আমরা ধর্ষণ চাইনা, কিন্তু ধর্ষক বানাই !


লিখেছেন –  জিম তানভীর

১।

একটা মেয়েকে একটা ছেলে অশালীন কাপড় পরার জন্য ধর্ষণ করেছে নাকি করে নাই –এটা আমার কাছে খুবই অস্বস্তিকর একটা “shallow” আলোচনা মনে হয়েছে। যদি বলা হয়, অশালীন পোষাকই দায়ী, তাহলে ধর্ষক কিছুটা জাস্টিফিকেশন পেয়ে যায়। আবার যদি বলা হয়, “অশালীন পোষাক দায়ী নয়”, সেক্ষেত্রেও মনে হওয়ার কথা, “মানুষ কি ধ্বজ নাকি?”।

মানুষের মধ্যে পশুবৃত্তি আছে বলে সে ধর্ষণ করে- এই উত্তরটাকে আমার কাছে যথার্থ এবং যথেষ্ট মনে হয় না, খুবই ভাসাভাসা কথা, কথাটার মাঝে চিন্তাভাবনার অভাব আছে। যদি তাই হত, তাহলে এই একুশ শতকে হঠাৎ করে পুরো বিশ্বে পশুর সংখ্যা বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে কোন কারণ ছাড়া কেন বেড়ে গেল- এটা বোঝা বড়ই দায়। বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা অবশ্য ব্যাপারটা কে অন্যভাবে দেখছে। তারা বলে মানুষ হল অন্য পশুর মতই পশু, যার বিবর্তনটা একটু বেশি হয়েছে, এই। “ধর্ষন একটা ন্যাচারাল ব্যাপার”- এই কথাটা সর্বপ্রথম প্রচার করে বিবর্তনবাদীরা, যেটা আসলে ধর্ষককে চুপেসারে একধরণের ধর্ষণের লাইসেন্সই দেয় ! মন বলে তো কিছু নেই, সবই DNA এর খেলা !

DNA তে নাকি ধর্ষণের জিন ছিল, ধর্ষকের কি করা !

২।

আচ্ছা আমরা কি চিন্তা করেছি মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কি ? অবশ্যই এটা লেজ নয়, পার্থক্যটা হল মানুষ চিন্তা(thinking) করতে পারে, তার মন(mind) আছে, পশু চিন্তা করতে পারে না, কারণ তার মন নাই। আর মিলটা হল, মানুষ এবং পশু উভয়ের কিছু প্রবৃত্তি(instinct) আছে, যেমন- survival instinct, procreation বা sexual instinct) ইত্যাদি।

যদিও সব মানুষের ইন্সটিংট গুলো এক, তবু কেন মানুষ একই পরিবেশে ভিন্ন আচরণ করে? এর কারণ হল, ঐ প্রবৃত্তির উপর তার দৃষ্টিভঙ্গি, যেটা আসে চিন্তা(thought) থেকে উৎসরিত কোন কনসেপ্ট বা জীবনদর্শন থেকে। যেমন পশ্চিমা সমাজ মানুষের সেক্সুয়াল ইন্সটিংটকে দেখে এক্সক্লুসিভলি সেক্সুয়াল লেন্স থেকে, তাই তার ফোকাসিং পয়েন্ট হল সেক্স। আবার ইসলাম পুরো ব্যাপারটাকে দেখে প্রজাতি রক্ষা এবং মানসিক প্রশান্তির লেন্স থেকে, তাই তার ফোকাসিং পয়েন্ট হল বিয়ে। এজন্য পশ্চিমা দেশগুলোতে যত প্রকার সেক্স থাকা সম্ভব তার সবই বিদ্যমান, মুসলিমদের মধ্যে এতটা নয়।

