কিভাবে বুঝব শাস্তি না পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা?


উস্তাদ নুমান আলী খান

যখন কোন একটা বিপদ তোমাদের উপর বর্তায় (উহুদের যুদ্ধকালীন) যদিও তোমরা এর আগে (বদরের যুদ্ধে শত্রুদের মাঝে) এর চেয়ে ও দ্বিগুণের মাঝে পরিবেষ্টিত ছিলে তোমরা বল, “এগুলো কোথা থেকে এলো?” বল, “এগুলো তোমাদের থেকেই এসেছে”। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছু করতে সক্ষম। (৩-১৬৫)

আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলী

আমি সুরা আল ইমরানের ১৬৫ নাম্বার আয়াত আপনাদের সাথে খুব সুনির্দিষ্ট একটু উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে চাই। অনেক মানুষই প্রশ্ন করেন কেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে কঠিন সময়ে ফেলেছেন এবং এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। ওনারা জানতে চান কি এমন ওনারা করেছেন যে এইরকম কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। এবং কখনো কখনো মানুষ এটাও বলে, যখন খারাপ কিছু হয়, এটা হয়েছে কারণ, “আমি কিছু খারাপ কাজ করেছি, কারণ এটা আমারই ভুল নয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরকম ইচ্ছা করেছেন আমার পরীক্ষা নিতে। আমি কিভাবে বুঝবো কোনটা আসল কারণ?”

আবার কিছু মানুষ আছে যারা যখনই তাদের উপর কোন বিপদ আসে, তারা নিজেদেরকে এর জন্য দোষারোপ করে। তারা শুধু বলে, “আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ন্যায়বান. নিশ্চয়ই আমিই কিছু অন্যায় করেছি, আমি নিশ্চয়ই আমার পিতামাতার সাথে খারাপ আচরণ করেছি অথবা অন্য কিছু, এবং এই কারণে আমার গাড়ী এক্সিডেন্ট করেছে অথবা অন্যকিছু”। তারা অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান জগতে মনোযোগী হয়।

এখন কিছু আয়াত আছে যা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে, একদিকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, যেমন এই আয়াতে,

আওয়া লাম্মা আসাবাকতুম মুসীবাতুনক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা
যখন উহুদের যুদ্ধে মুসলমানেরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছিলো, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, “যখন তোমরা কোন বিপর্যয়ে আক্রান্ত হও, যেরকমটি তোমাদের শত্রুদের থেকে আগে ও এসেছে এবং তোমরা পরাহত করেছ”

(ক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা)
“আগের বছরই এরচেয়ে দ্বিগুণ ক্ষয়-ক্ষতি তোমরা তোমাদের শত্রুদের করেছ”।

ক্বুলতুম আন্না হাথা
তোমরা বললে, “এটা কীভাবে সম্ভব? আল্লাহ কী করে এরকম হতে দিতে পারেন?”

ক্বুল হুয়া মিন আ’ইন্দি আনফুসিকুম
তাদের বলে দাও, “তোমাদের মধ্যে যা আছে সে কারণেই এটা হয়েছে”। এটা স্পষ্টতই তোমাদের মাঝ থেকে এসেছে। এটা শুধুমাত্র তোমাদের ভুলের কারণে।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম, তাফসির | মন্তব্য দিন

Android App: অর্থপূর্ণ নামায (সালাত) শব্দসহ


নামাযে (সলাতে) আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কি বলছেন তা কি জানেন??

13227373_499611420249119_333068579871727857_o

অর্থপূর্ণ নামায (সলাত) এমন একটি অ্যাাপ যার দ্বারা আপনি নামাযের পঠিত সূরা, তসবিহ, দোআ ইত্যাদির অর্থ (প্রতিটি শব্দের অর্থ সহ) শিখতে পারবেন।

:::::এতে আছে::::::

১। সলাতে(নামাযে) পঠিত সূরা, তাসবিহ, দোআর অর্থ

২। সূরা ফাতিহাহ এবং শেষ ১৩ সূরা

৩। শব্দে শব্দে অনুবাদ, গভীর শাব্দিক এনালাইসিস ও তাফসির আহসানুল বায়ান

৪। সলাতের ওয়াক্ত, ওয়াক্ত নোটিফিকেশান এবং কিবলা

৫। Pinch zoom করে মন মত ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করে নিন

৬। ছবি ও লেখা শেয়ার করার সুবিধা

৭। কোন অ্যাড নেই!

