পাঠ্য বইয়ের অপাঠ্য ইতিহাস


ভারতের পাঠ্য বই গুলোতে ইতিহাস এমন ভাবে লেখা হয়েছে যেন স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের কোন অবদানই নেই। এবং মুসলিম সম্রাট, বাদশা, নবাবরা ছিল হিন্দু বিদ্বষী অত্যাচারী। ফলে ছোট থেকেই মুসলিমদের আপন করে নিতে কিংবা সহজভাবে নিতে পারেনা অনেকেই। ছোট থেকেই মনে বিষ ঢুকে যায়। তাই সঠিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠেও না। বারে বারে বাঁধে দাঙ্গা। দুই জন মুসলিম আর চার জন হিন্দুর লড়াইকে দাঙ্গা বলেনা। যখন বেশির ভাগ হিন্দু মুসলিমদের মারতে চাই এবং বেশির ভাগ মুসলিম হিন্দুদের মারতে চাই বা মারে তখনই সেটাকে দাঙ্গা বলা যাবে। আর এটা একদিনে হয়না, হওয়া সম্ভবও নয়। অনেক দিন ধরে বিষ জমা হয়ে হয়েই একদিন দাঙ্গার রুপ নেই। যাইহোক, আমি মনে করি পাঠ্য বইয়ে সঠিক ইতিহাস পড়ানো হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মজবুত ভাবেই গড়ে উঠবে। এমন একটা সমাজ তৈরি হবে যেখানে দাঙ্গা বলে কিছু থাকবে না। কিছু ঐতিহাসিকদের উদ্ধৃতি দিলাম –

✦ মনীষী রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ভারতবর্ষের যে ইতিহাস আমরা পড়ি এবং মুখস্থ করে পরীক্ষা দেই, তা ভারতবর্ষের ইতিহাসের এক দুঃস্বপ্নের কাহীনি মাত্র’।

✦ শ্রী মজুমদার বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক কালে সরকারী নির্দেশমত সত্যকে এবং ইতিহাস রচনাশৈলির মৌল নীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে ইতিহাস রচনার প্রয়াসকে সমর্থন করা যায়না’।

✦ ঐতিহাসিক সখারাম গণেশ দেউস্কর বলেছেন – ‘ইংরেজ ঐতিহাসিকরা হিন্দু ছাত্রদিগের হৃদয়ে মুসলমান বিদ্বেষানল প্রজ্বলিত রাখিবার জন্য বিশেষ যত্ন সহকারে চেষ্টা করিয়াছেন। পরিতাপের বিষয় কোন কোন অদুরদর্শী হিন্দু লেককগণ কাব্য-নাটিকাদিতে মুসলমান ভ্রাতাদিগের প্রতি অনর্থক মিথ্যাবাদ করিয়া ইংরেজদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির বিষয়ে সহায়তা করিতেছেন’।

✦ ইতিহাস তপস্বী আক্ষয় কুমার মৈত্রেয় বলেন – ‘আমাদের স্কুল কলেজে ছাত্রদের যেসব ভ্রম প্রমাদপূর্ণ ইতিহাস শেখানো হয় তার চরম ফল আত্মাবমাননা’।

✦ গোলাম রাব্বানী সাহেব লিখেছেন – ‘ইংরেজরা বুঝিয়াছিলেন ভারতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ই প্রধান জাতি। ইহারা সদ্ভাবে সম্মিলিত হইয়া থাকিলে ইংরেজদের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হইবে। অতএব যাহাতে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সর্বদা মনোমালিন্য, ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিষাদ, বিচ্ছেদ লাগিয়া থাকে এই দুরভিসন্ধির বশে থারা Divide and Rule এই ভেদনীতি অবলম্বন করেন। ইংরেজরা ভারতের স্কুল, কলেজে মুসলিম বিদ্বেষমুলক শিক্ষানীতি প্রবর্তন করেন’।

জানিনা ইংরেজদের লেখা ইতিহাসকে ফেলে কবে আমাদের স্কুল কলেজে সত্য ইতিহাস পড়ানো হবে। তবে আশার প্রদিপ নিভেনি। অনেক ঐতিহাসিক, সমাজসেবী, লেখকরা এই দাবি করছেন। নিজেরা সত্যটা তুলে ধরছেন। ভারতের জাতিয় প্রবাদ ‘সত্যমেব জয়তে’। যেদিন স্কুল কলেজে সঠিক ইতিহাস পড়ানো হবে সেই দিনই এই প্রবাদের সঠিক সন্মান দেওয়া হবে।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আলোচনা, চেপে রাখা ইতিহাস. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s