সেক্সুয়াল ইন্সটিংট স্যাটিসফ্যাকশন খুজবে তখনই যখন তাকে বাহ্যিকভাবে উত্তেজিত (external stimulation) করা হয়, তা না হলে নয়। স্যাটিসফ্যাকশন না হলে একটা মানুষ অস্বস্তি এবং টেনশন বোধ করবে, মারা যাবে না, তবে স্যাটিসফাই করার পথ খুজতে থাকবে। পশ্চিমা সমাজে আমরা দেখি এই ধরণের যৌনতা উদ্দীপক জিনিষের ব্যাপক ছড়াছড়ি। সেটা রাস্তার বিলবোর্ড থেকে শুরু করে লাস ভেগাসের বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের গল্পে-কবিতা-সাহিত্য-মুভিতে অবাধ যৌনতার বিশাল সমারোহ। যেমন একনের একটা গান আছে।

“I wanna fuck you”।

তার আরেকটা গান আছে,

“I had just sex”.

আর শিলার যৌবন তো আছেই ! আছে স্পার্টাকাস।

৩।

নারী পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কটা তাই আমাদের সমাজে অনেক হালকা হয়ে গেছে। যেমন ধরেন, আমরা ছেলেরা আসলে মেয়েদেরকে কিভাবে দেখি ? একটা সুন্দর মেয়ে দেখলে আমরা বলি, “দেখ দেখ ! সেরম একটা মাল”। একটা মেয়েকে আমরা দেখি আর হিসেব করতে থাকি সে কি ৩৬-২৪-৩৬ ?

আমরা দেখি পর্ণোগ্রাফি, দেখি আর নিজেদের সেখানে কল্পনা করি, যেখানে মেয়েদের কাজ শুধুই “সুখ” দেওয়া। সে এক মজার জিনিষ, নারী হল সেখানে “ভোগ্যপণ্য”। আমরা দেখি শরীরসর্বস্ব সারিকা আর শখদেরকে, বিএমডব্লিউ এর বিজ্ঞাপন দেখে আমরা আবিষ্কার করি মেয়েরা হল “বিপনণপণ্য”, তাদেরকে কয়টা টাকা দিলেই তারা শরীর দেখায়। রাতের বেলা আমরা ফ্যাশন চ্যানেলগুলো দেখি, আর আমাদের মন অজান্তেই বুঝে ফেলে, মেয়ে মানেই শরীর, সেক্স আর সেক্স। পপ গানের জঘন্য মিউজিক ভিডিওগুলোতে শরীরের ঢলাঢলি দেখে আমরা জানতে পারি, নারী হল “সেক্স সিম্বল”।

বাস্তব জগতে আমরা আমাদের পাশের বাসার মেয়েটিকে দেখি তার আকর্ষনীয় দেহটাকে ফোকাস করে ঘুরে বেড়া্তে। আচ্ছা, সে চায়টা কি ? আমি দেখব আর সে দেখাতে চায়, তাই তো ! নাকি আবার অন্য কিছু আছে এটার মধ্যে! আমরা দেখি, আর সবাইকে ডেকে দেখাই, সেও খুশি হয়, তাই না? আর আমাদেরকে তো কে যেন শিখিয়েই দিয়েছে, “চুমকী চলেছে একা পথে”, তার সঙ্গী হতে চাওয়াটা মোটেও দোষের কিছু না।

নকশা আমাদেরকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করিয়ে দেয় ঠিক কতটুকু চিপা জিন্স হলে একটা মেয়েকে সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী দেখাবে। তারা আমাদেরকে শিখিয়ে দেয় ওড়না পরে নিজের শরীর ঢেকে রাখার কোন প্রয়োজন নেই, কারণ, সে বিশ্বাস করে, “নারী, মূল্য তোমার শরীরে, মূল্য তোমার শরীরের কুঞ্চনে !” মম আর বিন্দুদের দিকে তাকিয়ে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে জনৈক বুদ্ধিজীবি বলেন, “তোমার মধ্যে যৌবনের ভারি অভাব”, আর মেয়েটি তাতে মন খারাপ করে নিজেকে আরও যৌবনা হয়ে পুরূষের চোখে সুশোভিত হয়ে ধরা দিতে চায়।

