শান্তি…


এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য, আর সেটা হচ্ছে অন্তরের শান্তি। যুগ যুগ ধরে সকল মানুষ ধর্ম, বর্ণ, জাতি, বয়স, ধনী, গরীব সবাই এই শান্তির খোঁজ করছে।

মানুষ নানা উপায়-উপকরনের মাধ্যমে এই প্রশান্তির পেছনে ছুটছে। কেউ পার্থিব সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে, আবার কেউ মাদকের মধ্যে, কেউবা মিউজিকের মাধ্যমে আবার অনেকে শেষ উপায় হিসেবে মেডিটেশনের মাধ্যমে।

বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, প্রযুক্তিগত উন্নতি আর তথাকথিত আধুনিকতা আমাদের আরাধ্য শান্তি এনে দিতে পারেনি। বরং এই আধুনিক যুগ হয়ত আমাদেরকে কিছু আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, কিন্তু সাথে সাথে আমাদেরকে অন্তরের শান্তি থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেটা আমাদের পূর্ববর্তীরা পেয়েছিলেন। পরিসংখানে দেখা যায়, আমেরিকায় প্রতি বছর প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ বিষাদগ্রস্থতায় ভুগে আর এর ফলস্বরূপ আত্ব্হত্যার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
আমরা প্রায় সবসময় ব্যক্তিগত আরামকে অন্তর-শান্তি বলে ভুল করে থাকি।
আসল কথা হচ্ছে, আমরা বিভিন্ন জিনিস থেকে কিছু আনন্দের উপকরণ পেয়ে থাকি, যা খুবই ক্ষণস্থায়ী, এটা আসলে শান্তি না। এসব মিথ্যা শান্তির উপকরণ থেকে আমরা হয়তো মাঝে মাঝে কিছু আমোদ, সুখ পাই, যা এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে অশান্তি বয়ে নিয়ে আসে।
অন্তর্শান্তি হচ্ছে মনের স্বাভাবিক স্থিরতা, ধৈর্য আর আমার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। যা আমাদের সবসময় এক মানসিক প্রশান্তির মধ্যে রাখে, এমনকি জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও।
এখন আমরা যদি একটা উপকরণ নিয়ে চিন্তা করি, যা বেশিরভাগ মানুষই শান্তির উপায় হিসেবে মনে করে, যেমন আর্থিক প্রাচুর্য, এটা কি আসলেই আমাদের শান্তি এনে দিতে পারে। অবশ্যই না। বাস্তবতা এবং মজার কথা হচ্ছে অনেক ধনীরাই গরীবদের ঠিক সে পরিমান হিংসা করে তাদের মানসিক প্রশান্তি দেখে, যে পরিমান কোন গরীব ধনী লোকের সম্পদ আর প্রাচুর্যতা দেখে হিংসা করে। রাসুল (স ) বলেছেন, ‘ বেশী পরিমানে পার্থিব সম্পদের অধিকারকে প্রাচুর্যতা বলেনা, বরং খাটিঁ প্রাচুর্যতা হচ্ছে অন্তরের প্রচুর্যতা।’ এর অর্থ আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা আর আরেকজনকে হিংসা না করা।

‘মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে।
যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে।
আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।
তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামায আদায় কারী।
যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে।
এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে
যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের
এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।
এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত-কম্পিত।
নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না।
এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে
কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।
অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী।
এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে
এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাবান
এবং যারা তাদের নামাযে যত্নবান,
তারাই জান্নাতে সম্মানিত হবে।’ পবিত্র কোরআন-৭০, ১৯-৩৫।

সৌজন্য: মোহাম্মাদ সালাহ। হুদা টিভি।

অনুবাদঃ সাইফুল রনি

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in আলোচনা. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s