মুসলিমরা এত উগ্র কেন হয়? কেন তারা নিজ ধর্মের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না?


লিখেছেন- আল ফাত্তাহ প্রিতম

মুসলিমরা এত উগ্র কেন হয়?
কেন তারা নিজ ধর্মের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না?
কেন তারা ইসলাম ধর্ম অবমাননাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে চায়?
এই প্রশ্ন আছে অনেকের মনেই।

আসলে মুসলিম সাধারনত দুই  শ্রেণীর  হয়।
একটা  শ্রেণী আছেন যাদের চলা ফেরা আচার আচরণে ইসলাম ধর্মের কোন প্রভাব নেই। তারা তাদের জীবন যাপনের পদ্ধতি নিজের মত করে সাজিয়ে নিয়েছেন। ধর্মের বিধিবিধান  তাদের কাছে সেকেল মনে হয়। কিন্তু তারা আল্লাহ আর রাসুল (সঃ) কে বিশ্বাস করেন। তাদের কাছে রাসুল (সঃ) ছিলেন কেবল একজন ভাল মানুষ। যিনি সদা সত্যকথা বলতেন (যে কারনে তাকে সবাই আল-আমিন ডাকত) । জনৈক বুড়ি তার পথের মাঝে কাঁটা পুঁতে রাখতো। একদিন পথে কোন কাঁটা না দেখে তিনি বুড়ির বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ বুড়ির সাথে দেখা করেন, তার সেবা করেন।  ইত্যাদি ইত্যাদি। মানব সভ্যতার ইতিহাসে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে রাসুল (সঃ) অবদান যে এর চাইতে লক্ষ কোটি গুন বৃহৎ বিস্তৃত তা এই শ্রেণীর বিশ্বাসীরা অনুভব করতে পারেন না।

এই শ্রেণীর মানুষেরা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করলেও ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেন না। তারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করেন না। ধর্মীও অনুশাসন দ্বারা দেশ চালানোকে ভয়ঙ্কর অমঙ্গলজনক বলে মনে করেন। এই শ্রেণীর বিশ্বাসীরা সাধারনত বিপদে না পড়লে স্রষ্টাকে স্মরণ করেন না। ধর্ম পালনে কাউকে উৎসাহিত করেন না। ধর্মের অবমাননা দেখে বিচলিত হন না।

আরেক শ্রেণীর  মুসলিম আছেন যারা বিশ্বাস করেন মানুষের কাছে সবচাইতে অনুকরণীয় অনুসরনিয় আদর্শ হচ্ছেন রাসুল (সঃ)। ইসলাম সর্বযুগের সব মানুষের জন্যে আদর্শ একটি জীবন বিধান। এই বিধানএর মর্যাদা রক্ষা করা এবং এটাকে ছড়িয়ে দেয়া সকল মুসলিমের দায়িত্ব। এই ধরনের বিশ্বাসীগণ ধর্মের অবমাননা সহ্য করতে পারেন না। তারা ধর্মদ্রোহীদের    আইনের মাধ্যমে  দমন করার পক্ষে। তারা বিশ্বাস করেন ইসলাম বা রাসুল (সঃ) এর অবমাননা কখনো মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এই শ্রেণীর  মুসলিমরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। আমি নিজেও এই দলের অন্তর্ভুক্ত।

(এইখানে আমি তৃতীয় একটি শ্রেণীকে নিয়ে কোন আলোচনা করব না। তৃতীয় এই শ্রেণীর মধ্যে পরে কট্টর উগ্রবাদি মুসলিম। যারা জনমতের তোয়াক্কা করে না, নির্বাচিত সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। প্রচলিত আইনকে তারা উপেক্ষা করে। যারা  ইসলামের দাওয়াহ করে জনমত গড়ে তোলার চাইতে সহিংসতা বা পেছনের দরজা দিয়ে খমতা দখলের পক্ষে)

মানুষের মাঝে দুই ধরনের সেলফ ডিফেন্স মেকানিজম কাজ করে

আমরা যেমন  বিপদে পড়লে আমাদের হাত পা দিয়ে জীবন রক্ষার চেষ্টা করি ঠিক তেমনি আমাদের দেহের ভেতর ইমিউন সিস্টেম শরীরের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া জীবনের জন্যে হুমকি স্বরূপ অণুজীবের সাথে  যুদ্ধে লিপ্ত। এই দুই ধরনের সেলফ ডিফেন্স মেকানিজম আমাদের অস্তিত্য টিকিয়ে রেখেছে।