কটা মেয়েকে বিচার করা হয় তার শরীর দিয়ে, তার ব্রা সাইজে, তার শরীরের বক্রতা আর বন্ধুরতা দিয়ে। আমেরিকান পাই থেকে আমরা শিখতে শুরু করি স্কুল লাইফের আগেই একটা মেয়েকে ধরে সবকিছু করে ফেলতে হবে, নয়তো আমরা “ব্যাকডেটেড”। আমরা দেখি টারজানকে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়াতে, দেখি সিন্ডারেলাকে রাত-বিরাতে পার্টিতে যেতে।

আমরা যে আসলে কি শিখে বড় হই সেটা বোঝার জন্য ব্রিটনি স্পিয়ার্সের একটা গানের লিরিকও দেখতে পারেন। (পশুরা যদি কথা বলতে তাহলে সে এই কথাগুলোই লিখত আমি নিশ্চিত)

I know I may be young But I’ve got feelings too And I need to do what I feel like doing So let me go and just listen … Get it-get it, get it-get it, what? (This feels good) … I’m a slave for you I can not hold it, I can not control it I’m a slave for you I won’t deny it, I’m not trying to hide it … Baby, don’t you want to dance up on me? (I just want to dance next to you) To another time and place Oh baby, don’t you want to dance up on me? … Let’s go Like that Do you like it? Yeah? Now watch me!

ছেলেরা যখন মেয়েদেরকে “slave” হিসেবে দেখতে শেখে তখন মেয়েরা শেখে শিলা হতে হবে, তাতে যৌবনজ্বালায় বিকারগ্রস্ত ছেলেদের চড়কির মত ঘোড়ানো যাবে। তারা শেখে পার্লারে গিয়ে কি সব পেডিকিউর মেনিকিউর না করলে নাকি স্ট্যাটাস থাকে না। তারা শেখে বড় মডেল কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য নিজের চরিত্রকে ফটোগ্রাফার কিংবা প্রডিউসারের কাছে নিজের চরিত্র বিকিয়ে দেয়া দোষের কিছু না। তারা সানন্দা টাইপের ম্যাগাজিনগুলো বিমুগ্ধ নয়নে পড়তে থাকে আর বুঝে ফেলে শরীর দেখিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার মূলমন্ত্র। তারা হিন্দী সিরিয়াল দেখে আবিষ্কার করে নিজেকে সাজিয়ে রাখা হল স্মার্ট মেয়েদের কাজ !

এই যদি আমরা শিখি, আমরা কিভাবে আশা করতে পারি একটা ছেলে একটা মেয়েকে সম্মান করবে? সম্মান অর্জন করা যায় শরীর দেখিয়ে? সৌন্দর্য দিয়ে ? সেক্সি মেয়ে দেখলে আমাদের চোখ বিনয়ে নুয়ে পড়ে নাকি কি যেন খুজে বেড়ায় ? একটা মেয়ে কি গায়ের উপর থেকে ওড়না ফেলে দিয়ে আশা করে তার দাম বাড়বে ? আজকে যে ছেলেটা জন্ম নিয়েছে সে শরীর নাচিয়ে কুদিয়ে বেড়ানো মিলার মিউজিক ভিডিও দেখে কি ভাববে সেটা কি আমরা চিন্তা করেছি ???

এরকম সেক্সুয়ালি স্টিমুলেটেড সমাজেই গড়ে ওঠে পরিমলরা, তাদের ক্রাইটেরিয়া হয় শরীর, তাদের উদ্দেশ্য হয় ভোগ, তাই তাদের সামনে যখন এসে পড়ে কোন ছাত্রী, তাদের ড্রেসআপ শালীন হোক আর অশালীন হোক, তার মাথা চাড়া দেয় জন্মের পর থেকে তার চারপাশ থেকেই শিখে আসা নোংরামিগুলো। পরিমলের মনের এই নোংরামি সে মূহুর্তে সৃষ্টি হয় নি, এটা বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ মূহুর্তে শিখে আসা অনেকগুলো ঘটনা থেকে গড়ে ওঠা দৃষ্টিভঙ্গির ফলাফল, সে ছাত্রী হয়ত শুধু এইসবে সামান্য নাড়া দিয়েছে, পরিমলের চিন্তা নষ্ট হয়েছে বহু আগেই, এই সমাজেরই হাতে।