নতুন ১.১ এ যা এসেছেঃ

৮। নামাযের সময়সূচী দেখার জন্য উইজেট সুবিধা
৯। Marshmellow আর lolipop e crash সংশোধন
১০। কিছু ডিজাইন আপডেট

Playstore link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.greentech.salatbn

Posted in অ্যাপস, ইসলাম, এন্ড্রয়েড এপ | মন্তব্য দিন

Android App: দো‘আ ও যিকির (হিসনুল মুসলিম)


আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা পেতে, আমাদের চাহিদাগুলো সুনির্দিষ্ট উপায়ে চাইতে, অন্যের জন্য ভালো কামনা করতে, জীবনের প্রতি পরতে পরতে আল্লাহর সাহায্য পেতে দু’আর বিকল্প নেই। আল্লাহর কাছে আমরা সবাই কম-বেশি দো‘আ করি। বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন দো‘আ কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান। এই দো‘আগুলো আমাদের নিকট গুপ্তভাণ্ডার বা ধনভাণ্ডারের ন্যায়। আল্লাহর কাছে চাওয়ার আবেদনপত্র স্বরূপ। এরুপ দো‘আর বইয়ের মধ্যে অন্যতম বই হলো “হিসনুল মুসলিম।”

কুরআন-সুন্নাহ্‌র যিক্‌র ও দো‘আ সংবলিত হিসনুল মুসলিম রচনা করেছেন “ড. সাঈদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন ওয়াহফ আল-ক্বাহত্বানী”। এটি অনুবাদ করেছেন আমাদের দেশের প্রখ্যাত আলেম-ই-দীন, “ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া”। এতে প্রতিটি দো‘আ এবং যিকরের আরবি, উচ্চারণ, অর্থ এবং তার উৎসনির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এখানে সর্বমোট ২৫৬ টি দো‘আ এবং যিকর রয়েছে যা সুবিধার জন্যে ১৭টি ভাগে আলাদা আলাদাভাবে সাজানো হয়েছে।

11539213_391441851066077_4532027950678537277_o

এতে আছে

•ঘুমানোর, ঘুম থেকে ওঠার, পোশাক পরা ও খোলার, পায়খানার, ওযুর, নামাযের, মসজিদের, ইস্তিখারার দো’আ (দুয়া বা দুআ) ও সকাল ও বিকালের যিকর (বা জিকির)

•কুরআন ও হাদিসের ২৫০ ও বেশি দোআ ও যিকির

•আপনার পছন্দের দোআ সেভ করে রাখুন

•সুবিধা মত ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করে নিন

•শেয়ার করে সওয়াব অর্জন করুন

•প্রতিটি দোআর সাথে এর অর্থ, উচ্চারণ এবং ফযিলত দেয়া আছে।

•প্রতিটি দোআর অডিও আছে এতে!!

•অডিও ফাইল শেয়ারও করা যায়

•Pinch zoom এর অপশন যুক্ত করা হয়েছে

•কোন অ্যাড নেই

•সার্চ অপশন বাংলা ফনেটিক দ্বারা

•সুবিধার জন্য আলাদা আলাদা বিষয়ে বিভক্ত

Play Store Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.greentech.hisnulmuslimbn

Posted in অ্যাপস, ইসলাম, এন্ড্রয়েড এপ | মন্তব্য দিন

Android App: iHadis (আল হাদীস)


13411619_969901039796740_7963246147866824179_o

– ম্যাটেরিয়াল ডিজাইনঃ app এর ডিজাইনের দিকে বেশ অনেকটা সময় ব্যয় করা হয়েছে। সাদার সাথে বিভিন্ন কালার কম্বিনেশন করা হয়েছে। হোমপেজে শুরুতেই চমক আছে – ২ টা ভিউ রাখা হয়েছে- যে যেটা পছন্দ করেন। নতুন অ্যাপে বেশ কয়েকটি হাদিসের বই দেয়া হবে। বই> অধ্যায়> হাদিস — এই প্যাটার্ন ফলো করা হয়েছে।

– সার্চঃ যাই সার্চ করেন না কেন সব হাদিসের বইয়ের ভেতর খুঁজে রেজাল্ট আসবে ১ সেকেন্ডের মধ্যে ইনশাল্লাহ, হ্যাঁ এতটাই ফাস্ট ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দিতে যাচ্ছে ihadis হাদিস অ্যাপ

– ড্রয়ার : সুদৃশ্য একটি ড্রয়ার আছে আমাদের অ্যাপে। এতে বুকমার্ক, সেটিংস সহ বেশ কিছু অপশন আছে।

– চ্যাপটার পেজ : হাদিসের রেঞ্জসহ হাদিসের অধ্যায়গুলো দেখা যাবে। অধ্যায়ে ক্লিক করলে পরের পেজে হাদিস দেখাবে

– হাদিস পেজ : ihadis হাদিস অ্যাপের অন্যতম মুল আকর্ষণ হাদিস পেজ। মাল্টিপল ভিউ এবং সিঙ্গেল ভিউ- এই দুইটি ভিউই আছে, যা অন্য কোন (national/international) হাদিসের অ্যাপে নেই আমার জানামতে। যেন বই থেকেই হাদিস পড়ছি – এই অনুভূতি দেবে মাল্টিপল ভিউ। আরও রয়েছে স্মুথ স্ক্রল এক্সপেরিয়েন্স। এক হাদিস থেকে দ্রুত আরেক হাদিসে জাম্প করার সুবিধাও রয়েছে। সিঙ্গেল ভিউতে হাদিসটা আরও বেশি হাইলাইট হবে, একটি হাদিসের উপর মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে। হাদিস পড়তে পড়তে জ্ঞানের সাগরে ডুব দিতে পারবেন পাঠককুল – এমনটাই আশা করছি আমরা।

