বে-নামাযীদের বলছি….


আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নামাযকে ফরয করেছেন । কুরানের মোট ৮২ জায়গায় নামায সম্পর্কে বলা হয়েছে । এই নামাযের উপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । হাদিসে বলা হয়েছে কেউ নামাযে উতরে গেলে সব বিষয়েই উতরে যাবে ।আর নামাযে ফেল করলে সব বিষয়েই ফেল । তারপরেও অনেক মুসলমানকে দেখা যায় নামায না পড়তে । তারা হয়ত ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে নামায পড়েননা। কিন্তু এর পরিণতি সম্পর্কে তারা একটুও অবগত নন । তার আগে বলি,(এটা হজম করতে হয়ত অসুবিধা হবে) অনেক ওলেমাদের মতে যারা নামায ত্যাগী তারা আর মুসলমান থাকে না । তারা কাফের হয়ে যায় । যেমন, আব্দুল হামীদ মাদানী বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামায ফরয হওয়ার কথা অস্বীকার করে এবং ইচ্ছাকৃত তা ত্যাগ করে সে ব্যক্তি ওলেমাদের সর্বসম্মতভাবে কাফের । পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অবহেলায় অলসতার দরুন নামায ত্যাগ করে, সেই ব্যক্তিও ওলেমাদের শুদ্ধ মতানুসারে কাফের’ (রমযানের ফাযায়েল ও রোজার মাসায়েল; নামায ত্যাগী অধ্যায়; ৩১ পৃষ্ঠা) । এই ব্যাপারটা হাদিস থেকেও পরিস্কার হয়ে যায় । যেমন, মুহাম্মাদ (সা) বলেন, ‘মুসলমান এবং কুফর ও শির্কের মাঝে (অন্তরাল) নামায ত্যাগ’ (মুসলিম শরীফ; হা/৮২) । তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ও ওদের মাঝে চুক্তিই হল নামায, যে ব্যাক্তি তা পরিত্যাগ করে সে কুফরি করে’ (তিরমিযী, হা/২৬২২ ; ইবনে মাজাহ, হা/১০৭৯) । তাহলে কি বুঝলেন ? আর যদি এতেও মন না ভরে তাহলে আরও কয়েকটি হাদিস ও আসার (সাহাবা(রা)দের বাণী, কাজ ইত্যাদি) দেখুন । আব্দুল্লাহ বিন শাকীক উকাইলি (রা) বলেন, ‘মুহাম্মাদ (সা) এর সাহাবাগণ (রা) নামায ত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না ‘ (তিরমিযী, হাকেম, সহীহ তারগীব, হা/৫৬২) । ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করে তার দ্বীনই নেই’ (ইবনে আবী শাইবা, ত্বাবারানী, কাবীর, সহীহ তারগীব, হা/৫৭১) । আবু দারদা(রা) বলেন, ‘যার নামায নেই তার ইমানই নেই’ (ইবনে আব্দুল বার, সাহীহ তারগীব, হা/ ৫৭২) । আর এটা ভাববেন না যে আপনি মুসলিম ঘরে জন্মেছেন বলে রেহাই পেয়ে যাবেন । আল্লাহ আমাদের সাবধান করে বলেছেন,‘মানুষ কি মনে করে যে ‘আমরা ইমান এনেছি’ একথা বললেই ওদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেওয়া হবে ? আমি তো পরীক্ষা করেছিলাম ওদের পুর্ববর্তীদের কেউ; আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা মিথ্যাবাদী” (সুরা আনকাবুত ২৯/২-৩)। ‘যারা ইমান আনে তাদের হৃদয় ভক্তি বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি, আল্লাহর স্বরণে এবং যে সত্য অবতীর্ন হয়েছে তাতে ?…….” সুরা হাদীদ ৫৭/১৬ । আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলেন ‘হ্যাঁ ভাই নামায তো পড়তেই হবে, একটু বয়স হতে দেন তারপর দাড়ি ছেড়ে নামায ধরে নেব’ । কিন্তু তারা ভাবেই না যে কালকের সুর্যও হয়ত সে আর দেখতে পারবে না । আর যদিও পায়… তাহলেও সারা জীবন জেনেশুনে গুনাহ করে বুড়ো বয়সে তওবা করলে আল্লাহ কি কবুল করবে ? এই দেখুন এই আয়াতটি, “আর এমন লোকদের জন্য কোন তওবা (ক্ষমা) নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে ‘আমি এখন তওবা করছি’। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (০৪;১৮) । একটু ভাবুন আপনি (যদি বেনামাযী হোন) কি এই দুই ক্যাটাগরিতে পড়েন না । হয়ত আপনি ভাবে রেখছেন য্বে বুড়ো বয়সে নামায ধরবো অথবা হয়ত আপনি কিছুই ভাবেননি । আর বেনামাযী হয়েই আছেন । আর্থাত কুফরি করেই যাচ্ছেন । তাহলে সাবধান কারন আপনার জন্য তওবা নেই আর আপনার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রাখা আছে । এই কথা গুলো আমি বলছি না স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা বলছেন । আপনি যদি (বেনামাযী হয়েও) নিজেকে মুমিন বলে মানেন, তাহলে আপনার জন্য আল্লাহর কয়েকটি নির্দেশ দেখুন, ‘….নিশ্চয় মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য হল নির্ধারিত সময়ে সালাত (নামায) কায়েম করা’ (০৪;১০৩) । ‘তোমরা সালাতের জন্য যত্নবান হবে……….’ (০২;২৩৮) ।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in নামাজ and tagged , . Bookmark the permalink.