৪।

এই সমাজ এভাবে নারী হয়রানির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে থাকে। ধর্মনিরপেক্ষ-উদার (secular-liberal) সমাজব্যবস্থার মৌলিক চেতনা ব্যাক্তিস্বাধীনতা এই সবকিছুর জন্য লাইসেন্স। আপনাকে পর্ণগ্রাফি বানানোর অধিকার দিয়েছে ব্যাক্তিস্বাধীনতা, দিয়েছে দেখারও অধিকার। দিয়েছে যে কোন অশ্লীলতা প্রদর্শনের অধিকার, দিয়েছে অশ্লীলতাকে স্মার্টনেস হিসেবে প্রচারের অধিকার, দিয়েছে নোংরামি করে গর্ব করার অধিকার, দিয়েছে অবাধ যৌনতার অধিকার, দিয়েছে লোকজনকে যখন খুশি সেক্সুয়ালি আলোড়িত করার স্বাধীনতা শুধু দেয়নি এগুলোর পরিণতি ধর্ষণ করার অধিকার ! সে জন্ম দিয়েছে নষ্ট মানুষ তৈরির উর্বর ক্ষেত্র, যেখানে নষ্টামি ছড়িয়ে দেয়া একটা মৌলিক অধিকার বলে সংরক্ষিত! নারী-পুরুষে সম্পর্কের এই ভয়ংকর অবস্থার জন্য দায়ী সবগুলো ফ্যাক্টর খুলে দিয়ে কিসের সমাধান আশা করছি আমরা? মেয়েদেরকে ছোট করে তারপর বললাম তাদেরকে সম্মান কর ? চোরকে অভুক্ত রেখে গৃহস্থকে বলব তালা মেরে রাখ? ব্যাক্তিস্বাধীনতার এই ধারণাটি ঠিক কতটুকু দূষিত এবং কন্ট্রাডিক্টিং তা কি আমরা এখনও বুঝব না ?

ব্যাক্তিস্বাধীনতার কনসেপচুয়াল দুর্বলতা হচ্ছে সে সমাজকে নিছক কিছু মানুষের সমস্টি মনে করে, তাই সে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় এবং সবকিছুকে সে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করে। কিন্তু সমাজ মানে কিছু মানুষ নয়, বরং সমাজ হল কিছু মানুষ, তাদের ধারণা, তাদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক এবং তাদের সিস্টেম, এই সবকিছু নিয়ে। তাই যে কেউ স্বাধীনভাবে কিছু করলে সমাজে তার প্রভাব সবার উপরে পড়বে, একজনের ব্যাক্তিগত দুর্নীতি অন্যদেরকেও ইফেক্ট করে। তাই যে সমাজে “যা-ইচ্ছে-তাই” হয় সে সমাজের বিশৃংখলা অনিবার্য।

৫।

ব্যাক্তিস্বাধীনতার ব্যানারে নীতি-নৈতিকতার বন্ধন ছিড়ে ফেলতে পারলে অনেক লাভ। তবে সেই লাভ আমাদের না, লাভ কিছু পুজিবাদীদের, লাভ কিছু ফ্যাশন হাউসের, লাভ মুভি কোম্পানি, মিডিয়া জগত আর পর্ণগ্রাফির ফ্যাক্টরিগুলোর। তাদের এই ব্যবসা চালানোর জন্যই তারা আমাদেরকে “ব্যাক্তিস্বাধীনতা” দেয়, আর ভেঙ্গে ফেলে নীতি-নৈতিকতার ঢাল। আমাদের চিন্তাশক্তিকে নষ্ট করে আমাদেরকে পরিণত করে এক একটা মানবাকৃতির পশুতে, যারা কেবল স্মার্টভাব নিয়ে ছুটে বেড়ায় তাদের প্রবৃত্তির উপাসনায়।

৬।

একটা মুসলিম মনে রাখবে সে এই পৃথিবীতে নিজের প্রবৃত্তির উপাসনা করতে আসেনি, আসেনি যা মন চায় তা করতে, সে এসেছে মানুষকে তার প্রবৃত্তির উপাসনা থেকে আল্লাহর উপাসনায় আনতে । কারণ একজন মুসলিম জানে সে পশু থেকে বিবর্তিত হয়নি; সত্যান্বষী হয়েই সে মুসলিম, তাই তার চিন্তাশক্তি আছে এবং এভাবেই সে বুঝতে পারে সে কোথা থেকে এসেছে এবং এই জীবনের পর সে কোথায় যাবে। সে তাই ১৭শতাব্দীতে কিছু মানুষের মাথায় কম্প্রমাইজের প্রেক্ষিতেজন্ম নেয়া ব্যাক্তিস্বাধীনতার পূজারী হবে না, বরং সে তাই অনৈতিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র-প্রস্তুতকারী “ধর্মনিরপেক্ষ-উদার” (secular liberal) সমাজব্যবস্থাকে প্রত্যাখান করে সমাধান খোজে তার কাছে যিনি সর্বজ্ঞানী।

ইসলাম মানুষের সেক্সুয়াল ইন্সটিংট কে সন্ন্যাসব্রতের মত করে দমন করে না, আবার পুজিবাদী সমাজের মত লাগামহীন করে ছেড়ে দেয় না, বরং এটাকে বিয়ের মাধ্যমে সীমিত করে। তাই পাবলিক লাইফে সেক্সুয়ালিটি ছড়াছড়ির কোন স্থান ইসলামে নাই, নেই বিলবোর্ডে আড়ং এর কামোদ্দীপক মডেল, নেই সারিকা-প্রভাদের কোন স্থান। ইসলাম মেয়েদেরকে পাবলিক লাইফে শালীন পোষাকে থাকাটাকে বাধ্যতামূলক করেছে যা নিশ্চিতভাবে তাদেরকে “সস্তা” হিসেবে উপস্থাপন করে না।

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। [সূরা আহযাব-৫৯]

ইসলামে অশ্লীলতা প্রচার প্রসারের বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই, যা মুসলিম অমুসলিমদের মনকে কলুষিত করতে পারে। ইসলামে ফ্রি-মিক্সিং এর কোন স্থান নাই যেটা ছেলেদেরকে মেয়েদের হালকাভাবে নিতে উৎসাহ দেয়। ইসলামিক রাষ্ট্র তার শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার নাগরিকদের সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলে,সে শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মত অসার নয় যা আমাদেরকে শুধু টেকনিক্যাল জ্ঞান দিয়েই শেষ। ইসলাম শেখায় কিভাবে সম্মান করতে হয়, কামভাব নিয়ে তাকিয়ে থাকতে নয়।

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [সূরা নূর-৩০]

ইসলামিক সমাজে মেয়েদেরকে তাদের শরীর দিয়ে বিচার করা হয় না, বিচার করা হয় তাক্বওয়া দিয়ে। এই সবকিছুর পরেও যদি পরিমলের জন্ম নেয়, তার কুকর্মের জন্য ইসলামের জুডিশিয়ারি শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড।

ইসলাম শুধু কি খারাপ আর কি ভাল সেটা নামে মাত্র বলেই ক্ষান্ত হয় নি, সে একটা পুরো সিস্টেম ধরিয়ে দিয়েছে।

আমরা কি সেই সিস্টেমটা গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে সম্মানিত হতে চাই না?

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আলোচনা, উপদেশ, ধর্ষন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s