মন খারাপ বুঝি? কেন বলুন তো?


লেখক- স্বপ্নচারী আব্দুল্লাহ । মুল লেখা এখানে

সত্যি বলছি, নিজের ব্যাপারটা নিশ্চিত জানি, অন্যদের ব্যাপারেও দেখেছি — আমরা মূলত তুলনামূলক দুঃখে ভুগি। ব্যাখ্যা করছি। ইসলামের নির্দেশনা জানার ব্যাপারটা বাদই দিলাম, ধরেই নিচ্ছি, যার কথা বলছি তার ঈমান দুর্বল। ব্যাপারটা হচ্ছে এমন —

আমি হয়ত আমার জীবনের কোন খারাপ সময়ের কারণে দুঃখবোধ করছি এবং তাতে মন খারাপ করছি। আমি হয়ত ভাবছি, আমি যেই অবস্থায় পড়েছি, এমনটা হওয়া উচিত ছিলো না। আমি এর চাইতে ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। এই পরিস্থিতি কেন আমার জীবনে হবে? আমি কি সারা জীবন এই পচা অবস্থায় পড়ার জন্য, এই সমস্যাক্রান্ত হবার জন্যই চেষ্টা করেছি? আমি তো অনেক অমুক তমুক কাজ করেছি, আমার প্রচেষ্টা অমুক তমুক ছিলো। তবু কেন এটা হলো? —- এমনটা ভেবে এক ধরণের মন খারাপে ডুবে থেকে পরের কাজগুলোর স্পৃহা হারিয়ে যায়।

যদি উপরের কথাগুলোর সাথে আপনার অনুভূতিও মিলে যায়, তবে সেই আমার জন্য ছোট্ট রিমাইন্ডার হলো — আমার জীবনের সমস্ত কাজের প্রতিটি সফলতা আর প্রাপ্তি কেবলই আল্লাহর অনন্ত রাহমাত ছিলো। আল্লাহ আমাকে পছন্দ করে দিয়েছিলেন বলেই অনেক কিছু পেয়েছিলাম। যা পাইনি, তা তিনি চাননি — সেখানে আমার যোগ্যতা/প্রচেষ্টা থাকুক বা না থাকুক। কিন্তু এই মূহুর্তের খারাপলাগা অনুভূতির জন্য একটা জিনিস মনে করাই জরুরি, তা হলো — আল্লাহ এই মূহুর্তেই আমাকে আরো অনেক বড় কোন বিপদে ফেলছেন না, আরো বড় কোন ক্ষতি আমার যে হচ্ছেনা, এই কারণেই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত, এই কারণেই শুকরিয়া করে আমার প্রার্থনা করা উচিত যে, আমার জীবনে এই পরিস্থিতিতে যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সাহায্য করেন, আমাকে ক্ষমা করেন আর আমার জীবনটাকে কবুল করে নেন।

কিছু কথা লক্ষণীয়, আমাদের মালিক, আমাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন —

♥”যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।” [সূরা ইবরাহিম : ৩৪]

♥ “নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ।” [আল আদিয়াত – ৬]

♥ “আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।”[আন-নামল- ৭৩]

♥ “আমি মানুষকে নেয়ামত দান করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দুরে সরে যায়; যখন তাকে কোন অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একেবারে হতাশ হয়ে পড়ে।” [আল ইসরা : ৮৩]

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in সংগৃহিত, সুখী জীবন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s