দু’আ কবুলের গল্প


বৃদ্ধ মানুষটি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন মসজিদের সামনে!

এত রাতে কোন মানুষজনের ঘরে গিয়ে তাঁদের কষ্টের কারণ হতে চান নি তিনি। সেকারণেই চেয়েছিলেন মসজিদেই কাটিয়ে দিবেন রাতটুকু। নফল নামাজ আর কিছুটা ঘুমিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দেয়া যেত।

কিন্তু বাধ সাধলেন মসজিদের খাদেম। কোন এক অজানা কারণে তাঁকে পছন্দ করলেন না খাদেম। স্রেফ মানা করে দিলেন খাদেম– মসজিদে রাত কাটানো যাবে না। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে খাদেম সাহেব সেই কথাটি-ই বেশ উঁচু গলায় কথা বলে দিলেন বৃদ্ধকে।

মরমে মরে গেলেন বৃদ্ধ মানুষটি। মসজিদ লাগোয়া রুটির দোকানে মধ্য বয়স্ক একজন বিশাল তন্দুরে রুটি বানাচ্ছেন। খাদেমের চড়া গলা তাঁর কানে পর্যন্ত গেল। রুটি বানানো বন্ধ রেখে মধ্যবয়স্ক মানুষটি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ মানুষটির কাছে।

– আসসালামু আলাইকুম। পথিক বুঝি আপনি? আপনার আপত্তি না থাকলে আজকের রাত আমার সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন আপনি। আমি ওপাশের দোকানে রুটি বানাই, একটু কষ্ট হয়তো হবে আপনার।
খুব খুশি হলেন বৃদ্ধ মানুষটি। রুটি বানানো লোকটির সাথে গিয়ে তার ঘরে উঠলেন। বৃদ্ধের শোয়ার আয়োজন করে দিয়ে আবার রুটি বানাতে লেগে গেলেন মানুষটি। বিছানায় আধশোয়া বৃদ্ধ খেয়াল করছিলেন- কাজের ফাঁকে ফাঁকে কি যেন পড়ছেন তাঁকে আশ্রয় দেয়া মানুষটি।

বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন,

– কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ভাই? রুটি বানাতে বানাতে আপনি কিছু পড়ছেন মনে হচ্ছে। দয়া করে বলবেন কি পড়ছেন?
– তেমন কিছু না, ইস্তিগফার (মহান আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করছি।
– এই যে কাজের ফাঁকেও একটানা ইস্তিগফার করছেন, কোন লাভ কি হয়েছে আপনার?
– জ্বী জনাব। আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনে হয় এই ইস্তিগফারের কল্যাণেই মহান আল্লাহ এখন পর্যন্ত আমার যাবতীয় দোআ কবুল করেছেন; শুধু একটি দোআ ছাড়া।
– আপনার কোন দোআটি কবুল করেন নি আল্লাহ পাক?
– আমাদের এখান থেকে অনেক দুরে আল্লাহর প্রিয় এক বান্দা থাকেন। জ্ঞান-গরিমা-মেধা-যুক্তি সবকিছুতেই আল্লাহ পাকের রহমতপ্রাপ্তদের একজন তিনি। আমার খুব শখ – একবার যদি তাঁর সাথে দেখা করতে যেতে পারতাম। কিছুটা সময় যদি কাটাতে পারতাম সেই জ্ঞানী বান্দার সাথে। আল্লাহ পাক আমার এই প্রার্থনাটি-ই শুধু কবুল করেন নি এখনও। নিশ্চয়ই কবুল করবেন তিনি। আমার কোন গুনাহের কারণে হয়তো এখনো কবুল হচ্ছে না।

বৃদ্ধ মানুষটির চোখ ভারী হয়ে এলো কান্নায়। ধরা গলায় কান্না চেপে জিজ্ঞেস করলেন তিনি,

– আপনি কি আহমদ ইবনে হাম্বলের কথা বলছেন ভাই?
– জ্বী জনাব। আমি শায়খুল ইসলাম, জগত বিখ্যাত মুজতাহিদ ও মুহাদ্দীস ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল এর কথাই বলছি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি অবিরাম রহমত বর্ষণ করুক।

বৃদ্ধ মানুষটি এবার উঠে এসে পাশে দাঁড়ালেন-

“সেই পবিত্র স্বত্তার কসম- যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আপনার ইস্তিগফার আল্লাহ পাক শুধু কবুল-ই করে নি, উপরন্তু আমাকে এই দূর দেশে, অচিন শহরে, মধ্য রাতে – আপনার ঘর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি-ই মহান আল্লাহ তাআ’লার সেই অধম বান্দা – আহমাদ ইবনে হাম্বল!”