– চ্যাপটার পেজ : হাদিসের রেঞ্জসহ হাদিসের অধ্যায়গুলো দেখা যাবে। অধ্যায়ে ক্লিক করলে পরের পেজে হাদিস দেখাবে

– কোন অ্যাড নেই

যে সকল হাদিস গ্রন্থ আছেঃ

১. সহিহ বুখারী
২. সহিহ মুসলিম
৩. আবূ দাউদ
৪. তিরমিজী
৫. ইবনে মাজাহ
৬. সহিহ হাদিসে কুদসী
৭. ৪০ হাদিস

(ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে অনান্য হাদিস গুলোও এড করা হবে।)

Playstore Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ihadis.ihadis

Posted in অ্যাপস, ইসলাম, এন্ড্রয়েড এপ | মন্তব্য দিন

গাছ লাগানো সদাক্বা !


13092171_994267100655679_1791717894092275451_n

লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ এবং পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর কাজ গুলোর মধ্যে একটা হল বৃক্ষরোপণ। বন জঙ্গল কেটে যত বেশি বসতি বা কারখানা তৈরি হচ্ছে ততই বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছ যত কমবে সমস্যা ততই বাড়বে। সেটা দুষিত বায়ুর সমস্যা হোক কিংবা মেঘ-বৃষ্টি না হওয়ার সমস্যা। সরকার এবং সমাজসেবামুলক সংগঠন গুলো এব্যাপারে খুবই সচেতন। সরকারীভাবে বারবার বৃক্ষরোপণ প্রকল্প নেওয়া হয়। গাছ লাগাতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে প্রচারনাও চালানো হয়। যখন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা জনকল্যাণের জন্য গাছ লাগায় তখন মিডিয়া, সরকার বা জনগণ তাকে/তাদের বাহবাহ দেয়। অনেক সময় পুরুস্কৃতও করে। মোট কথা গাছ লাগানো বর্তমান সময়ে খুবই ভালো একটা কাজ। এবং এই কাজের মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং পৃথিবীর অনেক মঙ্গল।

ইসলামে গাছ লাগানো খুব ভালো একটা কাজ। এব্যাপারে অনেকগুলো হাদিস আছে। আমি মাত্র কয়েকটি হাদিস শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।

✿ আনাস বিন মালেক (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবী কারীম (সা) বলেছেন, ‘কিয়ামাত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে’। (আহমাদ/১২৯৮১, বুখারীর আদাব/৪৭৯, সহীহুল জামে’/১৪২৪)

✿ জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অতঃপর তা হতে যা (পাখী, মানুষ অথবা পশু দ্বারা তার ফল ইত্যাদি) খাওয়া হয়, তা তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয়। যা চুরি হয়ে যায়, তাও তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয় এবং যে কেউ তা (ব্যবহার) দ্বারা উপকৃত হয়, তাও তার জন্য কিয়ামাত অবধি সদকাহ স্বরুপ হয়’। (মুসলিম/৪০৫০; গায়াতুল মারাম/১৫৮)

✿ আব্দুল্লাহ বিন হুবশী (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (খামোখা) কোন কুল গাছ কেটে ফেলবে (যে গাছের নিচে মুসাফির বা পশু-পক্ষী ছায়া গ্রহণ করত), সে ব্যক্তির মাথাকে আল্লাহ সোজা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’। (আবু দাউদ/৫২৪১)

উপরের হাদিস তিনটিতে একটু খেয়াল করুন। প্রথম হাদিসে বলা হচ্ছে কিয়ামাতের সময়েও যদি কারো কাছে চারা গাছ থাকে সম্ভব হলে সে যেন তা রোপণ করে। আমরা সকলেই কম বেশি জানি কিয়ামাত কত ভয়ংকর সময়। কিন্তু গাছ লাগানোটা এত জরুরি যে সেই ভয়ংকর সময়তেও গাছ লাগাতে বলা হয়েছে। চোখ বন্ধ করে একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন গাছ লাগানোর মহাত্ম্য। দ্বিতীয় হাদিসে গাছ লাগানোর উপকারিতা বলা হয়েছে। কেউ একটা গাছ লাগালো, সেই গাছ থেকে যত মানুষ, পশু পাখী যে কোন ভাবে উপকৃত হল তার নেকি গাছ রোপণকারী ব্যক্তি পাবে। এমনকি মৃত্যুর পরেও সেই গাছ থেকে সে নেকি পেতে থাকবে। তৃতীয় হাদিসে, কুল গাছের মতো সাধারণ গাছ অকারণে কাটার শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে।

দুটি পয়েন্ট পরিস্কার হল। এক, বর্তমান বিশ্বে গাছ লাগানো সবথেকে কল্যানকর কাজ গুলোর একটি। দুই, আজ থেকে সারে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে গাছ লাগানোর এবং গাছ না কাটার।

এবার আরো একটি ব্যাপারে আলোচনা করা যাক। আমাদের বুঝতে হবে, ইসলামে ‘ধর্ম এবং দুনিয়া’ আলাদা নয়। ইসলামে ধর্ম এবং দুনিয়া একই। তাই ইসলামকে দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা বলা হয়। আর ইসলাম শুধু (প্রচলিত) ইবাদত বা উপাসনাকেন্দ্রিক ধর্মও নয়। ইসলামে আদেশকৃত প্রত্যেকটা কাজ করাই ইবাদত এবং নিষেধকৃত প্রত্যেকটা কাজ না করাও ইবাদত। কিন্তু আফসোস বেশিরভাগ মুসলিমরা ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতকেই বোঝে্ন।

গাছ লাগানোর এত এত উপকার এবং ইসলামী নির্দেশ থাকা সত্ত্যেও কি কখনও দেখেছেন বা শুনেছেন ইমাম, উলেমা কিংবা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অথবা কোন মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসলামের নামে বৃক্ষোরোপণ প্রকল্প বা প্রচারনা করতে? পশ্চিমবঙ্গে এটা অল্পনীয় ব্যাপার। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা বা মুসলিম সংগঠনের অভাব নাই। অভাব আছে ‘ইসলামের সৌন্দর্য্য ও বৈশিষ্ট্য’ প্রচারকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের। ইসলাম প্রতিষ্ঠা শুধু ইসলামের দাওয়াত দিয়েই হয়নি। হয়েছিল সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর কাজ করার মাধ্যমেও। আমরা যারা ইসলামের জন্য কিছু করতে চাই, আমাদের উচিত ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামে সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর যে সব নির্দেশ ইসলামে দেওয়া হয়েছে সে গুলোকে বাস্তবায়িত করা। আল্লাহ আমাদের ভালো কাজ করার এবং ইসলাম মেনে চলতে সাহায্য করুন। আমীন!

Posted in ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট, উদ্যোগ | মন্তব্য দিন

এক নজরে জিনা-ব্যভিচারের শাস্তি


ban

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে তাহলে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে, আর অনেক বেশি কাঁদতে।”

সহিহ আত তিরমিজি, সংসারের প্রতি অনাসক্তি অধ্যায়, হাদিস নং-২৩১৩।

আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আসলে কি দেখেছিলেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি দেখেছিলেন, যার সম্পর্কে এই একটিমাত্র হাদীস থেকে সামান্য হলেও ধারণা পাওয়া যাবে।

আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি,তিনি বলছেন, “আমার নিকট দুইজন ব্যক্তি আসল। তারা দু’জন আমার দুই বাহুর মাঝামাঝি ধরে আমাকে এক ভয়াবহ কঠিন পাহাড়ের নিকট নিয়ে আসল। তারা দুজন আমাকে বলল, আপনি এই পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম, আমি এ পাহাড়ে উঠতে সক্ষম নই। তারা দুজন বলল, আমরা আপনাকে পাহাড়ে উঠার কাজটি সহজ করে দিব। আমি উঠলাম, এমনকি পাহাড়ের উপরে চলে আসলাম। হঠাৎ আমি একটি বিকট আওয়াজ শুনলাম। আমি বললাম, এটা কিসের শব্দ? তারা বলল, এটা হচ্ছে জাহান্নামীদের বিলাপ-আর্তনাদ ও কান্না। তারপর তারা আমাকে নিয়ে যেতে লাগল। হঠাৎ আমি দেখলাম, একদল লোককে পায়ের সাথে বেঁধে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ফেটে দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে আছে এবং চোয়াল হতে রক্ত ঝরছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা ঐসমস্ত লোক, যারা সময়ের পূর্বেই ইফতার করত। অর্থাৎ, সিয়াম পালন করত না। তখন তিনি বললেন, ইহুদী-নাছারারা ধ্বংস হোক. . .তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখি, কিছু লোক খুব ফুলে উঠে মোটা হয়ে আছে। আর খুব দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের দৃশ্য খুব বিশ্রী! আমি বললাম, এরা কারা?তারা বলল, এরা ঐ সব লোক যারা কাফের অবস্থায় নিহত হয়েছে। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখলাম, কিছু লোক ফুলে মোটা হয়ে আছে। অতি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ দুর্গন্ধ যেন শৌচাগারের ন্যায়। আমি বললাম, এরা কারা? তারা দু’জন বলল, এরা হচ্ছে ব্যভিচারী পুরুষ এবং ব্যভিচারিণী নারী। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল, দেখলাম, কিছু মহিলা, প্রচুর সাপ তাদের স্তনগুলিতে বার বার ছোবল মারছে। আমি বললাম, এদের কি হয়েছে? এদের এ অবস্থা কেন? তারা বলল, এরা ঐসব মহিলা, যারা বাচ্চাদের দুধ পান করাতো না। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখলাম,বেশকিছু ছেলে তারা দুই নদীর মাঝখানে খেলা করছে। আমি বললাম, এ সমস্ত ছেলে কারা? তারা বলল, এগুলি মুমিনদের শিশু সন্তান। তারপর তারা আমাকে আরো উঁচু একটি পাহাড়ে নিয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম, তিনজন মানুষ শরাব পান করছে। আমি বললাম, এ লোকগুলি কারা? তারা বলল, এ লোকগুলি হচ্ছে জা‘ফর, যায়েদ ও ইবনে রাওয়াহা (এ তিনজন লোক মু‘তার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন)। তারপর তারা আমাকে অন্য একটি উঁচু পাহাড়ে নিয়ে গেল। দেখলাম, তিনজন লোক। আমি বললাম, এ লোকগুলি কারা? তারা বলল, তাঁরা হচ্ছেন ইবরাহীম, মুসা ও ঈসা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন), তাঁরা আপনার (আগমনের)অপেক্ষায় রয়েছেন।”

সিলসিলাতু সহীহাহঃ হাদীস নং-১৪৩০।

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন

কবরে ৩টি প্রশ্ন ও হাশরের ময়দানে ৫টি প্রশ্ন


question-1018843_960_720

(ক) কবরে ৩টি প্রশ্ন করা হবেঃ

১. তোমার রব্ব কে?

২. তোমার দ্বীন কি?

৩. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে, তিনি কে বা তুমি কি তাঁকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করেছিলা?

সুনানে আবু দাউদঃ ৪৭৫৩, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ।

(খ) হাশরের ময়দানে ৫টি প্রশ্ন করা হবেঃ

আবু বারযা নাদলা ইবনে উবায়েদ আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

কিয়ামতের দিন (হাশরের ময়দানে) বান্দা তার স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকবে,

যে পর্যন্ত না তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ

১. তার জীবনকাল কিভাবে কাটিয়েছে,

২. তার জ্ঞান কি কাজে লাগিয়েছে,

৩. তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে,

৪. তার সম্পদ কোথায় খরচ করেছে এবং

৫. তার শরীর কিভাবে পুরানো করেছে?

সুনানে আত-তিরমিযীঃ ২৪১৭, হাদীসটি হাসান ও সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ। 

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন

ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রত্যাখ্যান করে


সংকলক: আলী হাসান তৈয়ব | সম্পাদনা : মো: আবদুল কাদের

140908091056-9-11-twin-towers-horizontal-large-gallery

ইসলাম যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে ধর্মের নামেই রয়েছে শান্তির সুবাস, যে ধর্মের নবীকেই প্রেরণ করা হয়েছে জগতবাসীর জন্য শান্তি ও রহমত স্বরূপ [ . পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭। ], সে ধর্ম সম্পর্কে এমন অপপ্রচার একান্তই বিদ্বেষপ্রসূত। ইসলাম বিদ্বেষী ভাইদের অপপ্রচারে যাতে সরলমনা মুসলিম ভাই-বোনেরা বিভ্রান্ত না হন, তাই আজ পবিত্র কুরআনে এদু’টি শব্দ কতভাবে এসেছে তা আলোচনা করে এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরার প্রয়াস পাব এ নিবন্ধে ইনশাআল্লাহ।

অনেক রাজনৈতিক নেতা ও চিন্তাবিদই আরবী ‘উনুফ’ বা ‘সহিংসতা’ (Violence) শব্দ ও ‘ইর‘আব’ বা ‘আতঙ্কসৃষ্টি’ (Terrorism) শব্দের মধ্যে, তেমনি ‘উনুফ’ বা ‘সহিংসতা’ ও ‘আল-ইর‘আব আল-উদওয়ানী’ বা ‘আগ্রাসন’ শব্দের মধ্যে এবং ‘উনুফ’ বা ‘সহিংসতা’ ও ‘আল-ইর‘আব আয-যরুরী’ বা ‘ত্রাস’ শব্দের মধ্যে পার্থক্য করেন না।

বস্তুত বিদেশি শব্দ সন্ত্রাস বা Terrorism-এর আরবী প্রতিশব্দ ‘ইরহাব’ নয়; ‘ইর‘আব’ . কেননা (‘ইরহাব’ শব্দের ধাতুমূল তথা) ‘রাহ্ব’ (الرهب) শব্দ ও তা থেকে নির্গত শব্দাবলি পবিত্র কুরআনে ত্রাস নয় বরং সাধারণ ভীতি-সঞ্চার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাতে একটি নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অর্থ মিশে থাকে। অন্যের বেলায় মানুষ শব্দটি ব্যবহার তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাবার জন্য [ সূরা তাওবা : ৩৪; নাহল : ৫১; আম্বিয়া : ৯০; কাসাস : ৩২; হাদীদ : ২৭; হাশর : ১৩। ]। আর এ শব্দ কিন্তু ‘র‘ব’ (الرعب) শব্দ থেকে ভিন্ন অর্থ বহন করে। কেননা ‘র‘ব’ শব্দের অর্থ তীব্র ভীতি-সঞ্চার অর্থাৎ ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা[ . সূরা আলে-ইমরান : ১৫১; আনফাল : ১২; আহযাব : ২৬; হাশর : ২। ] । মানুষ এ শব্দটিকে ব্যবহার করে অন্যকে শায়েস্তা করা এবং তাদের ওপর জুলুম চালানোর জন্য। আবার এর কতক সংঘটিত হয় উদ্দেশ্যহীন, অনির্দিষ্ট ও সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে[ইবন মানযুর, আল-বুসতানী। ] ।

তবে এতদসত্ত্বেও ‘ইরহাব’ ও ইর‘আব’ শব্দ আরবী ভাষায় ধাতুগতভাবে শুধু মন্দ বা শুধু ভালোর জন্য ব্যবহৃত হয় না। এদুটি এমন মাধ্যম যা ভালো বা মন্দের পক্ষাবলম্বন করে না। উভয় শব্দ সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় প্রতিরোধ এবং নিপীড়িতের সাহায্যার্থে ব্যবহৃত হয়। তেমনি শব্দদুটিকে নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষের ওপর অত্যাচার, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ও অধিকার হরণ এবং তাদের ভূমি দখলের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

তবে ‘উনুফ’‘ইরহাব’ শব্দের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। ‘উনুফ’ অর্থ চিন্তা, মতবাদ, দর্শন কিংবা সাধারণ বা বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে সহিংস মাধ্যম বা উপায় অবলম্বন করা। যেমন : আঘাত, শারীরিক নির্যাতন বা অস্ত্র ব্যবহার। পক্ষান্তরে ‘ইরহাব’ ও ‘ইর‘আব’ শব্দদুটি এর চেয়ে ব্যাপক অর্থ বহন করে। কারণ তা হতে পারে সহিংস উপায়ে আবার হতে পারে অহিংস উপায়ে। যেমন :

আকার-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ভয় দেখানো। (তাকে এভাবে ইঙ্গিতে জবাই করার ভয় দেখানো।) অথবা কথার দ্বারা ভয় দেখানো। যেমন : অর্থনৈতিকভাবে বয়কটের হুমকি, কঠোরতা আরোপের হুমকি, না খেয়ে মারার হুমকি কিংবা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি ইত্যাদি। ‘ইরহাব’ ও ‘ইর‘আব’ শব্দদুটি ভেটোর ক্ষমতা প্রয়োগ অথবা জালেমের নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। অসত্য অভিযোগ প্রচারের মাধ্যমেও ‘ইরহাব’ ও ‘ইর‘আব’ সংঘটিত হতে পারে। যেমন : টার্গেট গোষ্ঠীর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বা তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে অপপ্রচার ও প্রচলিত মিডিয়া যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করা।

এই ‘ইরহাব’ ও ‘ইর‘আব’ কখনো হামলার শিকার ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক হত্যা করে না। বরং তাকে দীর্ঘ শাস্তি ও ধারাবাহিক নির্যাতন করে ধুঁকিয়ে ধুঁকিয়ে মারে। অর্থাৎ এ দুটি কখনো তৎক্ষণাৎ না মেরে ধীরে ধীরে মৃত্যু ডেকে আনে। এটি করা হয় তাকে গৃহহীন অবস্থা ও ক্ষুধার মুখে ঠেলে দেয়ার মাধ্যমে।

আমাদের চারপাশে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ব্যাপকার্থে যারা ‘ইরহাব’ ও ‘ইর‘আব’ করছে- যার মধ্যে রয়েছে সত্য প্রতিষ্ঠা করা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অথবা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া ও অত্যাচারীকে আশ্রয় দেয়া- এরা প্রধানত তিন দলে বিভক্ত। যথা :

১. যারা নীতি-নৈতিকতার বাইরে গিয়ে শব্দদুটিকে ব্যবহার করে তাদের নির্যাতন বা অন্যায়কে বৈধতা দেবার জন্য। আখিরাতে বিশ্বাসী হোক বা না হোক- এরা মানবস্বভাব ও ঐশী শিক্ষার বিরোধী। যার মধ্যে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শও রয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম, সন্ত্রাসবাদ | মন্তব্য দিন

মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজই ইসলামীক কাজ!


13254511_225752897806847_9108528826163222411_n

লিখেছেন – সাবির আলী

প্রতিটা জিনিসের একটা স্বভাবধর্ম বা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য আছে। আরবীতে যাকে বলা হয় ফিতরাত। এই যেমন ধরুন পানি। পানির স্বভাবধর্ম হচ্ছে সে সবকিছু ভিজিয়ে দেয়। আগুন জ্বালিয়ে দেয়, বাতাস প্রবাহিত হয় ইত্যাদি। আরো বলা যেতে পারে যেমন গরু ঘাস, লতাপাতা খায়, মাংস খায়না, আবার সিংহ মাংস খায় কিন্তু ঘাস খায়না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মানুষের তাহলে স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত টা কি? আদৌ কি মানুষের তা আছে? হ্যাঁ আছে বৈ কি!
ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মানুষ মূলত দুই প্রকার। এক, যার মানবিকতা আছে, আর দুই, যার মানবিকতা নেই। আসলে এই মানবিকতাই হচ্ছে স্বভাবধর্ম। যে মানবিক নয় সে ফিতরাতের উপরে নেই। যেমন, একজন সিগারেট খায় আর নিজেকে ধ্বংস করে। তারপর কায়দা করে ধোয়া উড়িয়ে অন্যের নাকে মুখে এক গাদা মারণ রোগের জীবাণু ঢুকিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে শূন্যে মাথা তুলে থাকায়। এরা কখনই মানবিক নয়। ইসলামে সকল প্রকার নেশাদ্রব্য হারাম তথা নিষিদ্ধ, তাই সে বিড়ি, সিগারেট হোক বা মদ হেরোইন হোক। তাহলে ইসলাম এখানে মানবিক তথা স্বভাবধর্মের অনুকুল। আবার কোন পুরুষ যখন তার হাত, পা, চোখ, কান অথবা মন দিয়ে কোন মেয়েকে ধর্ষণ করে, তখনও সে মানবিক থাকে না অর্থাৎ স্বভাবধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ওদিকে ইসলামে চোখের জেনা, কানের জেনা, হাতের জেনা এমনকি মনের জেনার (জেনা অর্থাৎ অবৈধ সম্পর্ক) কথা উল্লেখ করে তা হারামের পর্যায়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখানেও ইসলাম ফিতরাত তথা স্বভাবধর্মের অনুকুলে। আরো বলা যায়, ছোট থেকে বড় অনেক বিষয়ে। তালিকা সুদীর্ঘ। তবুও কিছু ছোট এবং বড় বিষয় উল্লেখ করছি যা মানবিক এবং সমান্তরাল ভাবে ইসলামিকও।
(১) চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, ধোকা এগুলি একাধারে ইসলাম বিরোধী এবং অমানবিক অর্থাৎ স্বভাববিরুদ্ধ
(২) ঘুষ, সুদ, জুয়া, জবর দখল, সম্পত্তি আত্মস্যাৎ, ইয়াতীমের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া, উগ্র ও লাগামহীন পুঁজিবাদ, অবাস্তব রক্তক্ষয়ী কমিউনিষ্ট শ্রেণি সংগ্রাম- এসবই মানবতা বা ফিতরাত বিরুদ্ধ এবং সেই সাথে এগুলি ইসলামের সাথেও সাংঘর্ষিক।
(৩) রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, গুম, অপহরণ ইত্যাদি যেমন অমানবিক তেমনি অনৈসলামিক।
(৪) পরকীয়া, অবাধ ও বিকৃত যৌনতা এসব স্বভাববিরুদ্ধ এবং ইসলাম বিরুদ্ধ।
(৫) পরপকারীতা, দানশীলতা, সংযম ও শান্তিপ্রিয়তা প্রশংসনীয় এবং মানবিক তাই এগুলিই মানুষের স্বভাবধর্ম। আর ইসলামে এগুলি শুধু প্রশংসিত নয় বরং মুসলিমদের জন্য এগুলি অপরিহার্য।
(৬) জল, বিদ্যুৎ, জ্বালানী যাই সংরক্ষণ করা হোক, তা নিঃসন্দেহে মানবিক বা স্বাভাবজাত গুন। ইসলাম বলে অপচয়কারী শয়তানের ভাই।
(৭) রোগী দেখতে যাওয়া, তার শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, অথবা ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, বা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা মানবিক এবং স্বভাবধর্ম আর ইসলামে এগুলি উচ্চ প্রশংসনীয়, ক্ষেত্র বিশেষে অপরিহার্য।

এভাবে লিখতে থাকলে শেষ করা মুশকিল। এককথায় আপনি মানবিক কিছু করলেই অর্থাৎ তাতে মানুষের কল্যাণ থাকলেই ভাববেন আপনি ইসলামিক কিছু করেছেন। আর মানুষের জন্য অকল্যাণকর কিছু করলে নিশ্চিত জানুন আপনি ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করে ফেলেছেন। এতকিছুর পরে যদি শেষে বলি ইসলামই মানুষের স্বভাবধর্ম তাহলে আশাকরি অত্যুক্তি হবেনা। অবশ্য আমরা একথা শুধু বলিনা, মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ‘ প্রতিটি মানুষ তার স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত অর্থাৎ ইসলামের উপরেই জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার পরিবার, তার পরিবেশ তাঁকে ফিতরাত থেকে ইহুদী, নাসারা বা মাজুসী বানায়’। হ্যাঁ, এটাই বলেছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা)।

Posted in ইসলাম, জীবনের উদ্দেশ্য, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার, সুখী জীবন | মন্তব্য দিন

দু’আ কবুলের গল্প


বৃদ্ধ মানুষটি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন মসজিদের সামনে!

এত রাতে কোন মানুষজনের ঘরে গিয়ে তাঁদের কষ্টের কারণ হতে চান নি তিনি। সেকারণেই চেয়েছিলেন মসজিদেই কাটিয়ে দিবেন রাতটুকু। নফল নামাজ আর কিছুটা ঘুমিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দেয়া যেত।

কিন্তু বাধ সাধলেন মসজিদের খাদেম। কোন এক অজানা কারণে তাঁকে পছন্দ করলেন না খাদেম। স্রেফ মানা করে দিলেন খাদেম– মসজিদে রাত কাটানো যাবে না। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে খাদেম সাহেব সেই কথাটি-ই বেশ উঁচু গলায় কথা বলে দিলেন বৃদ্ধকে।

মরমে মরে গেলেন বৃদ্ধ মানুষটি। মসজিদ লাগোয়া রুটির দোকানে মধ্য বয়স্ক একজন বিশাল তন্দুরে রুটি বানাচ্ছেন। খাদেমের চড়া গলা তাঁর কানে পর্যন্ত গেল। রুটি বানানো বন্ধ রেখে মধ্যবয়স্ক মানুষটি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ মানুষটির কাছে।

– আসসালামু আলাইকুম। পথিক বুঝি আপনি? আপনার আপত্তি না থাকলে আজকের রাত আমার সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন আপনি। আমি ওপাশের দোকানে রুটি বানাই, একটু কষ্ট হয়তো হবে আপনার।
খুব খুশি হলেন বৃদ্ধ মানুষটি। রুটি বানানো লোকটির সাথে গিয়ে তার ঘরে উঠলেন। বৃদ্ধের শোয়ার আয়োজন করে দিয়ে আবার রুটি বানাতে লেগে গেলেন মানুষটি। বিছানায় আধশোয়া বৃদ্ধ খেয়াল করছিলেন- কাজের ফাঁকে ফাঁকে কি যেন পড়ছেন তাঁকে আশ্রয় দেয়া মানুষটি।

বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন,

– কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ভাই? রুটি বানাতে বানাতে আপনি কিছু পড়ছেন মনে হচ্ছে। দয়া করে বলবেন কি পড়ছেন?
– তেমন কিছু না, ইস্তিগফার (মহান আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করছি।
– এই যে কাজের ফাঁকেও একটানা ইস্তিগফার করছেন, কোন লাভ কি হয়েছে আপনার?
– জ্বী জনাব। আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনে হয় এই ইস্তিগফারের কল্যাণেই মহান আল্লাহ এখন পর্যন্ত আমার যাবতীয় দোআ কবুল করেছেন; শুধু একটি দোআ ছাড়া।
– আপনার কোন দোআটি কবুল করেন নি আল্লাহ পাক?
– আমাদের এখান থেকে অনেক দুরে আল্লাহর প্রিয় এক বান্দা থাকেন। জ্ঞান-গরিমা-মেধা-যুক্তি সবকিছুতেই আল্লাহ পাকের রহমতপ্রাপ্তদের একজন তিনি। আমার খুব শখ – একবার যদি তাঁর সাথে দেখা করতে যেতে পারতাম। কিছুটা সময় যদি কাটাতে পারতাম সেই জ্ঞানী বান্দার সাথে। আল্লাহ পাক আমার এই প্রার্থনাটি-ই শুধু কবুল করেন নি এখনও। নিশ্চয়ই কবুল করবেন তিনি। আমার কোন গুনাহের কারণে হয়তো এখনো কবুল হচ্ছে না।

বৃদ্ধ মানুষটির চোখ ভারী হয়ে এলো কান্নায়। ধরা গলায় কান্না চেপে জিজ্ঞেস করলেন তিনি,

– আপনি কি আহমদ ইবনে হাম্বলের কথা বলছেন ভাই?
– জ্বী জনাব। আমি শায়খুল ইসলাম, জগত বিখ্যাত মুজতাহিদ ও মুহাদ্দীস ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল এর কথাই বলছি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি অবিরাম রহমত বর্ষণ করুক।

বৃদ্ধ মানুষটি এবার উঠে এসে পাশে দাঁড়ালেন-

“সেই পবিত্র স্বত্তার কসম- যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আপনার ইস্তিগফার আল্লাহ পাক শুধু কবুল-ই করে নি, উপরন্তু আমাকে এই দূর দেশে, অচিন শহরে, মধ্য রাতে – আপনার ঘর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি-ই মহান আল্লাহ তাআ’লার সেই অধম বান্দা – আহমাদ ইবনে হাম্বল!”

“….আমি মহান আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি।”

[সুত্রঃ মানাকিব আল ইমাম আহমাদ]

আমার অতি পছন্দের একজন মানুষ। রাহিমাহুল্লাহ। পুনঃ প্রকাশিত।

Collected From Brother
Mohammad Javed Kaisar

Posted in ইসলাম, উপদেশ, কচিকাচাদের জন্য, গল্প, গল্প নয় সত্যিই, দু'আ | মন্তব্য দিন