ইসলাম ধর্মেও সেরকম দুই ধরনের সেলফ ডিফেন্স মেকানিজম কাজ করে।

প্রথমত ইসলাম ধর্ম মানুষকে নিষিদ্ধ কিছু কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে যে কার্যকলাপ  চরিতার্থ করলে মানুষের জীবনে ধ্বংস  অনিবার্য। (আর এই কারনেই ধার্মিক মুসলিমগন তাদের সুন্দর জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্যে আল্লাহ এবং রাসুলের প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ)

দ্বিতীয়ত ইসলাম ধর্ম শুধু অন্তরে ধারন করা বা প্রচার করাই নয় এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে ইসলাম।

যেই ডিফেন্স মেকানিজম এর কথা আমি বললাম সেটি যদি না থাকতো তাহলে ইসলাম ধর্ম অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেত। প্রশ্ন জাগতেই পারে ইসলাম আমাদের বাঁচাবে কিন্তু ইসলামকে বাঁচাবে কে?

মুলত ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের  নিকট তাদের ধর্ম ততটা গুরুত্ববহন করে না যতটা গুরুত্ব ইসলাম বহন করে মুসলিমদের কাছে।
আর ধর্মের অবমাননায় মুসলিমদের আক্রোশে ফেটে পরা সারা বিশ্বব্যাপী পরিলক্ষিত হয়।
সাল্মান রুশদির “দি স্যাটানিক ভারসেস” বইটি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের মাঝে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

মাত্র ২০ ভাগ মুসলিমের দেশ ভারত বইটির আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ব্রিটেন এ অবস্থানরত সাল্মান রুশদির জন্যে ব্রিটিশ সরকার সার্বক্ষণিক দেহ রক্ষীর ব্যবস্থা করে।
অথচ বহুল জনপ্রিয় ড্যান ব্রাউন এর “দ্যা ভিঞ্চি কোড” বইয়ে খৃষ্টান ধর্মকে বেশ বড়সড় আঘাত করা হয়েছে। খৃষ্টানদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস যে জিসাস খ্রাইস্ট অবিবাহিত ছিলেন তা ভেঙ্গে দিয়ে বলা হয়েছে জিসাস খ্রাইস্ট এর গার্ল ফ্রেন্ড ছিল, শুধু তাই নয় সেই গার্ল ফ্রেন্ড এর গর্ভে তার একটি সন্তানেরও জন্ম হয়েছিল। (নাউজুবিল্লাহ) ( হযরত ইসা (আঃ) এর উপর প্রমান বিহীন এই দাবির আমি নিন্দা করি) কিন্তু খৃষ্টানদের কাছে “দ্যা ভিঞ্চি কোড” বইটি বেশ জনপ্রিয়তা পায় এবং বেস্ট সেলার এর তালিকায় নাম লিখায়।

মুলত আপনি যতই ইসলাম ধর্মের যৌক্তিকতা মানুষের কাছে তুলে ধরেন না কেন মানুষের মাঝে কেউ কেউ জঘন্য মিথ্যাচার করে ইসলামকে অবমাননা করার চেষ্টা করবেই। আর নিরবতা মানেই মৌন সম্মতি, দুর্বলতা। আর এই কারনেই মুসলিমরা ধর্ম অবমাননা হলে ক্ষোভে ফেটে পরে। সরকারের কাছে শাস্তির আবেদন করে।

একজন মুসলিম হিসেবে আমি এই দেশ, এই দেশের সংবিধান এই দেশের সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসা সরকার, এই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আর এই কারনেই আমিও সরকারের কাছে আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননা বন্ধ করে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ রক্ষার অনুরধ জানাচ্ছি।
আমি জঙ্গিদের মত হাতে অস্ত্র তুলে নেবার পক্ষে নই। আমি ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে জনমত তৈরির পক্ষে। আর জনমতের মাধ্যমে ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পক্ষে।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আলোচনা, ইসলাম ও রাজনীতি, ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s