* সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? (সেও কি ভাবির নিকট যাতায়াত করতে পারবে না?) তিনি বললেন, ‘দেবর তো মৃত্যু স্বরুপ!’ [বুখারী ৯/৩৩০]

❖ এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে যে ‘ওয়ান’ থেকে বি.এ বা আরো উচ্চ শিক্ষা মানে ১৫-২০ বছর দিন-রাত বই পড়েও, মুখস্থ করেও, সময় দেওয়ার পরও অনেকে একবার কুর’আন পড়ার সময় বের করতে পারেনা!!

এইসব লোক কেমন মুসলিম যারা প্রতিদিন মোবাইলের ইনবক্স বা ফেসবুকে নোটিফিকেশান চেক করে কেউ মেসেজ করেছে কিনা কিন্তু আল্লাহ আমাদের জন্য কি মেসেজ করেছেন তা একবারও পড়ল না!!

পরকালে এবং অনেক সময় দুনিয়াতেও ১৫-২০ বছর ধরে নেওয়া পূথিগত শিক্ষা কোন কাজে দিবেনা। এমন শিক্ষাই গ্রহন করা উচিত, এমন জ্ঞানই সংগ্রহ করা উচিত যা আমাদের দুনিয়া ও পরকালে সাহায্যে আসবে।

আল্লাহ বলেন – ‘আমি এ কল্যানময় গ্রন্থ তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ গ্রহন করে উপদেশ’ [সুরা স্বাদ/২৯]

মহানবী সা. বলেন – ‘তোমরা কুর’আন পাঠ কর। কেননা, তা কিয়ামাতের দিন তার পাঠকারীরদের জন্য সুপারিশকারীরুপে উপস্থিত হবে’ [মুসলিম/৮০৪]

 ❖ মেয়েদের পর্দা করা মানে এই নয় যে বোরখা পড়া। বোরখা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ভালো হিজাবী পোষাক। কিন্তু মনে রাখা দরকার, রাসুল সা. এর যুগে বোরখা বলে কোন পোষাক ছিলনা। বোরখার আবিস্কার হয়েছে অনেক অনেক পড়ে দর্জিদের হাতে। তাই একজন সাধারণ মুসলিমাকে (যে পর্দা করতে চাইনা) সরাসরী বোরখা পড়তে না বলে যদি বলা হয় শরীর ঢাকা, ঢিলেঢালা পোষাক পড়ো, ওরনা দিয়ে মাথা এবং বুক ঢেকে রাখো তাতে সে খুব বেশি আপত্তি করবে না। আর রাসুল সা. …কে যখন দুটি কাজের মধ্যে স্বাধীনতা দেওয়া হতো তখন তিনি সহজ কাজটি গ্রহন করতেন  যদি সেই কাজটি গর্হিত না হতো’ (বুখারী, মুসলিম)। আর এই ধরণের হাদীস অনেক আছে যে, ‘তোমাদের সহজ নীতি অবলম্বনের জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোর নীতি অবলম্বনের জন্য পাঠানো হয়নি’ (বুখার)। তাই মশা মারতে কামান দাগা নয়, হিকমত ও মধ্যমপন্থা ব্যবহার করা উচিত। রাসুল সা. বলেছেন, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ করো না। পরস্পরে মেনে মানিয়ে চলো, মতো বিরোধ করো না’ (বুখারী)। তিনি আরো বলেছেন, ‘নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যেব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে তার উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাকো এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো…..(বুখারী)

❖ বর্তমানে মুসলিমদের ইস’লাহ বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাঁধা আসে দাদুপন্থী আর অন্ধভক্তদের কাছ থেকে। তাদের সবথেকে বড় দলিল হল বাপ-দাদা। অথচ ইসলামে বাপ-দাদা কোন দলিল নয়। এদের অবস্থা তাদের মতোই যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছে –

‘যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার প্রতি ও রসুলের প্রতি তোমরা অগ্রসর হও তখন তারা বলে ‘আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যাতে পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট’। যদিও তাদের বাপ-দাদাগণ কিছুই জানত না ও সৎপথপ্রাপ্ত ছিলনা তথাপিও’ [সুরা মায়েদা/১০৪]

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in উপদেশ, ফেসবুক স্টেটাস. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s