One Response to বে-নামাযীদের বলছি….

  1. শেখ ফরিদ আলম বলেছেন:

    সাইফুল রনি১৭ জুলাই ২০১১, ০৮:১১
    আর এটা ভাববেন না যে আপনি মুসলিম ঘরে জন্মেছেন বলে রেহাই পেয়ে যাবেন । আল্লাহ আমাদের সাবধান করে বলেছেন,‘মানুষ কি মনে করে যে ‘আমরা ইমান এনেছি’ একথা বললেই ওদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেওয়া হবে ? আমি তো পরীক্ষা করেছিলাম ওদের পুর্ববর্তীদের কেউ; আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা মিথ্যাবাদী” (সুরা আনকাবুত ২৯/২-৩)।

    যদিও কিছুটা অফটপিক, তবুও আপনার এই লাইনটি দেখে একটা কথা মনে পড়ল। আমার একজন পরিচিত একদিন আমাকে প্রশ্ন করলেন, যদি আল্লাহ আসলেই থেকে থাকেন, তবে কেন আমি মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছি এবং কেন একজন হিন্দু, হিন্দুর ঘরে জন্ম নেয়, যেখানে এ ব্যাপারে আমাদের কোন হাত ছিলনা। এখানে, ঐ পরিচিত ভাইটি কিন্তু ধরে নিচ্ছেন যে উনি মুসলমান হয়েই বেহেশতে চলে যাবেন আর একজন হিন্দু, হিন্দু হওয়ার কারনে নরকে চলে যাবে। অনেক অবিশ্বাসীও এধরনের যুক্তি দেখায়। অথচ বাস্তবতা কি তাই। একজন মুসলমানের উপর দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে ফরয, হোক সেটা কোন মুসলিমকে অথবা অমুসলিমকে। অথচ আজকের মুসলমান দাওয়াত দেয়া দূরে থাক, দুনিয়াবী কাজে এত বেশী জড়িয়ে গেছে যে, সে আল্লাহর ফরয হুকুমই মানতে পারেনা। সে কিভাবে জান্নাতের আশা করে। আবার সকল অমুসলিমই যে নরকে যাবে, একথা আমরা বলতে পারিনা। যদি একজন অমুসলিমের কাছে ইসলামের দাওয়াত না পৌছে, তবে তার আল্লাহর ক্ষমা পাবার আশা থাকে। তবে এক্ষেত্রে তাকে ইয়াউমুল ক্বিয়ামাতে ইমানের একটি পরীক্ষা দিতে হবে। নামাযের ব্যাপারে আপনি বললেন, মাঝে মাঝে কান্না আসে, আমাদের দেশের মুসলমানদের দেখে, তারা কিভাবে অতি সহজেই শয়তানের ফাদে পড়ে গেছে। তারা চিন্তা করে দেখেনা, এত কিছু করি, এত কষ্টের কাজ করতে পারি, তবে নামায কেন পড়তে পারিনা।
    আমাদের দেশের মানুষদের নামায না পড়ার অনেকগুলো কারনের মধ্যে একটি বিশেষ কারন হচ্ছে, নামায তাদের কাছে খুবই দীর্ঘ, সময়সাপেক্ষ একটি ইবাদাত, ফজরে ৮ রাকাত, জোহরে ১২ রাকাত, আসরে ৮ রাকাত, মাগরিবে ৭ রাকাত, ইশায় ১৭ রাকাত, মোট ৫২ রাকাত। অনেকে এই দীর্ঘ রাকাতপূর্ন নামায দেখে ভয় পায় এবং বলে, আমাকে দিয়ে হবেনা। যদিও মুখে বলে না, কিন্তু তাদের অবচেতন মনে এ ভয় কাজ করে, যা পরিশেষে তাদেরকে নামাযে বিমুখ করে দেয়। অথচ সারাদিন-রাতে নামায মাত্র ১৭ রাকাত। এই ১৭ রাকাতের ব্যাপারেই আমরা জিজ্ঞাসিত হব। আমাদের কিছু সংখ্যক অভিভাবক এবং কতিপয় মৌলভি দের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিয়ে বলছি, এ ব্যাপারে তারা অনেকাংশেই দায়ী। তারা শুরুতেই তাদের সন্তানদের, ছাত্রদের একেবারে অলি-আউলিয়া বানাতে চান।
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিদায়াত করুন। ( আমার মন্তব্য কি পোস্ট থেকে বড় হয়ে গেল? )

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s