প্রেম করিব তোমার সনে


রেহনুমা বিনত আনিস

আজকে ওকে পেয়েছি আমি! ওর একদিন কি আমার একদিন। কি মনে করেছে সে? আমাকে একটা মিথ্যা কথা বলবে আর আমি যাচাই করে দেখবনা? আমাকে ঝেড়ে ফেলা কি এতই সহজ? প্রেম আমি করবই। এত কষ্ট করে ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেলাম। চার বছর কি শুধু লেখাপড়া করেই কাটিয়ে দেব? জীবনের রঙ রূপ গন্ধ স্পর্শ কি উপভোগ করে দেখবনা? ইউনিভার্সিটি ভর্তি হবার আগে থেকেই স্বপ্ন দেখতাম ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী আর স্মার্ট মেয়েটাকেই আমার গার্লফ্রেন্ড বানাবো, তাকে নিয়ে পার্কে ঘুরব, চীনাবাদাম খাব, সবাই আমাদের দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। ভর্তি পেয়েই এই টার্গেট নিয়ে মাঠে নামলাম। নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে- তাই প্রথম দিন থেকেই ভাল ভাল জামাকাপড় পরি, প্রচুর স্টাইল মারি, মেয়েদের কাছেপিছে দেখলেই উচ্চস্বরে কথা বলি যেন তারা ফিরে তাকায়। কত মেয়ে আমার দিকে আড়চোখে তাকায়, কিছু বলতে চায়, অথচ যার জন্য এতকিছু রপ্ত করছি সে কিনা আমাকে পাত্তাই দেয়না! দাঁড়াও, দেখাচ্ছি মজা!

ঐ তো সাদিয়া আসছে! আমাকে দেখেই অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছিল, আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াই।
‘তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলেছ, আমি খবর নিয়ে জেনেছি তুমি বিবাহিতা নও’।
সে কিছু বলেনা, শীতল দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে, ‘চল, মাঠে গিয়ে বসি’।
আমার হৃদয়বীনায় ঝঙ্কার ওঠে, যেন মাঠে নয় স্বর্গের উদ্যানে ওর সাথে অনন্তকাল যাপন করার জন্য রওয়ানা হয়েছি আমি!
আমরা মাঠে গিয়ে ঘাসের ওপর মুখোমুখি হয়ে বসি। আহ! কি রোমান্টিক! আবেগে চোখ বন্ধ হয়ে যায় আমার।

চোখ মেলে দেখি সাদিয়ার দু’পাশে ওর দুই বান্ধবী ওর গা ঘেঁষে বসে আছে। হৃদয়ের তানপুরাটায় ছেদ পড়ে।
‘ওরা এখানে কি করছে?’
‘আমাকে যা বলার ওদের সামনেই বলতে হবে’, দৃঢ়ভাবে বলে সাদিয়া।
আমিও দমে যাবার পাত্র নই, বিপদে ডরেনা বীর।
বললাম, ‘তুমি আমাকে মিথ্যা বললে কেন?’
‘তুমি কি জানোনা কেন?’
চুপ করে থাকি।
‘তুমি আসলে কি চাও, বল তো?’
‘তোমাকে ভালোবাসতে চাই’।
‘তারপর?’
‘তারপর আর কি? প্রেম করতে চাই’।
‘তারপর?’
‘তারপর… যদি ইউনিভার্সিটি শেষ করার পর সব ঠিকঠাক থাকে হয়ত আমাদের বিয়ে হবে’।
‘নয়ত?’
‘নয়ত এই স্মৃতিটাই আমাদের জন্য বেদনামধুর হয়ে থাকবে’।
‘আমি এই শর্তে রাজী নই। কারণ এতে প্রাপ্তি আছে দায়বদ্ধতা নেই। তুমি যদি আমাকে বিয়ে করতে চাও, তাহলে তোমার বাবামাকে নিয়ে এসো, আমার বাবামা রাজী হলে শুধু চার বছর কেন সারাজীবন আমি তোমার সাথে থাকব। এর বাইরে একটি মূহূর্তও আমি তোমার সাথে কাটাতে নারাজ’।
‘কিন্তু এখন আমি বিয়ে করব কি করে?! সবে তো মাত্র ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, এখন কি বাবামা বিয়ে দেবেন? আমার কি কোন ইনকাম আছে? আমি তোমায় রাখব কোথায়, খাওয়াব কি?’
‘তাহলে তুমিই বল, আমি যদি তোমাকে প্রস্তাব দিতাম আমি তোমার কোন দায়িত্ব নেবনা কিন্তু তোমার সাহচর্য উপভোগ করব, এই শর্তে তুমি কি আমার সাথে থাকতে রাজী হতে?’
চিন্তায় পড়ে গেলাম। ‘হ্যাঁ’ও বলতে পারিনা, ‘না’ও বলতে পারিনা।

Read the rest of this entry

ভাইয়া, পথে ঘাটে সুন্দরী-রূপসী নারীদের দেখে আকর্ষণ হয়, তাইনা?


লিখেছেন – সাফওয়ান

আচ্ছা ভাইয়া, আসুন একটুখানি কথা বলি। পথে ঘাটে সুন্দরী-রূপসী নারীদের দেখে আকর্ষণ হয়, তাইনা? আপনি অবিবাহিত, ঠিক দ্রুত তেমন সম্ভাবনাও নেই বিয়ে হবার, তাই মন আরো উদাস হয়? পথে/স্কুলে/কলেজে/ভার্সিটিতে/ক্লাসরুমে আকর্ষণীয়া মেয়েদের দেখে বুকে দীর্ঘশ্বাস হয়? আশেপাশে সবাই যখন জোড়া বেঁধে ঘুরে, ফোনে ইটিশ-পিটিশ করে তখন নিজেকে একলা একলা লাগে?

জানেন তো, যে জিনিস সহজে পাওয়া যায়, তার ফলাফল কেমন হয়? ‘সস্তার তিন অবস্থা’ পড়েননি? যে মেয়েটাকে সহজেই আপনি পাবেন, সে কিন্তু আপনার হাত থেকেও *সহজেই* অন্য কারো হাতে চলে যাবে। যে মেয়েটার সৌন্দর্য আপনি দেখতে পাচ্ছেন, দেখে মুগ্ধও হচ্ছেন, সে তার সৌন্দর্য আরো অনেক লোকের কাছেই দেখিয়ে বেড়াবে। মানুষ এমনই, তাকে জোর করে বদলানো যায় না, চাপ প্রয়োগে মানুষ আরো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়। এই প্রক্রিয়াতেও আপনি তাকে ‘ঠিক’ করতে পারবেন না।

কী পারবেন জানেন? নিজেকে ঠিক করতে। আল্লাহকে ভয় করার সুযোগ আছে, তাওবা করলে তিনি মাফ করবেন আপনাকে। বিনিময়ে অল্প কয়েকদিনের দুনিয়াতে তো শান্তি আছেই, আখিরাতে মুক্তিও আছে।

Read the rest of this entry

যদি মনে করেন বিয়ের আগে প্রস্তুতি দরকার নেই তবে যেসব ক্ষতি হতে পারে


লিখেছেন – সাফওয়ান

বিয়ের আগে সত্যিই অনেক প্রস্তুতি দরকার। যারা মনে করেন প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়ে করলে সমস্যা নেই,তারা এখনকার সময়ে চারিদিকে দাম্পত্য কলহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের পরিমাণ দেখলেই বুঝতে পারবেন মানুষে মানুষে অমিলগুলো এখন সংসারে সহাবস্থানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যাই হোক, বিয়ের মূল প্রস্তুতিটা মানসিক, তবে এর সাথে আরো অনেক কিছুই চলে আসে। আপনাকে ফোকাসড হতে হবে। আবেগ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আপনাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আপনি কি আসলেই আপনার জীবনটা আরেকজনের সাথে শেয়ার করতে প্রস্তুত?

বিয়েতে যদি মনে করেন আরেকজন কেবল আপনাকে ‘সার্ভিস’ দিবে, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ভুলের উপরে আছেন যা আপনাকে অশান্তি এনে দিবে নিশ্চিতভাবে। ঠিক উল্টোটা যদি হয়, আপনি যদি আরেকজনকে কী কী ‘কর্তব্য’ পালন করে দিবেন তা চিন্তা করেন, এবং সেই কর্তব্য সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে যখন নিজের অভ্যাসগুলো নিয়ে ভাবতে পারবেন — তখন আপনি কিছুটা বুঝতে পারবেন আপনার এখনকার আপনি মানুষটার সীমাবদ্ধতাটুকু। এই চিন্তাটুকু করে যদি তেমন কিছুই বের করতে না পারেন, নিশ্চিত থাকুন আপনি এখনও তেমন কিছুই বুঝেননি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে।

Read the rest of this entry

ভালোবাসার মোড়কে কামতাড়নার ও পর্ণোগ্রাফির এই শহর


লিখেছেন – সাফওয়ান

আজকাল বাজারে ভালোবাসার ব্যাপক সংকট মনে হয়, নাকি পণ্য হিসেবে এর কাটতি বেশি কে জানে। ফেসবুকে ঢুকেই দেখি একটা স্পন্সর করা অ্যাড একটা পেইজের — ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই। নিম্নমানের গ্রাফিকসের একটা ছবি, তাতে LOVE লেখা। পেইজে ইংরেজি বাংলা নামকরণ এবং বন্ধনির ব্যবহারে ভুল দেখেও জ্ঞানের দৈন্যতা বোঝা যায় সুষ্পষ্ট। এই নিম্নরুচির বিজ্ঞাপণওয়ালাদের কথা বাদ দিলেও দীর্ঘদিন যাবত ‘উচ্চমানের রুচিওয়ালাদের’ টাকা দিয়ে চালানো AIRTEL কর্তৃক বিজ্ঞাপন ‘আপনি কি মনে করে বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল? তাহলে চলে আসুন আমাদের সাথে’ টাইপের বিশ্রি বিজ্ঞাপণেও ভালোবাসা/বন্ধুত্ব সংকট প্রকৃষ্ট।

শহরের সবখানেই ভালোবাসা। এই পণ্য বিক্রির চেষ্টা যাদের জন্য হয় তাতে বাচ্চারা থাকে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও। এসব ভালোবাসার নামের রং-ঢং ক্ষণিকেই কামাসক্তিতে পরিণণত হয়। একসময় সবখানে কেবল কামাসক্তি থাকে, ভালোবাসা পড়ে থাকে শব্দের খোলসে। নগ্ন বিলবোর্ডগুলো বেশ চটকদার। আগে দু’একটা ছিলো। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড , আড়ং ইত্যাদি আগে চোখে পড়তো। নির্লজ্জ কি আর সবাই হয়। এখন ক্রেডিট কার্ডের বিজ্ঞাপনেও বিশাল বিলবোর্ডে রেস্টুরেন্ট টেবিলে নগ্ন ধবধবে বাহুর পাতলা পোশাকের তরুণীর ওপাশে স্যুটেড পুরুষ থাকে। এখানেও ভালোবাসার মোড়কে কামোত্তেজনাতে সুড়সুড়ি দেয়া। ক্রেডিট কার্ড কই থাকলো? হাজার হাজার দোকানের সাইনবোর্ডে আন্তর্জাতিক পানীয়ের বিজ্ঞাপনে স্বল্পবসন টপস পরা বলিউডি নায়িকার সাদা নির্লোম বগল উন্মোচিত। পানীয় খুবই ক্ষুদ্র বিষয়, বিজ্ঞাপনের মূল উদ্দেশ্য, যেভাবেই হোক কাম জাগিয়ে পানীয় বিক্রি করা।

Read the rest of this entry

ফেসবুক স্টেটাস ২


লিখেছেন | শেখ ফরিদ আলম

❖ ধর্ষন বা ইভ টিজ রুখার জন্য ইসলাম শুধু নারীদের পর্দার কথাই বলেনা। আর ইসলাম অনেক মতবাদের মতো শুধু সমস্যা বলে যায়না তার সাথে সমাধানের কথাও বলে, আর সেসব ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলে। ধর্ষন বা ইভ টিজ বা ব্যভিচার রুখার জন্য ইসলাম বলে -

ক. পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে। নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। লজ্জাস্থানের হেফাজাত অর্থাৎ স্ত্রী ব্যতিত অন্যের সাথে যৌন সম্বন্ধ রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। [দ্রঃ সুরা নুর/৩০ আয়াত]
খ. নারীদের হিযাব বা শরীর ঢাকা পোষাক পড়তে বলা হয়েছে। আর এমন টাইট বা চাকচমকপূর্ণ পোষাক পড়তেও নিষেধ করা হয়েছে যা অন্যদের আকর্ষন করে। [দ্রঃ সুরা নুর/৩১ আয়াত]
গ. নারীদের একা ঘর থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাবা, ভাই বা মাহরাম কাউকে সাথে নিয়ে বাইরে যেতে বলা হয়েছে।
ঘ. যারা বিশ্বাসী তারা তো এসব মানবে কিন্তু যারা মানবে না এবং ধর্ষন করবে বা ইভ টিজ করবে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। যেমন ধর্ষন করলে মৃত্যুদন্ড দিবে।

এভাবে পুরুষ নারী এবং সরকারের সহযোগিতায় একটা সুসভ্য সমাজ তৈরি হবে। যেখানে না ধর্ষন হবে না ইভ টিজ। হলেও তা খুবই সামান্য পরিমাণে। এরকম ব্যবস্থা না নিয়ে কোন মতেই, কোন ভাবেই ধর্ষন বা শ্লীলতাহানী রুখা সম্ভব নয়। যেমন কড়া আইন করেও কি ভারতে ধর্ষন বন্ধ হয়েছে? বরং একটা রিপোর্ট মতে ধর্ষন ডবল হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাই আল্লাহই ভালো জানেন আমাদের জন্য কোনটা ভালো। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি ওরা অজ্ঞ যুগের বিচার ব্যবস্থা কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর উত্তম মীমাংসাদাতা (বিধানকর্তা) আছে? [সুরা মাইদাহ/৫০]

  Read the rest of this entry

নির্জনে আপনি কেমন মুসলিম?


লিখেছেন: শায়্ আস্সিম আল-হ়াকীম

একজন বললেন: আমি প্র্যাকটিসিং মুসলিম। কিন্তু নির্জনে প্রাকটিসিং হওয়াটা খুব কঠিন।

অধিকাংশ মুসলিমই ভুগছে এই অভিন্ন সমস্যায়। বলা হয়: সাধু হয়ো না মানুষের সামনে। আর শয়তান হয়ো না আড়ালে যেয়ে। ইব্‌ন আল-ক়ায়্যিম বলেছেন, “যাঁরা আল্লাহকে চেনেন তাঁদের সবার মত হচ্ছে: মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে একাকী যে পাপ করা হয়। আর লক্ষ্যে অবিচল থাকার মূল কারণ হচ্ছে নিভৃতে আল্লাহর ‘ইবাদাহ করা।”

আমাদের অনেকেই শয়তানকে খারাপ বলেন সবার সামনে; কিন্তু আড়ালে তাকেই বানান সবচেয়ে ভালো বন্ধু। কী সাংঘাতিক!

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমি নিশ্চিতভাবেই জানি, পুনরুত্থানের দিনে আমার উম্মাহর এক দল লোক হাজির হবে তিহামাহ পাহাড় পরিমাণ ভালো কাজ সাথে নিয়ে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে করে দেবেন বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা।”

হ়াদীস়টির বর্ণনাকারী স়াওবান বললেন, “এদের সম্পর্কে আমাদের আরও জানান, রাসূলুল্লাহ ﷺ, আরও বলুন। যাতে অজান্তে আমরা তাদের মতো না হই।”

তিনি বললেন, “ওরা তোমাদেরই ভাই, তোমাদেরই জ্ঞাতিগোষ্ঠী। রাতে ওরা ‘ইবাদাত করে তোমাদের মতোই। কিন্তু ওরা যখন একাকী থাকে তখন ওরা আল্লাহর বেধে দেওয়া সীমারেখা লঙ্ঘন করে।”

আপনার ব্যাপারে অন্যে কী বলল, সেটা নিয়ে তুষ্ট হওয়ার মতো বোকামি করবেন না। সামনে কী করছেন তারা শুধু সেটাই জানে, আড়ালের খবর তারা রাখে না। আল্লাহ আর আপনার মধ্যে যা আছে সেটাকে ঠিক করুন; এটাই হিসেব করা হবে বিচারের দিনে।

কষ্টগুলোর জীবনকাল


মূল লেখা : ইয়াসমিন মোগাহেদ | অনুবাদ করেছেন: সুপ্ত তাহারাত

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুর’আনে আমাদের বলে দিয়েছেন যে, প্রত্যেকটি জিনিসের জন্যই তিনি একটি সময়কাল নির্ধারণ করে রেখেছেন। এর মাঝে আমাদের প্রতিকূলতা ও সংগ্রামও অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রত্যেকটিরই রয়েছে সূচনা ও সমাপ্তি; আছে একটি নির্ধারিত সময়কাল। জীবনের সকল পরিস্থিতিরই একটি নির্দিষ্ট সময় পর অবসান ঘটে অথবা পরিবর্তন ঘটে. আমার জীবনের বেশকিছু সময় রয়েছে যখন এ আয়াতটি আমাকে গভীর প্রশান্তি এনে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই আয়াতটির রয়েছে সুগভীর তাৎপর্য :

“তুমি তোমার রবের সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো, তুমি (অবশ্যই) আমার চোখের সামনে আছো।” [সূরা আত-তূর :৪৮]

শেখার আছে অনেক কিছুই

১. আল্লাহ্‌ আপনার অবস্থার পরিবর্তন করবেন। শুধু ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর এই কষ্টের মুহূর্তটা পার করে যেতে হবে। এটা কখনও চিরস্থায়ী নয় এবং আপনার আল্লাহ এর দায়িত্বে আছেন (আপনার রবের সিদ্ধান্ত)।

২. “তুমি (অবশ্যই) আমার চোখের সামনে আছো।” এমনকি *কষ্টের সময়টা* পার করার সময়ও তাঁর চোখের সামনে। তিনি আমাদের খেয়াল রাখছেন। কী পরম শান্তি!

৩. আপনি শুধু এ কারণেই ধৈর্যধারণ করবেন না যে, (ক) আল্লাহ্‌র নির্দেশ আপনার অবস্থার নিয়ন্ত্রণ করছে বরং এ কারণেও যে, (খ) তিনি আপনাকে দেখছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের অভিভাবক, এমনকি যখন আমাদের কষ্টের সময়, তখনো। প্রকৃত বিষয়টি হচ্ছে, আপনি তাঁর দৃষ্টি ও সুরক্ষার মধ্যে আছেন এবং আপনি ধৈর্যধারণে সক্ষম। এই পরিস্থিতিতেও আপনার ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতাটা, আপনার প্রতি আপনার রবের বিশাল এক অনুগ্রহ ও উপহার।

সারকথা: আল্লাহ তাঁর সীমাহীন জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের পরিস্থিতি দেখছেন এবং আমাদের ধৈর্যধারণের সামর্থ্যটিও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে।

প্যাকেট না প্রোডাক্ট


লিখেছেন : রেহনুমা বিনত আনিস

 আপনি কি প্যাকেট দেখে জিনিস কেনেন না প্রোডাক্ট দেখে?

মানে? ধরুন, আপনি নারকেল তেল কিনবেন। আপনি কি তেলের গুণগত মান দেখে- অর্থাৎ এই তেলে আপনার মাথা ঠান্ডা এবং চুল লম্বা ও ঝরঝরে হবে কি’না সেটা বিবেচনা করে তেল কিনবেন, নাকি তেলের বোতলটি কতখানি সুন্দর ও আকর্ষণীয় তা দেখে তেল নির্বাচন করবেন? হাস্যকর মনে হচ্ছে? অথচ এই হাস্যকর কাজটিই আমরা করে থাকি অহরহ।

আমাদের যুগের একটি গুরুতর সমস্যা হোল বাহ্যিক সৌন্দর্যপ্রীতি। সুন্দর জিনিস সবার ভালো লাগে, লাগাটাই স্বাভাবিক, এতে দোষের কিছু নেই। এটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তখনই যখন কোন বস্তুর মূল্যায়নে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইটেরিয়া হয়ে দাঁড়ায়, যখন এর তুলনায় আর সকল বিচার বিবেচনা সচেতনতা ব্যাকসিটে স্থান পায়। এই অতিরিক্ত সৌন্দর্যপ্রীতির কারণে আমরা অনেক দাম দিয়ে ভেজাল পটেটো চিপ্স কিনে বাচ্চাদের কচি মুখে তুলে দেই অথচ বাসায় ক’টা তাজা আলু কেটে তেলে ভেজে দেইনা, অনেক দাম দিয়ে লাল টুকটুকে আপেল কিনে আনি যদিও তার ভেতরটা হয় পঁচা পোকায় খাওয়া অথচ এর চেয়ে তিনগুণ পুষ্টিমানসম্পন্ন তাজা পেয়ারা অনাদরে পড়ে থাকে বাজারের ঝাঁকায়। খাঁটি জিনিসের মূল্যায়নের এই যোগ্যতা এবং মানসিকতার বিলোপ এখন আর কেবল বস্তুগত নির্বাচনের ক্ষেত্রেই সীমিত নেই বরং আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা শুধু বাহ্যিক দিক দেখে বিবেচনার ফলে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হই। Read the rest of this entry

স্বামী কি স্ত্রী’র পাশে বন্ধু হতে পারে?? ?!?!


লিখেছেনঃ নূর আয়েশা সিদ্দিকা

 আমি তখন সবেমাত্র কলেজে উঠেছি। একদিন পত্রিকার পাতায় একটি আর্টিকেল চোখে পড়লো। স্বামী কি স্ত্রী’র পাশে বন্ধু হতে পারে।? দু’চোখে উৎস্যুক নিয়ে পড়ে দেখি বিপক্ষে অবস্থানকারীদের সংখ্যাই বেশী। চুপি চুপি বলি পাঠক, আমার কলেজের বিশেষ একজন অধ্যাপিকা ম্যাডাম ও দেখি সেই দলে। আর সমর্থন করেছেন যারা তাদের সংখ্যা ২/১ জন শুধু। স্বামীরা যে বস সুলভ আচরণ করেন, স্ত্রী’র ক্যরিয়ারকে মেনে নিতে পারেন না, নিজের ডিসিশনকেই বেশী প্রাধান্য দেন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় তারা তুলে ধরেছেন। পুরো আর্টিকেলটি পড়ে মনে হল স্বামী শব্দটির সাথে স্বার্থপর, সংকীর্ণমনা,স্বৈরাচারী এধরণের শব্দগুলোর গোপন এক আঁতাত আছে।

বন্ধুদের মাঝ হতে আমার বিয়েটা বেশ তাড়াতাড়িই হয়েছিলো। আমি যখন অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ি তখন। আমি মনে মনে ভাবলাম ইয়া আল্লাহ সত্যিই এবার বিপদে পড়েছি। আমি যদিও পরিবারের সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান কিন্তু তাই বলে যখন তখন ২৪ ঘন্টা কেউ আমার উপর হম্বি তম্বি করুক সেটা আমার একদম পছন্দ নয়। তাই শুরু হল আমার ওয়াচিং এর পালা। Read the rest of this entry

ঈদে মিলাদুন্নাবী অনেক গুলো কারণে হারাম


লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

ক. এটা বিদ’আত। অর্থাৎ ধর্মে নতুন সৃষ্টি। এই আমল রাসুল সা. সাহাবা বা তাবেঈ-তাবে তাবেঈদের যুগে ছিলনা।

 আল্লাহ বলেন, ‘বলো হে নবী! আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কথা কি তোমাদের বলব? তারা হচ্ছে এমন লোক, যাদের যাবতীয় চেষ্টা সাধনায় দুনিয়ার জীবনে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে আর তারাই মনে মনে ধারণা করে যে, তারা খুবই ভালো কাজ করছে’ [আল ক্বা'হাফ/১০৩-১০৪]

 মুহাম্মাদ সা. বলে্‌ন ‘তোমরা (দ্বীনে) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ’আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদ’আতই ভ্রষ্টতা’ [আবু দাউদ, তিরমিযী] নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে, ‘আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে (নিয়ে যায়)’।

 ‘যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল… যা তার মধ্যে (দ্বীনে) নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য’ [বুখারী ও মুসলিম] মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যাপারে আমাদের কোন নির্দেশ নেই তা বর্জনীয়’। Read the rest of this entry

ইসলাম : শান্তি ও মুক্তির দ্বীন

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা শেখা

রিয়াদুস সলিহীন

সহীহ ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস সংবলিত এবং বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় বহুল প্রচারিত গ্রন্থ 'রিয়াদুস সালেহীন'

আলোকিত শান্তির বাণী

ইসলামি স্কলার এবং চিন্তাবিদদের উদ্ধৃতি

বাঙলা

আফসার নিজাম সম্পাদিত : চিন্তাশীল পাঠকের মননশীল সৃজন

৭ শতকের প্রজন্ম

"চিন্তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা সে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারে"

সরল পথ

'প্রচার কর, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়'

Its all about ISLAM

Its all about ISLAM

‌সব কটা জানালা খোলে দাও না

মুনিম সিদ্দিকীর ব্যাক্তিগত ব্লগ

দ্বীনের পথে রাত্রি দিন হাঁটতে হয়।

আল্লাহ সাথে থাকেন অষ্টপ্রহর!

সরল পথ একটিই

"নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ । সুতরাং এরই অনুসরণ কর এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন ক'রে ফেলবে ।" (কুরআন, ৬:১৫৩)

আজাদ কাশ্মীর জামান

পৃথিবীর যা কিছু কল্যাণকর যা কিছু প্রত্যাশায় ... হোক তা সার্বজনীন।

আলোর পথে

আলোকিত চিন্তা-ভাবনা আর অনুভুতির সংগ্রহশালা

চলো পাল্টাই

A topnotch WordPress.com site

ধর্মগ্রন্থ

Just another WordPress.com site

PDF Islamic Book

In the Name of Allah, Most Benefcient, Most Merciful.

AL BASAIR ISLAMIC MEDIA

Every muslim should be the media for Islam

dineralo

**সত্যের অনুসন্ধানী.....

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 48 other followers

%d bloggers like this: