দুর্বল ঈমান এবং তার প্রতিকার


লেখক  সাইফুল রনী

আসসালামুআলাইকুম,

আমাদের বর্তমান জীবনের সবচেয়ে অবহেলিত একটি সম্পদ হচ্ছে আমাদের ঈমান। আমাদের সবারই কমবেশী পার্থিব সম্পদ রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট যত্নবান। ব্যাবসায়ী কিভাবে তার ব্যাবসার উন্নতি করবে তার জন্য কত চেষ্টা সাধন করে। একজন শিক্ষার্থী তার পড়ালেখা নিয়ে কত চিন্তিত থাকে, কিভাবে আরো ভাল রেজাল্ট করা যায়। অথচ আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সম্পদ, ঈমান সেটা নিয়ে আমরা কয়জন, কতটুকু চিন্তা করি। আমাদের চারপাশের এই ভোগবাদী সমাজ আমাদের ঈমানকে প্রতিনিয়ত দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে দিচ্ছে, সেদিকে আমরা কয়জন খেয়াল রাখি। নিচে দুর্বল ঈমানের কতগুলো লক্ষন এবং তার প্রতিকার দেয়া হল, যদিও এগুলোই সব না।

দুর্বল ঈমানের কতগুলো লক্ষন:

* গুনাহ করা এবং তা করার পর অপরাধবোধ না জাগা।

* অন্তর কঠিন হওয়া এবং কোরান তেলাওয়াতের কোন ইচছা না হওয়া।

* ভাল কাজে অলসতা। যেমন: নামাযে অলসতাবশত দেরী করা।

* সুন্নাহ উপেক্ষা করা।

* অস্থির মন। অর্থাৎ ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ করা। বেশীরভাগ সময়  বদমেজাজে থাকা।

* যখন কোরানের আয়াত শোনা হয়, তখন মনে কোন পরিবর্তন অনুভব না করা।

*আল্লাহ’র জিকির-স্মরন থেকে সারাদিনের বেশীরভাগ সময় দূরে থাকা।

* শরীয়াহবিরোধী কোন কাজ করার পরেও মনে কোন অপরাধবোধ না আসা। যেমন, ধুমপান করা।

* শুধুমাত্র টাকাপয়সা আর সম্মানের আকাংখা করা।

* অন্যকে উপদেশ দেয়া, কিন্তু নিজেই সে অনুসারে না চলা।

* কেউ কোন কাজে অসফল হলে খুশী হওয়া, বিশেষ করে একজন আরেকজনের যখন
প্রতিদ্বন্দী।

* শুধুমাত্র হালাল আর হারাম বিষয়েই সাবধান থাকা, কিন্তু মাকরূহ থেকে দূরে না থাকা।

* কাউকে ছোটখাট কোন ভাল কাজ করতে দেখলে তাকে নিয়ে মজা করা। যেমন, মসজিদ ঝাড়ু দেয়া।

* ইসলাম প্রচারে কোন কিছু করার জন্য কোন তাগিদ অনুভব না করা।

* যুক্তি-প্রমান ছাড়াই শুধুমাত্র তর্কের খাতিরে কারো সাথে তর্ক করা।

* দুনিয়ার প্রতি খুব বেশী আকর্ষন থাকা। যেমন: পার্থিব কোন কিছু অর্জন না করতে পারলে বা কিছু হারিয়ে ফেললে তার জন্য দুঃখ করা।

* নিজেকে নিয়ে বেশী ব্যস্ত থাকা

প্রতিকার:

* নিয়মিত অর্থসহ কোরান তেলাওয়াত করা। তেলাওয়াতের সময় এটা মনে করা যে, স্বয়ং আল্লাহ কথা বলছেন। কোরানে বর্ণিত বিভিন্ন রকম মানুষের মধ্যে নিজের মিল খুজে নিয়ে খুব আন্তরিকতার সাথে তেলাওয়াত করা।

* আল্লাহকে নিয়মিত স্মরন করা। তার মাহাত্ম্য, তার নিয়ামত এগুলো স্মরন করা। সবকিছু একমাত্র তার অধীনে। আমাদের চারিদিকে অনেক নিদর্শন রেয়েছে, যা তারই মাহাত্ম ঘোষনা করছে, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করা।
সকল কিছুই তার অনুমতিক্রমে হয়। আল্লাহ সবকিছু দেখেন, জানেন।

* জ্ঞানার্জনের জন্য নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করা। অন্তত মৌলিক যে বিষয়গুলো রয়েছে এবং যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দরকার হয়, সেসব ব্যাপারে ইসলামের নিয়ম কানুন গুলো সঠিক মাধ্যম থেকে জানা। তাক্বওয়া ( আল্লাহভীতি ) তাদেরই আছে যাদের জ্ঞান আছে।

* নিয়মিত সেসব মজলিসে যোগদান করা, যেখানে ইসলামের আলোচনা হয়।

* ভাল কাজের পরিমান বাড়ানো। একটি ভাল কাজ আরেকটি ভাল কাজের দিকেই নিয়ে যায়। নিয়মিত দান খয়রাত করা, পরোপকারের বিভিন্ন কাজে নিজেকে জড়িত করা। ভাল কাজ সবসময় চালু রাখা। মাঝে মাঝে করলাম আর মাঝে করলাম না, এরকম না করা।

* আমাদের সবসময় মৃত্যুকে স্মরন করা। আজকের মানুষ মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে চায়না, অথচ কাউকে যদি কোন ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া যায়, তবে সেটা একমাত্র মৃত্যুই। মৃত্যুর স্মরন দুনিয়ার লোভ লালসা কমায়।

* আখিরাতের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে চিন্তা করা। কবর, হাশরে নিজের পরিণতি নিয়ে চিন্তা করা।

* সবসময় আল্লাহ’র কাছে দোয়া করা, আমাদের এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহই একমাত্র আমাদের আশা পূরনকারী। এবং বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।

* আল্লাহ’র প্রতি আমাদের ভালবাসা আমাদের কাজ দিয়ে প্রমান করতে হবে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারাদিনের কাজ নিয়ে পর্যালোচনা করা।

* আল্লাহ’র অবাধ্যতা, গুনাহ’র কুফল সম্মন্ধে সচেতনতা বাড়ানো। ভাল কাজ আমাদের ঈমান বৃদ্ধি করে, আর মন্দ কাজ আমাদের ঈমান হ্রাস করে। তাই খারাপ কাজ, আল্লাহ ও তার রাসুলের অবাধ্যতার ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

Advertisements

About সম্পাদক

সম্পাদক - ইসলামের আলো
This entry was posted in উপদেশ. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s