“….আমি মহান আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি।”

[সুত্রঃ মানাকিব আল ইমাম আহমাদ]

আমার অতি পছন্দের একজন মানুষ। রাহিমাহুল্লাহ। পুনঃ প্রকাশিত।

Collected From Brother
Mohammad Javed Kaisar

Posted in ইসলাম, উপদেশ, কচিকাচাদের জন্য, গল্প, গল্প নয় সত্যিই, দু'আ | মন্তব্য দিন

রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর দাওয়াত


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাষ্ট্রক্ষমতার লোভে ইসলাম প্রচার করেননি। মক্কায় তাঁকে রাষ্ট্রক্ষমতা অফার করা হয়েছিল। তিনি তা উপেক্ষা করে মানুষকে ইসলামের দা’ওয়াহ দিতে থাকেন। ১৩ বছর ইসলামের দা’ওয়াহ দেয়ার পর তিনি অটোম্যাটিকালি রাষ্ট্রনায়ক হয়ে যান।
.
আয়রনিটা হলো ১৩ বছর তিনি যাদের মাঝে দা’ওয়াতি কাজ করলেন, সেই মক্কাবাসীরা তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক মেনে নেয়নি। সেনাবাহিনী এনে সেটা বিজয় করতে হয়েছিল। বরং মদীনা থেকে আসা সাহাবাগণ তাঁর থেকে ইসলাম শিখে মদীনায় গিয়ে প্রচার করতেন। সেখানে মোটামুটি ১ বছরের দা’ওয়াতি কাজের পরই রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ চলে আসে। আর অনারব বাদশাহদের কাছে দা’ওয়াহ হতো তিন দিন। চিঠি পাঠানো হতো ইসলামের দা’ওয়াহ দিয়ে। গ্রহণ না করলে সেনাবাহিনী যেতো। ৩ দিন দা’ওয়াহ দিত। তারপরেও কাজ না হলে ক্বিত্বাল শুরু হতো।
.
আজকে আমাদের দা’ওয়াহ এত মিসকীন হয়ে গেল যে ১০০ বছরের দা’ওয়াহর পরও সেই পরিবেশ আসে না। হয় আমরা নবীর তরিকায় দা’ওয়াহ দিচ্ছি না যাতে যোগ্য লোক তৈরি হতে পারে। অথবা যোগ্য লোক তৈরি হয়ে বসে আছে যাদেরকে পরের স্টেপে কাজে লাগানো হচ্ছে না।
.
মক্কার মুশরিকদের অফার করা ক্ষমতা আর মদীনার মুসলিমদের অফার করা ক্ষমতার মাঝে পার্থক্য আছে। মক্কাবাসীদের অফারের মূলকথা ছিল কম্প্রোমাইজ। আমরা তোমাকে ক্ষমতা দিচ্ছি, তুমি ইসলাম প্রচার বন্ধ করো। আর মদীনাবাসীদের অফারের মূলকথা ছিল, আমরা আপনাকে ক্ষমতা দিচ্ছি, আপনি এটা ব্যবহার করে ইসলামকে বিজয়ী করুন। মক্কাবাসীরা নারী আর সম্পদও অফার করেছিল। রাসুলুল্লাহ তা নেননি। কারণ তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কম্প্রমাইজেশান। পরে আল্লাহর নির্দেশে চারটির বেশি বিয়ে করেছেন। এতে কাফিররাই ইসলামের সাথে কম্প্রোমাইজ করেছে। জামাতার প্রচারিত ধর্মের সাথে শত্রুতা থামিয়ে দিয়েছে।
.
মানুষ এই দুটো আলাদা বিষয় গুলিয়ে ফেলে। বিভিন্ন জায়গায় কুফফারদের সাথে কম্প্রোমাইজ করে ‘মুসলিম’রা ক্ষমতায় বসছে। তাদেরকে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা হলো সেই মক্কাবাসীদের অফার করা ক্ষমতা। আর নববী তরিকায় যারা ইসলামের দা’ওয়াহ দেয় তাদেরকে লেকচার দেয়া হয় “মসনদের মোহে ইসলাম প্রচার কোরো না।”
.
জনৈক ভাই যথার্থই বলেছেন যে আমাদের ইসলামের জ্ঞান এখনো আসল জিনিসটার শোরুম হয়ে উঠতে পারেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা স্পেয়ার পার্টসের জাঙ্কইয়ার্ড হয়ে আছে।

Collected From Brother
Ibn Mofassel

Posted in ইসলাম, উপদেশ, দাওয়াত | মন্তব্য দিন

যে ৯টি কারণে নিয়মিত পেঁপে খাওয়া উচিত


papaya-seeds-uses.jpg

ডাঃ মাজহারুল হক ভূঞা সজীব

পেঁপে আমাদের দেশের খুবই পরিচিত একটি ফল বা সবজি। একে ফল বা সবজি দুটোই বলা যায়। কাঁচা অবস্থায় পেঁপে সবজি, ভর্তা, ভাজি বা রান্না করে খাওয়া যায়। আর পাকা পেঁপে তো অতীব রসালো ও সুস্বাদু ফল।  প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম থাকে। এছাড়াও পেঁপে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো শুধুমাত্র শরীরের চাহিদাই মেটায় না, বরং রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে। এটি অজীর্ণ রোগ, কৃমির সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা ও ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে। চলুন পেঁপের আরো কিছু উপকারী গুণ জেনে নেই-

