প্রেম করিব তোমার সনে


রেহনুমা বিনত আনিস

 

আজকে ওকে পেয়েছি আমি! ওর একদিন কি আমার একদিন। কি মনে করেছে সে? আমাকে একটা মিথ্যা কথা বলবে আর আমি যাচাই করে দেখবনা? আমাকে ঝেড়ে ফেলা কি এতই সহজ? প্রেম আমি করবই। এত কষ্ট করে ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেলাম। চার বছর কি শুধু লেখাপড়া করেই কাটিয়ে দেব? জীবনের রঙ রূপ গন্ধ স্পর্শ কি উপভোগ করে দেখবনা? ইউনিভার্সিটি ভর্তি হবার আগে থেকেই স্বপ্ন দেখতাম ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী আর স্মার্ট মেয়েটাকেই আমার গার্লফ্রেন্ড বানাবো, তাকে নিয়ে পার্কে ঘুরব, চীনাবাদাম খাব, সবাই আমাদের দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। ভর্তি পেয়েই এই টার্গেট নিয়ে মাঠে নামলাম। নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে- তাই প্রথম দিন থেকেই ভাল ভাল জামাকাপড় পরি, প্রচুর স্টাইল মারি, মেয়েদের কাছেপিছে দেখলেই উচ্চস্বরে কথা বলি যেন তারা ফিরে তাকায়। কত মেয়ে আমার দিকে আড়চোখে তাকায়, কিছু বলতে চায়, অথচ যার জন্য এতকিছু রপ্ত করছি সে কিনা আমাকে পাত্তাই দেয়না! দাঁড়াও, দেখাচ্ছি মজা!

ঐ তো সাদিয়া আসছে! আমাকে দেখেই অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছিল, আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াই।
‘তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলেছ, আমি খবর নিয়ে জেনেছি তুমি বিবাহিতা নও’।
সে কিছু বলেনা, শীতল দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে, ‘চল, মাঠে গিয়ে বসি’।
আমার হৃদয়বীনায় ঝঙ্কার ওঠে, যেন মাঠে নয় স্বর্গের উদ্যানে ওর সাথে অনন্তকাল যাপন করার জন্য রওয়ানা হয়েছি আমি!
আমরা মাঠে গিয়ে ঘাসের ওপর মুখোমুখি হয়ে বসি। আহ! কি রোমান্টিক! আবেগে চোখ বন্ধ হয়ে যায় আমার।

 

চোখ মেলে দেখি সাদিয়ার দু’পাশে ওর দুই বান্ধবী ওর গা ঘেঁষে বসে আছে। হৃদয়ের তানপুরাটায় ছেদ পড়ে।
‘ওরা এখানে কি করছে?’
‘আমাকে যা বলার ওদের সামনেই বলতে হবে’, দৃঢ়ভাবে বলে সাদিয়া।
আমিও দমে যাবার পাত্র নই, বিপদে ডরেনা বীর।
বললাম, ‘তুমি আমাকে মিথ্যা বললে কেন?’
‘তুমি কি জানোনা কেন?’
চুপ করে থাকি।
‘তুমি আসলে কি চাও, বল তো?’
‘তোমাকে ভালোবাসতে চাই’।
‘তারপর?’
‘তারপর আর কি? প্রেম করতে চাই’।
‘তারপর?’
‘তারপর… যদি ইউনিভার্সিটি শেষ করার পর সব ঠিকঠাক থাকে হয়ত আমাদের বিয়ে হবে’।
‘নয়ত?’
‘নয়ত এই স্মৃতিটাই আমাদের জন্য বেদনামধুর হয়ে থাকবে’।
‘আমি এই শর্তে রাজী নই। কারণ এতে প্রাপ্তি আছে দায়বদ্ধতা নেই। তুমি যদি আমাকে বিয়ে করতে চাও, তাহলে তোমার বাবামাকে নিয়ে এসো, আমার বাবামা রাজী হলে শুধু চার বছর কেন সারাজীবন আমি তোমার সাথে থাকব। এর বাইরে একটি মূহূর্তও আমি তোমার সাথে কাটাতে নারাজ’।
‘কিন্তু এখন আমি বিয়ে করব কি করে?! সবে তো মাত্র ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, এখন কি বাবামা বিয়ে দেবেন? আমার কি কোন ইনকাম আছে? আমি তোমায় রাখব কোথায়, খাওয়াব কি?’
‘তাহলে তুমিই বল, আমি যদি তোমাকে প্রস্তাব দিতাম আমি তোমার কোন দায়িত্ব নেবনা কিন্তু তোমার সাহচর্য উপভোগ করব, এই শর্তে তুমি কি আমার সাথে থাকতে রাজী হতে?’
চিন্তায় পড়ে গেলাম। ‘হ্যাঁ’ও বলতে পারিনা, ‘না’ও বলতে পারিনা।

Read the rest of this entry

ইসলামবিদ্বেষী ডাচ রাজনীতিবিদের অবশেষে ফেরা


আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব

 

[শেষ পর্যন্ত ইসলামই গ্রহণ করে ফেললেন আর্নোড ভ্যান ডুর্ন (Arnoud Van Doorn) (৪৬)। তাঁর টুইটার পেজে এখন শোভা পাচ্ছে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহগত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ তিনি হঠাৎ করেই ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। নেদারল্যান্ডের ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থী রাজনৈতিক দল পিভিভি-এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এই ডাচ পার্লামেন্টারিয়ান ২০০৮ সালে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় তোলা ১৭ মিনিটের প্রবল ইসলাম বিদ্বেষী তথ্যচিত্র ফিৎনা নির্মাণকারী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ইউরোপ জুড়ে ইসলামের বিস্তারে উদ্বিগ্ন হয়ে এই কুখ্যাত তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়। এর প্রতিবাদে সারাবিশ্বে মুসলমানরা যে ক্ষুব্ধ ও আবেগী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, তা-ই তাকে ইসলাম নিয়ে আগ্রহী করে তোলে। অবশেষে ইসলাম ও রাসূল (ছাঃ)-এর জীবন সম্পর্কে প্রায় বছরখানিক পড়াশোনার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। এক বছর পূর্বেই তিনি স্বীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন এবং হেগের সিটি হলে একজন পরামর্শক হিসাবে যোগদান করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি হেগের মেয়রের নিকট স্বীয় চাকুরীস্থলে ছালাতের জন্য বিরতি চেয়ে আবেদন করেন। গত ২১ এপ্রিল তিনি মক্কায় উমরা হজ্জ পালন করেন এবং মক্কা ও মদীনার প্রখ্যাত আলেম-ওলামাগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, মিডিয়ার কারণে ইউরোপীয়রা ইসলামের সঠিক চিত্রটি জানতে পারে না। যদি তারা জানত যে, ইসলাম ধর্ম কত মাধুর্যময় ও বিজ্ঞতাপূর্ণ, তাহলে তারা প্রত্যেকেই ইসলামগ্রহণ করতে বাধ্য হত। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তাঁর নিম্নোক্ত সাক্ষাৎকারটি ইংরেজী থেকে অনুবাদ করে দেয়া হল-নির্বাহী সম্পাদক]    

  

প্রশ্ন : প্রথমে আপনার ইসলাম গ্রহণের কাহিনীটি বলুন। কিভাবে আপনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হলেন?

আর্নোড ভ্যান ডুর্ন : আমি কৌতূহলবশত কুরআন পড়া শুরু করেছিলাম ১ বছর পূর্বে। এর আগে ইসলাম সম্পর্কে কেবল নেতিবাচক গল্পই শুনে এসেছিলাম। কিন্তু কুরআন এবং সাথে সাথে রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ আমি যতই পড়তে লাগলাম, বুঝতে শুরু করলাম ইসলাম বাস্তবিকই কত সুন্দর ও বিচক্ষণতাপূর্ণ। খৃষ্টান হিসাবে পূর্ব থেকেই ধর্মীয় জ্ঞান আমার যথেষ্ট ছিল। তাই নৈতিক মূল্যবোধের দিক থেকে আমি ছিলাম খুব দৃঢ়। আমার তো মনে হয় একজন অবিশ্বাসীর চেয়ে একজন খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীর জন্য ইসলাম গ্রহণ করা অধিকতর সহজ। কেননা নবী, ফেরেশতা এবং ধর্মীয় রীতিনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে তাদের একটা প্রাকধারণা থাকে।

Read the rest of this entry

অন্যের ব্যাপারে সুধারনা করুন, হৃদয়ে প্রশান্তি আনুন


উৎস: ইসলাম ওয়েব ডট কম | অনুবাদ: মোঃ মুনিমুল হক | সম্পাদনা: ‘আব্‌দ আল-আহাদ

 

অন্যের কল্যাণ কামনা করার মতো হৃদয়ের প্রশান্তি দায়ক ও সুখকর অনুভূতি আর নেই। অন্যের ব্যাপারে কুধারনা করলে বা তাদের ব্যাপারে অকল্যাণ কামনা করলে এক ধরনের মানসিক চাপ এবং তার দরুন শারীরিক ক্ষতির আশংকা থাকে। কিন্তু মনের মধ্যে অন্যের কল্যাণ এবং মঙ্গল আকাঙ্ক্ষা থাকলে আমাদেরকে সেই মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে পারি। অন্যের জন্য শুভকামনা হৃদয়কে সুন্দর করে; সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে করে দৃঢ়; অন্তরকে রাখে প্রসন্ন ও হিংসার কালিমামুক্ত। নবী করীম (সা) বলেন: অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ অনুমান হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা। আর বেঁচে থাকো অন্যের দোষ খোঁজা থেকে, এবং অন্যের উপর গোয়েন্দাগিরি করা থেকে, বেঁচে থাকো (মন্দ কাজে) প্রতিযোগিতা করা থেকে, বেঁচে থাক অপরের হিংসা করা থেকে, অপরকে ঘৃণা করা থেকে এবং একে অপরকে পরিহার করা থেকে; এমনভাবে থাকো যেন তোমরা পরস্পর ভাই এবং আল্লাহ্‌র দাস। [আল-বুখারী; খণ্ড ৮, অধ্যায় ৭৩, হাদীস নং ৯২] আমরা মুসলমানরা যদি এই হাদীসের শিক্ষা মেনে চলতাম, তবে আমাদের শত্রুরা কখনোই তাদের কুখ্যাত “ডিভাইড অ্যান্ড রুল” নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের বিভক্ত করতে সক্ষম হতো না।

 

অন্যের জন্য দোআ করা: বিভিন্নভাবে অন্যের মঙ্গলকামনা করা যায়। সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো একে অপরের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দো‘আ করা। নাবী করীম (সাঃ) সর্বদা তার উম্মতের জন্য আল্লাহ্‌র নিকট দো‘আ করতেন।

Read the rest of this entry

উপদেশ দান ও অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা


আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

 

আন নাসীহা বা নসীহত শব্দের অর্থ হল: উপদেশ দেয়া, কল্যাণ কামনা করা। যার কল্যাণ কামনা করা হয় তাকেই উপদেশ দেয়া হয়। এ অধ্যায়ে নসীহত অর্থ হল, কল্যাণ কামনা। নসীহতের বিপরীত হল: ধোঁকাবাজী, প্রতারণা, খেয়ানত, ষড়যন্ত্র, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি।

মানুষের বিবাদ মমাংসা করাও একটি নসীহত। আল্লাহ তা’আলা বলেন: ‘মুমিনগণ পরস্পর ভাই অতএব, তোমাদের ভাইদের মধ্যে সংশোধন-মীমাংসা করে দাও’। (সূরা আল হুজুরাত, আয়াত: ১০) আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে নূহ আলাইহিস সালামের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, নূহ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন : ‘আমি তোমাদের উপদেশ দেই ও কল্যাণ কামনা করি’। (সূরা আল আরাফ, আয়াত : ৬২) আল্লাহ তাআলা আল কুরআনে নবী হূদ আলাইহিস সালাম-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। হূদ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: ‘আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত কল্যাণকামী- উপদেশ দাতা’। (সূরা আল আরাফ, আয়াত : ৬৮)

 

উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:

এক. ঈমানদারগণ একে অপরের ভাই। তাই তারা অবশ্যই পরস্পরের কল্যাণ কামনা করবে। এক ভাই তার অপর ভাইয়ের জন্য অকল্যাণ কামনা করে না বা করতে পারে না কখনো।

দুই. সত্যিকার ভ্রাতৃত্ব হবে দীনি ভ্রাতৃত্ব। এটি রক্ত সম্পর্কীয় ভ্রাতৃত্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত সম্পর্কীয় ভ্রাতৃত্বের মধ্যে যদি দীন না থাকে তবে সেটা আল্লাহর কাছে কোন ভ্রাতৃত্ব বলে স্বীকৃতি পায় না।

তিন. মুসলিমরা যখন একে অপরের ভাই, তখন তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। এটা কল্যাণকামিতার একটি দিক।

চার. সকল নবীই মানবতার কল্যাণ কামনা করেছেন। এ জন্য কল্যাণকামিতাই হল আসল ধর্ম। 

Read the rest of this entry

জিজিয়া নিয়ে মিথ্যাচার – এবং কিছু কথা


লিখেছেন –  শেখ ফরিদ আলম

‘জিজিয়া’– ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের জন্য এমন এক ব্যবস্থা যা তাদের জান, মাল, ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা করে।এই ব্যবস্থা এতটাই সুন্দর যে, যে কেউ নিরপেক্ষভাবে জিজিয়া সম্পর্কে জানবে সেই এতে মুগ্ধ না হয়ে পারবে না।জিজিয়া নিয়ে ইংরেজ ঐতিহাসিকদের মিথ্যাচারে পা দিয়ে অনেকেই এটাকে খুব খারাপ ব্যবস্থা এবং অমুসলিমদের উপর অত্যাচার বলে মেনে নিয়েছেন।এবং অনেকে এও মনে করেন যে জিজিয়া হল জবরদস্তি অমুসলিমদের মুসলিম করার জন্য। প্রসঙ্গত, ইসলাম গ্রহনে জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের কোন স্থান নেই। আল্লাহ বলেন, ‘ধর্মে বল প্রয়োগের কোনো স্থান নেই। সঠিক পথ প্রকৃতই ভুল পথ হতে পৃথক। যে শয়তানে অবিশ্বাসী এবং আল্লাহতে বিশ্বাসী সে বাস্তবিকই এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙে না। আল্লাহ সবার কথা শোনেন। তিনি সবকিছুই জানেন’। (সুরা বাক্কারাহ/২৫৬) জিজিয়া নিয়ে কিছু বলার আগে গোয়েবলসের একটা বাণী শুনুন। তিনি বলেছেন, ‘একটা মিথ্যা কথা যদি বহুজনের কাছে বহুবার বলা যায় তাহলে সেটাই সত্যে পরিণত হয়ে যায়’।আর জিজিয়ার ব্যাপারটা নিয়েও ঠিক তাই হয়েছে ভারত তথা পাশ্চাত্যের দেশ গুলোতে।

Read the rest of this entry

ঈর্ষা


রেহনুমা বিনত আনিস

 সা’দ চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে দেখতে পেল মায়া ড্রয়িংরুমের জানালার সামনে উদাস ভঙ্গিতে বসে আছে- রাতের অন্ধকারের পটভূমিতে টেবিল ল্যাম্পের আলোয় পরীর মত লাগছে ওকে। সোফায় বসে পা দু’টো একটা মোড়ার ওপর তুলে দেয়া, দু’বাহু পরস্পরকে জড়িয়ে মুকুটের মত ধারণ করে আছে ওর প্রিয় মুখটা, পাশে টেবিলের ওপর একটা বই খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। বৌটাকে এভাবে একা বসে থাকতে দেখে দুনিয়াদারী কাজকর্ম সব ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে সা’দের। একটা মাত্র বৌ, তাও নতুন- কত, সবেমাত্র পনেরো বছর হোল, ওর তো ইচ্ছে মায়ার সাথে অনন্তকাল কাটানোর- কিন্তু একসাথে থাকা হচ্ছে কই? কাজ থেকে অবসরই যে মিলেনা!
সা’দের শব্দ পেয়ে হাসিমুখে উঠে আসে মায়া, ‘আসসালামু আলাইকুম!’
এ কি? ওর মুখে হাসি কিন্তু চোখের কোণে চিক চিক করছে দু’ফোঁটা অশ্রু। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে সা’দের। সে অস্থির হয়ে ওঠে, ‘মায়া, আমি কি তোমাকে কোনভাবে কষ্ট দিয়েছি?’
‘সে কি? হঠাৎ এ’কথা কেন?’, অবাক হয় মায়া।
‘তোমাকে কেউ কিছু বলেছে?’
‘কে আবার আমাকে কি বলবে?’
‘কোথাও কোন দুঃসংবাদ পেয়েছ?’
‘তুমি হঠাৎ এমন জেরা করা শুরু করলে কেন? কোন সমস্যা?’, কিছুই বুঝতে পারেনা মায়া।
‘তোমার চোখে জল কেন?’
‘কি!’, আশ্চর্য হয় মায়া, আঙ্গুল দিয়ে চোখের কোণ পরখ করে লজ্জা পেয়ে যায়, ‘ও কিছু না, তুমি খেতে এসো’।
সা’দের মনের ভেতর খচখচ করে। খেতে বসে বার বার মায়াকে বলে, ‘অ্যাই কি হয়েছে বলনা! তুমি কাঁদছিলে কেন?’
মায়াও ভীষণ লজ্জা পেয়ে বার বার বলে, ‘আমি কাঁদছিলাম না’।
সা’দ জানে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে মায়ার ভীষণ আপত্তি। সে সবসময় পরিবারের সবাইকে ছায়া দিয়ে, মায়া দিয়ে বেঁধে রাখতে চায়, কিন্তু নিজের সমস্যাগুলো কারো সামনে তুলে ধরতে চায়না, ওর সামনেও না। তাই তো এতবার করে জিজ্ঞেস করা।

Read the rest of this entry

পাউরুটি কী পেলো?


লিখেছেন: রাহনুমা সিদ্দিকা

 কনক ওর আম্মুর সাথে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটাতে এসেছে। ছোটবেলায় কনক করতো কী, জানো? যা দেখতো তা-ই কিনতে চাইতো- কিছু একটা দেখলেই বায়না করা শুরু করতো-

- রাহাত ভাইয়ার দুইকাঁটাওয়ালা পেনসিল আছে- আমারও লাগবে আম্মু উঁ উঁ…

- ওটা দুইকাঁটাওয়ালা পেনসিল না, ওটাকে পেনসিল কম্পাস বলে কনক। ও দিয়ে অনেক কিছু আঁকা যায়। কিন্তু তুমি এখনও ছোট্ট, আম্মি। ওটার ধারালো কোণা আছে, দেখছো না? আঁকতে গেলে চোখে লেগে যেতে পারে। আরেকটু বড় হও, কিনে দেবো।

- না আমার লাগবে উঁ উঁ…
আবার একটু পর হয়তো একটা বারবি ঘড়ি দেখলো- আড়চোখে আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলতো- আমার গরে শুদু নীল গড়ি। গুলাপী গড়ি কত সুন্দর। রাইয়ানের বারবি গড়ি আছে, আমার বুজি থাকতে নেই? আম্মু, শুনছো?

Read the rest of this entry

তাই স্বপ্ন দেখবো বলে আমি দু’চোখ পেতেছি


স্বপ্নচারী আব্দুল্লাহ

 আমরা একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের একটা সময় অতিক্রম করছি এখন। সময়টা কঠিন যাচ্ছে। এমন কঠিন সময় হয়ত যুগে যুগেই নির্দিষ্ট বিরতি পর পর আসে। যুগের বিচার করলে আমাদের চলে না। আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগে এই পৃথিবীতেই ঘটে গিয়েছিলো নারকীয় বিশ্বযুদ্ধ। হানাহানি-খাদ্যমন্দা-ক্ষমতা দখলের লড়াইতে ডুবে ছিলো সমগ্র বিশ্ব। অনেকেই অনেক অর্জন করেছে, তারপর বছর বিশ যেতে না যেতেই আবার আরো বড় ভয়ংকর সময় — সেই ক্ষমতা খাটানোর যুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিকে বিষাক্ত করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রাণনাশ করে দিয়ে আমেরিকান জাতিগোষ্ঠী বিশ্বকে কব্জা করেছে আপন কৌশলে। অথচ তার দুইশ বছর আগেও ব্রিটিশ সূর্য ডুবতো না কোথাও। এমন আরো অজস্র চোখ দিয়ে দেখা যাবে “সময়”গুলো। আরেকটু উপরে উঠি? যখন সভ্যতাগুলো হারিয়ে গেলো। ফারাওদের মিশর, মেগাস্থিনিস, ব্যাবিলন, ইনকা, মায়া, পাল সাম্রাজ্য, সেনদের রাজত্ব, অটোমান এম্পায়ার -অমন শত শত সভ্যতা পাওয়া যাবে হয়ত যদি হিসেব করি এই সৃষ্টির শুরু থেকে। কিন্তু তাদের অমন হিসেব করে আমাদের লাভ নেই। সভ্যতা টেকে কয়েকশত বছর। আমরা বাঁচি খুব বেশি হলে অর্ধশত বছর।

আমরা বাস করছি বিদ্যুত সভ্যতায়। মাত্র দু’তিনশ বছর আগে উদ্ভাবিত বিদ্যুত দিয়ে গত পঞ্চাশ বছরে প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েই মাটিতে আমাদের আর পা পড়েনা। আমরা বুর্জ আল আরব বানাই, আমরা বানাই পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, মনোহারি সিয়ার্স টাওয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি, আইফেল টাওয়ার। আমরা দম্ভে আর বড়ত্বে গলা ফুলিয়ে দিই। অথচ প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চে যখন কয়েকটা হিমালয় ডুবে যাবে শুনি — মনে হয়না ওই উঁচু হিমালয়, আর অমন গভীর খানা-খন্দটা কে তৈরি করলো! প্রকৃতি নামের শব্দটা দিয়ে লেখকমহল চালিয়ে দেন অগভীর চিন্তার পাঠকদের মনকে বাঁকিয়ে দেবার জন্য — আমরাও সন্তুষ্ট হই। কিন্তু অমন পিরামিড বানালেন যারা, আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর বা পিসার হেলানো মিনার যারা বানালেন — তারা কোথায় চলে গেলেন? মরে গেলেন তো কেন আর কোন চিহ্নই রইলো না তাদের? কত বেশি দুর্বল সেই সভ্যতার এই ধারক ও বাহকদল — কতনা ক্ষণস্থায়ী এই বিপুল দম্ভযজ্ঞ, সৃষ্টিযজ্ঞ আর ক্ষমতাযজ্ঞ!

Read the rest of this entry

যৌতুক প্রথাকে বন্ধ করতে না পারলেও ঘৃণা করতে তো পারবো…!!!


লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

একটা খবর দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেল। একজন মহিলাকে বিয়ের পর যৌতুকের জন্য এতটা অত্যাচার করা হয়েছিল যে, সে বাধ্য হয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিল শ্বশুর বাড়িতে। কিন্তু তাতেও তাদের মন ভরেনি। অত্যাচারের মাত্রাও কমেনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজের গা’য়ে আগুন দিয়েছেন সেই মহিলা। বর্তমানে যৌতুকের নামে কত নারীকে স্বাভাবিক সুখ থেকে বঞ্চিত করা হয়, অকারণে অত্যাচার করা হয়, পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়, আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হয়, ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তার হিসেব করা কঠিন। এটা অনেক বড় সমস্যা এবং নারীদের সাথে চরম অন্যায়। সবথেকে খারাপ লাগে যখন দেখি, মানুষ পণ দেওয়া নেওয়াকে খারাপই মনে করেনা। এটাকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে। পণ আর কেউ চোরের মতো চাই না, বুক ফুলিয়ে চাই। কত বেশি হারামের টাকা ঘরে তুলতে পারলাম তারও প্রতিযোগিতা চলে।

শুধু যে ছেলেপক্ষ যৌতুক চাই বলে দিতে হয় তা নয়। বর্তমানে সমাজে অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে যৌতুক প্রথা। মেয়েপক্ষও এটাকে নিজেদের জন্য ফরয মনে করে ফেলেছেন। যেন দিতেই হবে, না দেওয়াটা অন্যায়। অনেকে আবার বলেন, আমাদের কোন ডিমান্ড নাই। শখ করে যা দেওয়ার দেবেন। শখ করে দিতে পারবেনা এমন বলছিনা কিন্তু শখটাও এমন হওয়া উচিত না যা মেয়ের বাবার মেরুদন্ডই ভেঙ্গে ফেলে। ধারদেনায় ডুবিয়ে ফেলে। কত পরিবারকেই মেয়ের বিয়ে দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে যেতে দেখেছি। জমি জায়গা বিক্রি করে, চেয়ে, চাঁদা তুলে বিয়ে দিতেও দেখেছি অনেককেই। অথচ, এমন হওয়া উচিত ছিলনা। যৌতুকের কারণে বিয়ে সমাজে কঠিন হয়ে গেছে। আবার এমন লোকও দেখা যায় যারা মেয়ের বিয়েতে যা দিয়েছে তার থেকেও বেশি ডিমান্ড করে ছেলের বিয়েতে। আর মেয়েকে দিয়ে থাকলে ছেলের জন্য চাইতে কোন রকমের লজ্জা বা সংকোচও করেনা।

Read the rest of this entry

পর্নোগ্রাফি, কামসূত্র আর বিকৃত যৌনাচার যেভাবে পরিবারগুলোকে ধ্বংস করছে


লিখেছেন – সাফওয়ান

​​পশ্চিমা ইন্টেলেকচুয়ালরা এই সমাজটাকে “হাইপার সেক্সুয়ালাইজড” সমাজ হিসেবে বলে থাকেন। চিন্তা করে দেখুন, টুয়েন্টি-টুয়েন্টি খেলা দেখতে বসলেন, তাতে কমার্শিয়াল দেখছেন মোবাইল হ্যান্ডসেটের, তাতেও নারী-পুরুষ চুম্বনদৃশ্য। আপনি যদি টেলিভিশন থেকে দূরেও থাকেন, বিলবোর্ডে, পোস্টারে, ফেসবুকের অ্যাডগুলোতে আপনি যথেষ্টই যৌনতা দেখতে পাবেন। পুরুষ-নারীর কামকে জাগিয়ে এসব পণ্য ক্রয় বিক্রয় হয়। পশ্চিম নিয়ন্ত্রিত বিকৃত সংস্কৃতি ও বলিউডেরর নির্লজ্জ-অশ্লীল সংস্কৃতি প্রভাবে দেশের সংস্কৃতিও এখন বিকৃত, অসুস্থ হয়ে উঠেছে।

পশ্চিমারা নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে তুলে এনেছিলো অনেক আগেই। যদিও গত কয়েক শতাব্দী আগেও যে যৌনতার বিষয়গুলো এতটা প্রকট ছিলো না তা আমাদের স্বাভাবিক জ্ঞান ও চোখেই আমরা জানি। নারীর মাঝে জাগিয়ে তুলেছে এমন চিন্তা যে টিকে থাকতে হলে পুরুষের কাছে শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় হতেই হবে… তারাও সেই চেষ্টা করেছে উন্মাদের মতন। পুরুষের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে নারীর শারীরিক সৌন্দর্য। ফলে, সেই পুরুষ-নারীদের কাছে ব্যক্তি জীবনে, বিবাহিত জীবনের স্বাভাবিক শারীরিক আনন্দগুলো আর সাধারণ লাগে না। তখন তারা কুরুচিপূর্ণ উপায় বের করে যৌনতাকে মেটাতে চায়। শরীরের যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ব্যবহার করেও তাদের খায়েশ মেটে না। তারা পর্নোগ্রাফিতে এইসব বিকৃত যৌনাচারকে সহজ করে আনতে চায়, কেননা স্বাভাবিক কোন কিছুই তাদের কাছে আর স্বাভাবিক নেই। যে শারীরিক বিষয়গুলো মানুষকে তৃপ্তি দেয়ার কথা, সেগুলোই তাদেরকে নিকৃষ্ট বিকৃত জন্তুতে পরিণত করে। শেষ পর্যন্ত তারা নারী-পুরুষ ছেড়ে সমলিঙ্গে আনন্দ খুঁজে, পশুদেরকেও ছাড়ে না (আস্তাগফিরুল্লাহ)

Read the rest of this entry

ইসলাম : শান্তি ও মুক্তির দ্বীন

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা শেখা

রিয়াদুস সলিহীন

সহীহ ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস সংবলিত এবং বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় বহুল প্রচারিত গ্রন্থ 'রিয়াদুস সালেহীন'

আলোকিত শান্তির বাণী

ইসলামি স্কলার এবং চিন্তাবিদদের উদ্ধৃতি

বাঙলা

আফসার নিজাম সম্পাদিত : চিন্তাশীল পাঠকের মননশীল সৃজন

৭ শতকের প্রজন্ম

"চিন্তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা সে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারে"

সরল পথ

'প্রচার কর, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়'

Its all about ISLAM

Its all about ISLAM

‌সব কটা জানালা খোলে দাও না

মুনিম সিদ্দিকীর ব্যাক্তিগত ব্লগ

দ্বীনের পথে রাত্রি দিন হাঁটতে হয়।

আল্লাহ সাথে থাকেন অষ্টপ্রহর!

সরল পথ একটিই

"নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ । সুতরাং এরই অনুসরণ কর এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন ক'রে ফেলবে ।" (কুরআন, ৬:১৫৩)

আজাদ কাশ্মীর জামান

পৃথিবীর যা কিছু কল্যাণকর যা কিছু প্রত্যাশায় ... হোক তা সার্বজনীন।

আলোর পথে

আলোকিত চিন্তা-ভাবনা আর অনুভুতির সংগ্রহশালা

চলো পাল্টাই

A topnotch WordPress.com site

ধর্মগ্রন্থ

Just another WordPress.com site

PDF Islamic Book

In the Name of Allah, Most Benefcient, Most Merciful.

AL BASAIR ISLAMIC MEDIA

Every muslim should be the media for Islam

dineralo

**সত্যের অনুসন্ধানী.....

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 52 other followers

%d bloggers like this: