ফেসবুকে আমার স্টেটাস !!


মানুষ ইসলামের দিকে আনার জন্য মুসলমানদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সেটা করতে হবে যুক্তি এবং সৎ উপদেশের দ্বারা। তবে এর জন্য জোর যবরদস্তি বা গায়ে পরে তাদের কোন মতেই বিরক্ত করা চলবে না। ধর্মে কোন বল প্রয়োগ নেয়, এই আয়াতটি তো সকলেই জানেন। এব্যাপারে আরেকটি আয়াত দেখুন–
“যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন, তাহলে বিশ্বের সকল লোকেই বিশ্বাস করত, তাহলে তুমি কি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে?” — সুরা ইউনুস/৯৯
আল্লাহ তা’আলা আমাদের বলছেন, তিনি চাইলে পৃথিবী সকল লোককেই মুসলমান করতে পারতেন কিন্তু তিনি করেননি। তাহলে আমরা মুসলমানেরা কেন এব্যাপারে জোর জবরদস্তি করব। আমাদের উতিচ নম্র ও বিনয়ের সাথে ইসলামের কথা অন্যদের কাছে পৌছে দেওয়া।

————————————————————————–

একটা কথা মাযহাবীরা কিছুতেই বুঝতে চাইনা। তা হল কোন ইমামই সকল হাদিস জানতেন না। খুব অল্প পরিমান হাদিস তাঁরা জানতেন। কারণ সে যুগে হাদিস সংকলন করা হয়নি। ইমামদের শিষ্যরাই কিন্তু সারা পৃথিবী ঘুরে হাদিস সংকলন করেছেন। বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ইত্যাদি এসব কিছু ইমামরা দেখে যেতে পারেননি। তবে ছোট ছোট কিছু সংকলন হয়েছিল সে সময়।

—————————————————————————-

‘এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরুপে প্রতিষ্ঠা করেছি’– সুরা বাক্বারাহ/১৪৩
মধ্যমপন্থা কি? এটা হল চরমপন্থা ও নরমপন্থার মাঝামাঝি পন্থা।সুতরাং মুসলিম হবে মধ্যমপন্থী। কড়াপন্থী না ঢিলেপন্থী। অথচ মুসলমানদের মধ্যে আজকাল দেখা যায় চরমপন্থী ও নরমপন্থী লোকেদের।

——————————————————————————

এক নাস্তিক ভাই লিখেছেন মুমিন বান্দাদের নাকি কমন সেন্স নাই। আমি বলি, যদি আমাদের কাছে কমন সেন্স নাই থাকে থাহলে কোন মহাভারত আশুদ্ধ হয়ে যাবে। আচ্ছা, আমাকে বলুন তো একজন সত্যিকারের মুসলমানের থেকে কোন দিক দিয়ে নাস্তিকরা ভালো। সমাজের জন্য নাস্তিকরা উপকারি নাকি মুসলমানেরা? তারা হয়ত বছরে ২-৩ টাকা দান করেন। কিন্তু মনে রাখা দরকার আমরা আল্লাহর কাছে পুরুস্কার লাভের লোভে হলেও বছরে ২-৩ হাজার টাকা দান করে থাকি। এবার বলুন কাদের দরকার বেশি এই সমাজে?

——————————————————————————-

সন্ত্রাস, সন্ত্রাসবাদ, আতংকবাদ, বিপ্লব্বাদ, ভীতিমুলক রাজদ্রোহবাদ বা টারোরিজম ইসলামী বৈধ নয় এবং তা কোন সৎ উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা জায়েয নয়।

—————————————————————————–

আবু সাইদ খুদরি(রা) হতে বর্নিত যে তিনি যখন কোনো যুবককে দেখতে পেতেন তখন বলতেন রাসুল (সা) এর অসিয়াত অনুযায়ী আমি তোমাকে স্বগতম জানাচ্ছি । রাসুলুল্লাহ (সা) তোমাদের জন্য মজলিসে জায়গা করে দিতে এবং তোমাদেরকে হাদিস বোঝাবার জন্য আমাদের কে আদেশ করে গেছেন । কারণ তোমরা আমাদের স্থলাভিসিক্ত এবং আমাদের পরবর্তী আহলে হাদিস । (মুসতাদারাকে হাকীম; ১ম খন্ড, ৮৮ পৃষ্টা । শারাফু আস্বহাবিল হাদিস; ২১ পৃষ্টা)
—————————————————————————-
৫৩৭৪ টি হাদিস বর্ননাকারী বিখ্যাত সাহাবী আবু হোরায়রা (রা) বলতেন, “আনা আউয়ালু সা-হিবি হাদিসীন ফিতদুনিয়া” অর্থাৎ আমিই পৃথিবীর প্রথম আহলে হাদিস । (তাযকিরাতুল হুফফায; ১ম খন্ড, ৩৩ পৃষ্টা । ইসাবা; ৪র্থ খন্ড, ২০২ পৃষ্টা)

—————————————————————————-

সারাবিশ্বে যাঁরা ইসলামের হন্য কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে জাকির নাইক অন্যতম। সম্ভবত তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সক্রিয়। তাঁর মাধ্যমে এমন সব কাজ হচ্ছে যা আগে কারও মাধ্যমে হয়নি। বিশেষ করে অমুসলিমদের দাও’ইয়াতের ব্যাপারটা। ২০০৮ এর পর থেকে তাঁর সব প্রোগ্রামেই প্রকাশ্যে ২০-৩০ জন পুরুষ ও মহিলা ইসলাম গ্রহন করেন। পিস টিভির মাধ্যমে সারা বিশ্বের কোটি কোটি লোকের কাছে ইসলাম পৌছে দিচ্ছেন তিনি। তিনি একাই যত অমুসলিমের…

কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তা সম্মিলিত ভাবে হানাফি, সাফেয়ি, আহলে হাদিস বা অন্যরা পারেনি। তারপরেও জাকির নাইকের সমালোচনায় মশগুল কতক। তারা কিভাবে নিজেদের? হ্যা তার অনেক ফাত’ওয়া হানাফি মাযহাবের বিরুদ্ধে কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি একজন খারাপ মানুষ। আবু হানিফা(রহ) এর ফাত’ওয়া ভুল হবে না এর কোন মানে নেই। তিনি একজন মানুষ ছিলেন কোন ফেরেস্তা বা নবী নন। তেমনি জাকির নাইকের ভুল হতে পারে। কারণ তিনিও ফেরেস্তা বা নবী নন। তাঁদের একটা ভুলের জন্য সব কাজ গুলো পন্ডুল হয়ে যাবে না। এটা আমাদের বোঝা উচিত।

———————————————————————————–

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in ফেসবুক স্টেটাস. Bookmark the permalink.

One Response to ফেসবুকে আমার স্টেটাস !!

  1. হেকমত উল্লাহ খান হিলেন বলেছেন:

    তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা কেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না? দুর্বল সেই নারী,পুরুষ ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর, যার অধিবাসী এবং শাসক জালেম ও অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও। (সূরা আন নিসা 75)
    হে ইমানদাররা (শত্রুর মোকাবেলায় নিজেদের অস্ত্র তুলে নাও) তোমরা (সর্বদা) তোমাদের সতর্কতা গ্রহণ করো, তারপর হয় দলে দলে বিভাক্ত হয়ে, কিংবা সবাই একসংগে (শত্রুর মোকাবেলা) করো। (সূরা আন নিসা 71)
    মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা মুনাফিকুনঃ ৯)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s