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে পেঁপে বেশ কার্যকর:  ওজন কমাতে খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখা যায়। পেঁপের ক্যালরির পরিমাণ খুব কম। এছাড়া পেঁপেতে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অনন্য।

২. হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতেও পেঁপে খাওয়া যায়। আমাশয় ও পেট ফাঁপা দূর করেতেও পেঁপে সাহায্য করে।

৩. চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে: পেঁপের ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি রোগ প্রতিরোধেও পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

৪. রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে: দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেঁপে জোরদার ভূমিকা রাখে । নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরে থাকে।

৫. ডায়াবেটিস রোগের পথ্য: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁপে বেশ উপকারী ফল। ডায়াবেটিস রোগ এড়ানোর জন্যও পেঁপে খাওয়া যেতে পারে।

৬.তারুণ্য ধরে রাখে: পেঁপেতে থাকা বিভিন্ন উপাদান বয়সের ছাপ লুকিয়ে রাখে। নিয়মিত পেঁপে খেলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার প্রবণতা কমে যায়।

৭. ক্যানসার প্রতিরোধ করে: পেঁপে কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৮. হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে: পেঁপে ভিটামিন এ, সি, ই এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এর চমৎকার উৎস। এই খাদ্য উপাদানগুলো কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সাহায্য করে।  ফলে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমে। এছাড়া পেঁপেতে থাকা আঁশ রক্তের উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। এতে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।

৯. চুলের যত্নে বেশ কার্যকর: চুলের যত্নে পেঁপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টক দইয়ের সাথে পেঁপে মিশিয়ে চুলে মাখলে চুলের গোড়া শক্ত হয় ও চুল ঝলমলে হয়।

 

Posted in সুস্বাস্থ্য | Tagged , | মন্তব্য দিন

সাবধান বিদ’আত থেকে !


১.
মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো হে নবী! আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কথা কি তোমাদের বলব? তারা হচ্ছে এমন লোক, যাদের যাবতীয় চেষ্টা সাধনায় দুনিয়ার জীবনে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে আর তারাই মনে মনে ধারণা করে যে, তারা খুবই ভালো কাজ করছে’ [আল ক্বা’হাফ/১০৩-১০৪]

২.
মুহাম্মাদ (সা.) বলে্‌ন, ‘তোমরা (দ্বীনে) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ’আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদ’আতই ভ্রষ্টতা’ [আবু দাউদ, তিরমিযী] নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে, ‘আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে (নিয়ে যায়)’। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল… যা তার মধ্যে (দ্বীনে) নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য’ [বুখারী ও মুসলিম] মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যাপারে আমাদের কোন নির্দেশ নেই তা বর্জনীয়’।

৩.
ইমাম মালেক স্বীয় ছাত্র ইমাম শাফেঈ -কে বলেন – ‘রাসুলুল্লাহ সা. ও তাঁর সাহাবাদের সময়ে যেসব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসেবে গৃহীত ছিলনা, বর্তমানকালেও তা দ্বীন হিসেবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভালো কাজ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহর রাসুল সা. স্বীয় রিসালাতে দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (নাউযুবিল্লাহ)। [আল-ইনসাফ, ৩২ পৃষ্ঠা / মিলাদ প্রসঙ্গ, ১৪ পৃষ্ঠা]

৪.
‘যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং তা উপেক্ষা করবে সেই, যে নিতান্ত হতভাগ্য’। [সুরা আ’লা/১০-১১]

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন

শ্রমিক অধিকার


contract-labour

✿ আবু হুরাইরা, ইবনে উমার, আনাস এবং জাবের (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘মজুরকে তার ঘাম শুকাবার পূর্বে তোমরা তার মজুরী দিয়ে দাও’। [বাইহাক্বী, ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে/১০৫৫]

✿ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি……. যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে নেয়…..’। [হাকেম, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে/১৫৬৭]

✿ আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিয়ামাতের দিন আমি তিন ব্যক্তির প্রতিবাদী। আর আমি যার প্রতিবাদী হবো অবশ্যই তাকে পরাজিত করব। তন্মধ্যে…… তৃতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন মজুর খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরোপুরি কাজ নিল; অথচ সে তার মজুরি (পূর্ণরুপে) আদায় করল না’। [আহমাদ, বুখারী/২২২৭,২২৭০, ইবনে মাজাহ/২৪৪২]

Posted in অধিকারীর অধিকার, ইসলাম | মন্তব্য দিন

ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট


d3c504038228d93224ec0ed42cf491dc

লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

ইসলামের যে সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট গুলো যুগে যুগে মানুষকে মুগ্ধ করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইসলাম শুধু (প্রচলিত) ইবাদতকেন্দ্রিক ধর্ম নয়। অনান্য ধর্মের ক্ষেত্রে খেয়াল করবেন এখন শুধু উপাসনার পদ্ধতি এবং উতসব গুলোই টিকে আছে। এসবের বাইরে খুব কম নির্দেশ আদেশ আছে। কিন্তু ইসলাম ভোরে ওঠা থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই এমনকি পেচ্ছাপ-পায়খানা বা স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা অথবা পশু পক্ষীর সাথে ব্যবহারেও আদব কায়দা, নিয়ম কানুন শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম আসলে (প্রচলিত) ধর্ম নয়, ইসলাম হল দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা। ইসলামে ‘ধর্ম আলাদা পরিবার, ব্যবসা, লেনদেন ইত্যাদি আলাদা’ এরকম কোন থিওরি নাই। বরং ধর্ম ও দুনিয়া ইসলামে একই। সকল ক্ষেত্রেই, সবকিছুতেই ইসলাম কিছু উপদেশ-নির্দেশ দিয়েছে যা প্রত্যেক মুসলমানকে মেনে চলতেই হবে। আর এটা ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট। আজ সকালে শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানীর হাদীস সম্ভার বইটি পড়তে গিয়ে কয়েকটা চমৎকার হাদিস পড়লাম। যা মেনে চললে আমাদের সকলের জীবনই আলোকিত হবে ইন শা আল্লাহ!

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন –

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের সন্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই তার আত্মীয়তার বন্ধন আটুট রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে’। [বুখারী/৬১৩৮]

‘ততক্ষন পর্যন্ত তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে’। [বুখারী/১৩; মুসলিম/৪৫]

‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, পাপ করলে সাথে সাথে পূণ্যও করো, যাতে পাপ মোচন হয়ে যায় এবং মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করো’। [আহমাদ, তিরমীযি, হাকেম, সহীহুল জামে/৯৭]

‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম বান্দা হল সেই, যার চরিত্র সুন্দর’। [ত্বাবারানী, সহীহুল জামে/১৭৯]

‘সবার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবার চেয়ে সুন্দর এবং তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে নিজ স্ত্রীদের নিকট উত্তম’। [সহীহুল জামে/১২৩২]

‘‘জান্নাত অনিবার্যকারী কর্ম হল, উত্তম কথা বলা, সালাম প্রচার করা এবং অন্ন দান করা’। (সঃ তারগীব/২৬৯৯)।

‘তোমরা ধারণা করা থেকে দূরে থাক। কারণ, ধারণা সবথেকে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা জাসুসি করো না, গুপ্ত খবর জানার চেষ্টা করো না, পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ রেখো না, একে অন্যের পিছনে পড়োনা, তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই-ভাই হয়ে যাও’। [বুখারী, মুসলিম, সহীহুল জা’মে/২৬৭৯]

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ঐ ব্যাক্তি সবচেয়ে খারাপ, যাকে মানুষ তার অশালীন কথার ভয়ে ত্যাগ করেছে’। [আবু দাউদ; সহীহ; হাদীস নং ৪৭৯১]

‘সে মুমিন নয়, যে ভরপেট খায় অথচ তার পাশেতার প্রতিবেশী উপোস থাকে’। [ত্বাবারানী; হাকেম; সহীহুল জা’মে/৫৩৮২]

‘তোমরা সকল ধর্মের মানুষদেরকে দান কর’। [ইবনে আবী শাইবা; সিঃ সহীহাহ/২৭৬৬]

‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী’। [সিলসিলাহ সহীহাহ/৪২৬]

‘আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশির সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়’। [আহমাদ, সহীহুল জামে/৩৭৬৭]

 

Posted in আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার | মন্তব্য দিন

আইয়ুব (আলাইহিস সালাম): বিশ্বাস এবং ধৈর্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত


Al Imran 139

আসসালামু আলাইকুম,

আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সময়ে ছোটবড় অসংখ্য বিপদের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। আল্লাহর প্রতি (মোটামুটি) বিশ্বাস থাকার পরও যখন আমাদের জীবনে এত বিপদ নেমে আসে তখন কারও কারও মনে দেখা দেয় অবিশ্বাসের হাতছানি, আল্লাহর প্রতি আস্থায় দেখা দেয় ফাটল। কিন্তু এমনটাই কি হওয়া উচিত? আসুন, এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা থেকে।

একবার ফেরেশতারা মানব জাতি, আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্য ও অবাধ্যতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তাদের মধ্যে একজন বলেছিলেন পৃথিবীতে আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তিনি ছিলেন একজন অনুগত বান্দা যিনি সর্বাবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করতেন। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর জীবনের প্রথম আশি বছর পর্যন্ত সম্পদশালী রেখেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও আল্লাহর ইবাদত কিংবা শুকরিয়া আদায় করার কথা ভুলেননি। তিনি সব সময় তাঁর সম্পদ থেকে গরীব দুঃখীদের দান করতেন।

শয়তান মনে করত, আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) এর মত এমন অনুগত কোন বান্দা থাকতে পারে না। সে ভাবতো তাঁর সম্পদই এই আনুগত্যের কারণ। তাই সে আল্লাহর কাছে এমন ক্ষমতা পাওয়ার জন্য আবেদন করল যাতে সে আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর সমস্ত সম্পদ কেড়ে নিতে পারে, যার ফলে তিনি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাবেন। কিন্তু সমস্ত সম্পদ হারিয়েও আল্লাহর প্রতি আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর আনুগত্য ছিল অপরিবর্তনীয়। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন এভাবে, সমস্ত সম্পদের মালিকই আল্লাহ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই আল্লাহর প্রতি যিনি আমাকে সম্পদ দিয়েছেন ও আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন। এটা শয়তানকে আরও ক্ষেপিয়ে দিলো।

আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর সম্পদ হারানোর পর শয়তান আরও দুবার চেষ্টা করেছে তাঁকে ইসলামচ্যুত করার জন্য, আল্লাহর কাছে তাঁর স্বাস্থ্য ও সন্তান কেড়ে নেয়ার অনুমতি চেয়ে। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেন, আমি তোমাকে তাঁর শরীরের উপর ক্ষমতা দান করব, কিন্তু তোমাকে সতর্ক করছি যাতে তুমি তাঁর আত্মা, জিহ্বা ও হৃদয়ের ধারে কাছে না যাও। কারণ, এগুলোতে লুকানো থাকে বিশ্বাসের মূল রহস্য। আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর স্বাস্থ্য ও সন্তান দুটোই কেড়ে নেয়া হল। কিন্তু তারপরও তিনি ঠিক তেমনই আচরণ করলেন, যেমনটা করেছিলেন সম্পদ হারানোর পর।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম, গল্প, গল্প নয় সত্যিই, নবীদের কাহিনী, সুখী জীবন | মন্তব্য দিন

তিনস্তরের ছাঁকনী (শিশুতোষ গল্প)


FilterKit_DSC0940

ঘটনাটি আব্বাসীয় খিলাফার স্বর্ণযুগের সময়কার। মুসলিম সালতানাতের রাজধানী বাগদাদে বাস করতেন এক জ্ঞানী ব্যক্তি যিনি তাঁর অসাধারণ জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

একদিন তাঁর পরিচিত এক লোক তাঁর সাথে দেখা করতে এসে বলতে লাগলো, “জানেন, এইমাত্র আপনার বন্ধু সম্পর্কে আমি কী শুনেছি?”

জ্ঞানী লোকটি বললেন, “দাঁড়াও। কোনো কিছু বলার আগে আমি চাই তুমি একটি ছোট্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হও। পরীক্ষাটির নাম তিনস্তরের ছাঁকনী পরীক্ষা।”

“তিনস্তরের ছাঁকনী?”

“ঠিক তাই,” জ্ঞানী লোকটি বলতে লাগলেন,“আমার বন্ধু সম্পর্কে কোনো কিছু বলার আগে তুমি যা বলতে চাও তা একটু পরীক্ষা করেনিলে খুব ভালো হবে।

সে কারণেই আমি একে তিনস্তরের ছাঁকনী পরীক্ষা বলে ডাকি।

প্রথম স্তর হচ্ছে সত্য। তুমি কী এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে যা বলতে চাইছো তা পুরোপুরি সত্য?”

“নাহ্‌,” লোকটি বললো, “আসলে আমি বিষয়টি সম্পর্কে এইমাত্র জেনেছি এবং…”

“ঠিক আছে,” জ্ঞানী লোকটি বললেন, “অর্থাৎ তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নও যে ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য কিনা।

এবার দ্বিতীয় স্তরে যাওয়া যাক। আর এই স্তরটি হলো কল্যাণ। আমার বন্ধু সম্পর্কে তুমি যা কিছু বলতে চাইছো তার মাঝে কী কোনো কল্যাণ রয়েছে?”

“নাহ্‌, বরং তা…”

জ্ঞানী লোকটি বললেন, “অর্থাৎ তার সম্পর্কে তুমি এমন কিছু বলতে চাইছো যাতে কোনো কল্যাণ নেই, এমনকি তার সত্যতা সম্পর্কেও তুমি নিশ্চিত নও। তারপরও তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারো। কারণ এখনো একটি স্তর বাকী রয়েছে। আর এটি হচ্ছে কার্যকারীতা।

তুমি আমার বন্ধু সম্পর্কে যা বলতে চাইছো তা কী আমার কোনো কাজে আসবে?”

“একেবারেই না।”

সবশেষে জ্ঞানী লোকটি বললেন, “ভালো কথা। তুমি আমাকে যা বলতে চাইছো তা যদি সত্যই না হয় অথবা তার মাঝে যদি কোনো কল্যাণই না থাকে কিংবা তা যদি আমার কোনো কাজেই না আসে, তবে তুমি কেনইবা আমাকে তা বলতে চাচ্ছো?”

মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম। [সূরা আল হুজুরাতঃ ১১]

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গুনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সূরা আল হুজুরাতঃ ১২]

Posted in ইসলাম, উপদেশ, গল্প, গল্প নয় সত্যিই, চেপে রাখা ইতিহাস, ব্যক্তিত্ব, সংশোধন, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার, সুখী জীবন | মন্তব্য দিন

এক মুশরিক রাজা, মুসলিম বালক ও সবর (ধৈর্য)


sabr

সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের পূর্ব যুগে একজন বাদশাহ ছিল এবং তাঁর (উপদেষ্টা) এক জাদুকর ছিল। জাদুকর বার্ধক্যে উপনীত হলে বাদশাহকে বলল যে, ‘আমি বৃদ্ধ হয়ে গেলাম তাই আপনি আমার নিকট একটি বালক পাঠিয়ে দিন, যাতে আমি তাকে জাদু-বিদ্যা শিক্ষা দিতে পারি।’ ফলে বাদশাহ তার কাছে একটি বালক পাঠাতে আরম্ভ করল, যাকে সে জাদু শিক্ষা দিত। তার যাতায়াত পথে এক পাদ্রী বাস করত। যখনই বালকটি জাদুকরের কাছে যেত, তখনই পাদ্রীর নিকটে কিছুক্ষণের জন্য বসত, তাঁর কথা বালকটির ভালো লাগত। ফলে সে যখনই জাদুকরের নিকট যেত, তখনই যাওয়ার সময় সে পাদ্রীর কাছে বসত। যখন সে পাদ্রীর কাছে আসত জাদুকর তাকে (তার বিলম্বের কারণে) মারত। ফলে সে পাদ্রীর নিকটে এর অভিযোগ করল। পাদ্রী বলল, ‘যখন তোমার ভয় হবে যে, জাদুকর তোমাকে মারধর করবে, তখন তুমি বলবে, আমার বাড়ির লোক আমাকে (কোনো কাজে) আটকে দিয়েছিল। আর যখন বাড়ির লোকে মারবে বলে আশঙ্কা হবে, তখন তুমি বলবে যে, জাদুকর আমাকে (কোনো কাজে) আটকে দিয়েছিল।’

সুতরাং সে এভাবেই দিনাতিপাত করতে থাকল। একদিন বালকটি তার চলার পথে একটি বিরাট (হিংস্র) জন্তু দেখতে পেল। ঐ (জন্তু)টি লোকের পথ অবরোধ করে রেখেছিল। বালকটি (মনে মনে) বলল, ‘আজ আমি জানতে পারব যে, জাদুকর শ্রেষ্ঠ না পাদ্রী?’ অতঃপর সে একটি পাথর নিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ! যদি পাদ্রীর বিষয়টি তোমার নিকটে জাদুকরের বিষয় থেকে পছন্দনীয় হয়, তাহলে তুমি এই পাথর দ্বারা এই জন্তুটিকে মেরে ফেল। যাতে (রাস্তা নিরাপদ হয়) এবং লোকেরা চলাফেরা করতে পারে।’ (এই দু‘আ করে) সে জন্তুটাকে পাথর ছুঁড়ল এবং তাকে হত্যা করে দিল। এরপর লোকেরা চলাফেরা করতে লাগল। বালকটি পাদ্রীর নিকটে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করল। পাদ্রী তাকে বলল, ‘বৎস! তুমি আজ আমার চেয়ে উত্তম। তোমার (ঈমান ও একীনের) ব্যাপার দেখে আমি অনুভব করছি যে, শীঘ্রই তোমাকে পরীক্ষায় ফেলা হবে। সুতরাং যখন তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তখন তুমি আমার রহস্য প্রকাশ করে দিও না।’

আর বালকটি (আল্লাহর ইচ্ছায়) জন্মান্ধত্ব ও কুষ্ঠরোগ ভালো করত এবং অন্যান্য সমস্ত রোগের চিকিৎসা করত। (এমতাবস্থায়) বাদশাহর জনৈক দরবারী অন্ধ হয়ে গেল। যখন সে বালকটির কথা শুনল, তখন প্রচুর উপঢৌকন নিয়ে তার কাছে এল এবং তাকে বলল যে, ‘তুমি যদি আমাকে ভালো করতে পার, তাহলে এ সমস্ত উপঢৌকন তোমার।’ সে বলল, ‘আমি তো কাউকে আরোগ্য দিতে পারি না, আল্লাহ তা‘আলাই আরোগ্য দান করে থাকেন। যদি তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন কর, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করব, ফলে তিনি তোমাকে অন্ধত্বমুক্ত করবেন।’ সুতরাং সে তার প্রতি ঈমান আনল। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে আরোগ্য দান করলেন। তারপর সে পূর্বেকার অভ্যাস অনুযায়ী বাদশাহর কাছে গিয়ে বসল। বাদশাহ তাকে বলল, ‘কে তোমাকে চোখ ফিরিয়ে দিল?’ সে বলল, ‘আমার প্রভু!’ সে বলল, ‘আমি ব্যাতীত তোমার অন্য কেউ প্রভু আছে?’ সে বলল, ‘আমার প্রভু ও আপনার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ।’ বাদশাহ তাকে গ্রেপ্তার করল এবং তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দিতে থাকল, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ঐ (চিকিৎসক) বালকের কথা বলে দিল। অতএব তাকে (বাদশার দরবারে) নিয়ে আসা হল। বাদশাহ তাকে বলল, ‘বৎস! তোমার কৃতিত্ব ঐ সীমা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যে, তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করছ এবং আরো অনেক কিছু করছ।’ বালকটি বলল, ‘আমি কাউকে আরোগ্য দান করি না, আরোগ্য দানকারী হচ্ছেন একমাত্র মহান আল্লাহ।’ বাদশাহ তাকেও গ্রেপ্তার করে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দিতে থাকল, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ঐ পাদ্রীর কথা বলে দিল।

অতঃপর পাদ্রীকেও (তার কাছে) নিয়ে আসা হল। পাদ্রীকে বলা হল যে, ‘তুমি নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যাও।’ কিন্তু সে অস্বীকার করল। ফলে তার মাথার সিঁথিতে করাত রাখা হল। করাতটি তাকে (চিরে) দ্বিখন্ডিত করে দিল; এমনকি তার দুই ধার (মাটিতে) পড়ে গেল। তারপর বাদশাহর দরবারীকে নিয়ে আসা হল এবং তাকে বলা হল যে, ‘তোমার ধর্ম পরিত্যাগ কর।’ কিন্তু সেও (বাদশার কথা) প্রত্যাখান করল। ফলে তার মাথার সিঁথিতে করাত রাখা হল। তা দিয়ে তাকে (চিরে) দ্বিখন্ডিত করে দিল; এমনকি তার দুই ধার (মাটিতে) পড়ে গেল। তারপর বালকটিকে নিয়ে আসা হল। অতঃপর তাকে বলা হল যে, ‘তুমি ধর্ম থেকে ফিরে এস।’ কিন্তু সেও অসম্মতি জানাল। সুতরাং বাদশাহ তাকে তার কিছু বিশেষ লোকের হাতে সঁপে দিয়ে বলল যে, ‘একে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও, তার উপরে তাকে আরোহণ করাও। অতঃপর যখন তোমরা তার চূড়ায় পৌঁছবে (তখন তাকে ধর্ম-ত্যাগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর) যদি সে নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যায়, তাহলে ভাল। নচেৎ তাকে ওখান থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও।’ সুতরাং তারা তাকে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের উপর আরোহণ করল। বালকটি আল্লাহর কাছে দু‘আ করল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তাদের মুকাবেলায় যে ভাবেই চাও যথেষ্ট হয়ে যাও।’ সুতরাং পাহাড় কেঁপে উঠল এবং তারা সকলেই নীচে পড়ে গেল।

বালকটি হেঁটে বাদশার কাছে উপস্থিত হল। বাদশাহ তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার সঙ্গীদের কি হল?’ বালকটি বলল, ‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন।’

বাদশাহ আবার তাকে তার কিছু বিশেষ লোকের হাতে সঁপে দিয়ে বলল যে, ‘একে নিয়ে তোমরা নৌকায় চড় এবং সমুদ্রের মধ্যস্থলে গিয়ে তাকে ধর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর! যদি সে স্বধর্ম থেকে ফিরে আসে, তাহলে ঠিক আছে। নচেৎ তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ কর।’ সুতরাং তারা তাকে নিয়ে গেল। অতঃপর বালকটি (নৌকায় চড়ে) দো‘আ করল, ‘হে আল্লাহ! তুমি এদের মোকাবেলায় যেভাবে চাও আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও।’ সুতরাং নৌকা উল্টে গেল এবং তারা সকলেই পানিতে ডুবে গেল।

তারপর বালকটি হেঁটে বাদশাহর কাছে এল। বাদশাহ বলল, ‘তোমার সঙ্গীদের কী হল?’ বালকটি বলল, ‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে গেছেন।’ পুনরায় বালকটি বাদশাহকে বলল যে, ‘আপনি আমাকে সে পর্যন্ত হত্যা করতে পারবেন না, যে পর্যন্ত না আপনি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।’ বাদশাহ বলল, ‘তা কী?’  সে বলল, ‘আপনি একটি মাঠে লোকজন একত্রিত করুন এবং গাছের গুড়িতে আমাকে ঝুলিয়ে দিন। অতঃপর আমার তূণ থেকে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রাখুন, তারপর বলুন, ‘‘বিসমিল্লাহি রাব্বিল গুলাম!’’ (অর্থাৎ এই বালকের প্রতিপালক আল্লাহর নামে মারছি।) অতঃপর আমাকে তীর মারুন। এভাবে করলে আপনি আমাকে হত্যা করতে সফল হবেন।’

সুতরাং (বালকটির নির্দেশানুযায়ী) বাদশাহ একটি মাঠে লোকজন একত্রিত করল এবং গাছের গুঁড়িতে তাকে ঝুলিয়ে দিল। অতঃপর তার তূণ থেকে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রেখে বলল, ‘বিসমিল্লাহি রাব্বিল গুলাম!’ (অর্থাৎ এই বালকের প্রতিপালক আল্লাহর নামে মারছি।) অতঃপর তাকে তীর মারল। তীরটি তার কান ও মাথার মধ্যবর্তী স্থানে (কানমুতোয়) লাগল। বালকটি তার কানমুতোয় হাত রেখে মারা গেল। অতঃপর লোকেরা (বালকটির অলৌকিকতা দেখে) বলল যে, ‘আমরা এ বালকটির প্রভুর উপর ঈমান আনলাম।’ বাদশার কাছে এসে বলা হল যে, ‘আপনি যার ভয় করছিলেন তাই ঘটে গেছে, লোকেরা (আল্লাহর প্রতি) ঈমান এনেছে।’ সুতরাং সে পথের দুয়ারে গর্ত খোঁড়ার আদেশ দিল। ফলে তা খোঁড়া হল এবং তাতে আগুন জ্বালানো হল। বাদশাহ আদেশ করল যে, ‘যে দ্বীন থেকে না ফিরবে তাকে এই আগুনে নিক্ষেপ কর’ অথবা তাকে বলা হল যে, ‘তুমি আগুনে প্রবেশ কর।’ তারা তাই করল। শেষ পর্যন্ত একটি স্ত্রীলোক এল। তার সঙ্গে তার একটি শিশু ছিল। সে তাতে পতিত হতে কুণ্ঠিত হলে তার বালকটি বলল, ‘আম্মা! তুমি সবর কর। কেননা, তুমি সত্যের উপরে আছ।’’

[রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদীস নম্বরঃ ৩১, অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ, তাওহীদ পাবলিকেশন]

Posted in ইসলাম, গল্প, গল্প নয় সত্যিই | মন্তব্য দিন

প্রিয়তম বাণী


fresh_lovely_nature

আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেনঃ

“হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।”[আয-যুমারঃ৫৩]

 “তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” [গাফির – ৬০]

“নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।”[সূরা গাফির:৬১]

“বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে।”[আল বাকারা:১৮৬]

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।”[আল বাকারা:২২২]

“যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।”[আল ইবরাহিম:৭


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 

নম্রতা ও কোমলতা যে জিনিসেই থাকবে, তা সুন্দর ও সুষমামন্ডিত হবে। আর কঠোরতা যে জিনিসেই থাকবে, তা কুৎসিত ও অকল্যাণকর হবে।”[মুসলিম]

“আল্লাহর স্মরণ ও তার সম্পর্কে কিছু বলা ছাড়া কথা বাড়িও না, কেননা আল্লাহর স্মরণ ও তার সম্পর্কে কিছু কথা বলা ছাড়া কথা বাড়ানো মনকে কঠিন বানিয়ে দেয়। মনে রেখো যার মন কঠিন, সেই আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত।” [তিরমিযী, বায়হাকী]

“নিস্প্রয়োজন কথা ও কাজ বর্জন মানুষের দীনদারীকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে।”[তিরমিযী]

“মহান আল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি একটি সৎ কাজ করবে, সে এর দশগুণ অথবা অধিক সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি একটি অন্যায় করবে, সে তেমনি একটি অন্যায়ের শাস্তি পাবে অথবা আমি মাফ করে দেবো। যে ব্যক্তি আমার এক বিঘত নিকটবর্তী হবে, আমি তার এক হাত নিকটবর্তী হবো; যে ব্যক্তি আমার এক হাত নিকটবর্তী হবে, আমি তার দুই হাত নিকটবর্তী হবো। যে ব্যক্তি হেঁটে হেঁটে আমার দিকে আসবে আমি দৌড়ে তার দিকে যাবো। যে ব্যক্তি পৃথিবী সমান গুনাহ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাত করবে, অথচ যে আমার সাথে কোন কিছু শরীক করেনি, আমি তার সাথে অনুরূপ (পৃথিবীভর্তি) ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাত করবো।“[মুসলিম]

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন