পৃথিবীতে এত ধর্ম কেন?


এটা কিভাবে সম্ভব যে, পৃথিবীতে এতগুলো ধর্ম থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি ধর্মই সত্য? বাকি গুলো তবে কি? সবই কি মিথ্যা আর বানোয়াটি? ওই সব ধর্মের মহান ধর্মপ্রচারকরা কি তবে ভন্ড? তারা কি তবে ইশ্বরের দূত নয়? যদি তাই হয়ে থাকে তবে সেই একটি ধর্ম এবং ধর্মগুরু ছাড়াও বাকি গুলো এত জনপ্রিয়তা বা বিস্তৃতি লাভ করল কিভাবে?

এসব প্রশ্ন অনেক মানুষের মনেই জাগে। এটা স্বাভাবিক। এসবের উত্তর না জানার কারনে অনেকে সত্য থেকে দূরে থাকেন। অথবা সত্যকে জানার উতসাহ হারিয়ে ফেলেন। ইসলাম মুহাম্মাদ (সা.) -এর পূর্বের কোন ধর্মকেই সরাসরি সৃষ্টিকর্তার ধর্ম নয়, বলেনা। সেগুলো আল্লাহর দ্বীন এক সময় হলেও হতে পারে। ইসলাম বলে পৃথিবীতে এক লক্ষ্য চব্বিশ হাজার নবী বা ইশ্বরের দূত এসেছেন। মহান আল্লাহই তাঁদের নবী করেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন ভু খন্ড, সম্প্রদায় বা ভাষাভাষির লোকের কাছে নবী এসেছে। তাদের কাছে ধর্মের বাণী প্রচার করেছে। ইহুদি ধর্ম এক সময় আল্লাহর ধর্ম ছিল। খ্রিস্টান ধর্মও ছিল আল্লাহর মনোনীত দ্বীন। মুশা/মোজেস এবং ঈশা/যীষু (তাঁদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) আল্লাহর সন্মানিত নবী ছিলেন। কিন্তু মানুষ সময়ের সাথে তাঁদের বাতলে দেওয়া ধর্মকে পালটে ফেলেছে।

যখন এক নবীর বাতলে দেওয়া ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থাকে মানুষ পালটে ফেলে, বদলে দেয়। এক আল্লাহর ইবাদত না করে যখন শিরক করা শুরু করে তখন আল্লাহ আবার নবী পাঠান। এভাবেই এত নবী এসেছেন দুনিয়ায়। যখন মুশার (আ) ধর্মকে ইহুদিরা বদলে ফেলল তখন আল্লাহ যীষুকে (আ) পাঠালেন। কিন্তু কিছু লোক তাকে আল্লাহর নবী বলে স্বীকার করল আবার কিছু লোক তাঁর বিরোধীতা করে শত্রুতা শুরু করল। ঠিক একই ব্যাপার হয় মুহাম্মাদ (সা.) এবং অন্যান্য নবীদের সময়েও। ঠিক এই কারনেই পৃথিবীতে এত ধর্ম।

এবার কথা হল, যদি বিখ্যাত সব ধর্ম এবং ধর্মগুরু আল্লাহর মনোনীত হয় তবে কেন ইসলাম মেনে চলতে হবে? উত্তরটা খুব সহজ। বাকি ধর্ম গুলো আর খাঁটি নেই। মানে বদলে গেছে, বিকৃত হয়েগেছে, পরিবর্তিত হয়েগেছে। আর একথা শুধু আমরা বলছিনা। পৃথিবীর তাবর তাবর ঐতিহাসিক, বিষেশজ্ঞরা বলেন। যেমন বিবেকানন্দ বলেছেন বেদের ৯০% পরিবর্তিত হয়েগেছে। আর কুর’আন যখন নাজীল হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে তা লিখে ফেলা হত। তাই হাজার বছর আগের চামড়ায় লেখা কুর’আন, আমেরিকার কংগ্রেস লাইব্রেরির কুরান, ইস্তাম্বুলের মিউজিয়ামের কুরান কিংবা আপনার বাড়ির পাশের বইয়ের দোকানের কুরানের মধ্যে কোন তফাত নেই। অথচ বাজারে প্রায় ৬৬ রকমের আলাদা আলাদা বাইবেল পাওয়া যায়।

আরেকটা প্রশ্ন মনে জাগতে পারে, মুহাম্মাদের (সা) পর আর কোন নবী আসবেনা কি? উত্তর হল হ্যাঁ আসবেন। তবে তিনি আসবেন মুহাম্মাদের (সা.) অনুসারী হয়েই। তিনি নতুন কিছু প্রচার করবেন না। ইসলামের কথায় প্রচার করবেন। তিনি হলেন যীষু (আ)। তাঁর অনুসারীরা বাড়াবাড়ি করে তাঁকে আল্লাহর নবী থেকে আল্লাহর সন্তান বানিয়ে ফেলেছেন। সেই মিথ্যাচার দূর করবেন তিনি।

Advertisements
Posted in অমুসলিমদের চোখে ইসলাম, ইসলাম ও অনান্য ধর্ম | মন্তব্য দিন

মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না


একজন প্রকৃত মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেনা। এমনকি নিজের দুশমনের সাথেও না। মুসলিম হবে ইনসাফকারী। কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষের কারনে সে সুবিচার বর্জন করবেনা। বদলা নেওয়ার রাগেও সে কারও প্রতি অন্যায় করবেনা। একটা ঘটনা শুনুন। ইবনে হিশাম, সিরাতুর রাসুল (সা.) ইত্যাদি সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আমি সংক্ষেপে বলছি –

মক্কার কাফেররা ষড়যন্ত্র করে কয়েকজন লোক পাঠায় মদিনায় মুহাম্মাদ (সা.) -এর কাছে। তারা মিথ্যা করে বলে, ‘আমাদের গোত্রে ইসলামের কিছু চর্চা আছে, দ্বীন শিক্ষা ও কুর’আন পড়ানোর জন্য কিছু জ্ঞানসম্পন্ন সাহাবীদের পাঠালে আমরা উপকৃত হবো।’ রাসুল (সা.) তাদের কথায় বিশ্বাস করে, দশ জনের একটি মুবাল্লিগ দল প্রেরণ করেন। কিন্তু কিছুদুর যেতেই তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে প্রায় একশজন কাফের তীরন্দাজ। বিশ্বাসঘাতকতা করে মেরে ফেলা হয় আট জন সাহাবীকে। দুজন বেঁচে যান। তাঁরা হলেন, খোবায়েব বিন আদী (রা.) এবং যায়েদ বিন দাসেনাহ (রা.)। এই দুজনকে মক্কায় এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এদের কেনেন দুইজন কাফের শুধুই হত্যা করার জন্য। বদর যুদ্ধে পিতৃহত্যার অন্যায়ভাবে বদলা নেওয়ার জন্য।

হত্যা করার আগে খোবায়েব (রা.) -কে হারেশ বিন আমেরের বাড়ীতে কয়েকদিন বন্দি করে রাখা হয়। এসময় তাকে খাবার দেওয়া হতনা। এমনকি জলও না। একদিন হঠাত, হারেসের ছোট বাচ্চা ছেলেটি ধারালো ছুরি নিয়ে খেলতে খেলতে খোবায়েব (রা.) -এর কাছে চলে আসে। তিনি শিশুটিকে আদর করে কোলে বসান। এই দৃশ্য দেখে বাচ্চাটির মা ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন। (তিনি ভেবেছিলেন খোবায়েব (রা.) হয়ত বাচ্চাটির কোন ক্ষতি করবে বা মেরে ফেলবে বদলা নেওয়ার জন্য কারণ তাঁর মৃত্যু তো নিশ্চিত!)। তখন খোবায়েব (রা.) বলেন, ‘মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না’।

*** খোবায়েব (রা.) -কে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরে আনা হয়, তাঁর সাথীদের হত্যা করা হয়, অন্যায়ভাবে তাঁকে বিক্রি করা হয়, কিছুদিনের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হবে এতসব জানা সত্তেও তিনি নিজ শত্রুর বাচ্চা শিশুকে আদর করে কোলে বসান এবং কাছে ধারালো ছুরি পেয়েও বাচ্চাটিকে হত্যা করেননি বা পরিবারের অন্য কাউকেও মারেননি। বাচ্চাটির মা ভয় পেলে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেনা। অর্থাৎ বুঝিয়ে দেন নিশ্চিন্ত হও, তোমার শিশুর কিছু হবেনা।

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন

এক বেদুঈন মসজিদের ভেতরে প্রস্রাব করে দিল


বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) এমন এক মহান মানুষ ছিলেন যাঁর সম্পর্কে যত জানবেন ততই অবাক হবেন, মুগ্ধ হবেন। তাঁর ক্ষমাশীলতা আর বিনয়, নম্রতা তুলনাহীন। শিক্ষা দেওয়ার সময়, ভুল সুধরে দেওয়ার সময়ও তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ বিনয়ী শিক্ষক। একটা অসাধারণ শিক্ষনীয় হাদিস শুনুন। সবার জন্যই এটা খুবই শিক্ষনীয়। বিশেষ করে যারা দ্বীনি দাওয়াতের এবং ইসলাহর কাজ করেন তাদের জন্য।

আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, এক বেদুঈন মসজিদের ভেতরে প্রস্রাব করে দিল। সুতরাং লোকেরা তাকে ধমক দিয়ে বকাবকি করতে লাগল। অনেকে তাকে মারতে উদ্যত হল। (কিন্তু) নবী (সা.) বললেন, ‘ওর প্রস্রাব আটকে দিয়ো না, ওকে ছেড়ে দাও’। সুতরাং তাকে ছেড়ে দেওয়া হল। সে প্রস্রাব শেষ করল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ডেকে (নম্রতার সাথে, শান্তভাবে) বললেন, ‘এই মসজিদ গুলো কোন প্রকার পেশাব না নোংরা জিনিসের জন্য নয়। এ হল কেবল আল্লাহ তায়ালার যিকির, নামাজ ও কুর’আন পড়ার জন্য’।(মুসলিম/৬৮৭)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, নবী (সা.) তাকে বলেন, ‘ওকে ছেড়ে দাও এবং ওর প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ নীতি অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরনীতি অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়নি’। [বুখারী/২২০; ৬১২৮]

এই চমৎকার ঘটনার শেষ এখানেই নয়। বেদুঈন ভুল/অপরাধ করেও নবী (সা.) এর কাছ থেকে এত সুন্দর বিনয়ী ব্যবহার পেয়ে মুসলিম হয়ে যান। পরে এই বেদুইন (আবার ভুল করে) নামাজের দু’আতে বলেছিল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ও মুহাম্মাদের প্রতি রহম করো। আর আমাদের সাথে কাউকে রহম করো না’। তা শুনে মুহাম্মাদ (সা.) তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি তো প্রশস্ত (আল্লাহর রহমত)-কে সংকীর্ণ করে দিলে!’

এত ভুলের পরেও দয়ার নবী, বিনয়ী শিক্ষক মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বেদুঈনের প্রতি কঠোর হোননি। বিরক্তও হোননি। নবীজীর নম্রতা ও অমায়িকতা দেখে সে স্বীকার করতে বাধ্য হয়ে বলেছিল, ‘আমার পিতামাতা মুহাম্মাদের জন্য কুরবান হোক। তিনি আমাকে গালি দেননি, বকাবকি করেননি এবং প্রহারও করেননি’। [আহমাদ/১০৫৩৩]

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন

বিক্রয়ের জন্য নহে


tumblr_n6r0vvxawr1sfxmouo1_500

লিখেছেনঃ রেহনুমা বিনত আনিস

আমার ক্যানাডিয়ান নওমুসলিমা ছাত্রী আয়শা- বয়স ১৯, পরীর মত সুন্দরী, সৌন্দর্য নিয়ে পড়াশোনা করছে। আমার কাছে আরবী পড়া শেখার পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে কিছু কিছু তথ্য জেনে নেয়। ওর সাথে পরিচয় এই রামাদানে। সেদিন ইফতার পার্টি ছিল, রাতে কিয়ামুল লাইল। ইফতারের পর আমরা পাশাপাশি নামাজে দাড়ালাম। সামনে, পেছনে, পাশে এত মহিলা এবং বাচ্চারা গিজ গিজ করছে যে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা যুদ্ধসম কঠিন ব্যাপার। লক্ষ্য করলাম এর মাঝেই সে একমনে স্রষ্টার সাথে বাক্যালাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ময়দানের মধ্যে সে যেন একাই দাঁড়িয়ে! জানতে পারলাম পাঁচ ওয়াক্তের পাশাপাশি সে এমন অনেক এক্সট্রা নামাজ পড়ে যার নামও অনেক জন্মগত মুসলিমের অজানা।

ইসলামের প্রতি ওর আগ্রহ আমাকে চমৎকৃত করল। সে ইসলাম গ্রহণ করেছে দু’বছর। কিন্তু সে ইসলামকে গ্রহণ করেছে আন্তরিকভাবে, ফলে সে এর সবটুকুই পালন করার জন্য আগ্রহী এবং যত্নশীল। দেখলাম সে এর মাঝেই ভারী সুন্দর বোরকা এবং স্কার্ফের কালেকশন করে নিয়েছে। ওর পোশাক আশাক থেকে সবকিছুতে রুচিশীলতার বহিঃপ্রকাশ। তবে এর সবটুকুই ইসলামের দৃষ্টিতে যতটুকু গ্রহণযোগ্য সে বিবেচনা মাথায় রেখে। যেমন যেখানে ক্যানাডায় নেইল পলিশ ছাড়া কোন স্টাইলিশ মেয়ের দেখা পাওয়া অস্বাভাবিক, ওর হাতে পায়ে কোথাও নেইল পলিশ নেই। স্কার্ফ বা ওড়না যখন যাই পরে কোনটিতেই একটি চুলও কোনদিন বেরিয়ে থাকতে দেখিনি।

রাতে কুর’আনের আলোচনার সময় বাংলায় আলোচনা হওয়ায় বেচারী বুঝতে পারছিলোনা। আমি তখন ওর আগ্রহ দেখে কিছু অংশ মুখে এবং কিছু অংশ লিখে বুঝিয়ে দিতে লাগলাম। সে কৃতজ্ঞচিত্তে সব শুষে নিতে লাগল এবং মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে সঠিকভাবে বুঝে নিল। যখন আলোচনা শেষে নামাজ শুরু হবে সে এসে আমাকে বলল, “আমি কি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারি? তাহলে আমি আপনাকে দেখে আমার posture গুলো ঠিক হচ্ছে কি’না ঠিক করে নিতে পারব“। আমি তো হতবাক! অনেক সময় অনেক আত্মীয় বন্ধুবান্ধবকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিশেষ করে রুকু এবং সিজদায় posture এর ভুলের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তাদের বিরাগভাজন হয়েছি। আর সে কি’না বলে নামাজ সঠিকভাবে পড়ার জন্য posture ঝালাই করে নেবে! ওর আগ্রহ আবারও আমাকে চমৎকৃত করল।

এর পর থেকে কুর’আনের লিঙ্ক নেয়া থেকে শুরু করে ভ্রূ তোলার মাসয়ালা পর্যন্ত নানান বিষয়ে ওর সাথে আলাপ হয়েছে। ভাল লেগেছে যে সে কোন বিষয়ে জানার সাথে সাথে তাকে গ্রহণ করেছে, কুতর্কের আশ্রয় নেয়নি। অথচ এতটা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ইসলামের সকল হুকুম আহকামকে আঁকড়ে ধরার আগ্রহ আমি অনেক ইসলাম জানা মানুষের মাঝেও দেখিনি!

ক’দিন আগে নতুন করে ওর ইসলামের বোধ এবং অনুভূতির পরিচয় পেয়ে আবারও মুগ্ধ হলাম। ক্যানাডার একটি বৃহৎ ফ্যাশন হাউজ একটি ফ্যাশন শোর আয়োজন করছে। একপর্বে সমাপ্য শোটিতে মডেলিং করার জন্য ওকে ৪০,০০০ ক্যানাডিয়ান ডলার অফার করা হয়। সে স্রেফ না করে দেয় এই বলে, “আমার ধর্ম আমাকে নিজেকে পুঁজি করার অনুমতি দেয়না”। শুনে এত ভাল লাগল! মনে হোল এই মেয়েটি খানিকটা দেরীতে ইসলামকে খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু সেই তো পেয়েছে এর আসল আস্বাদ! দোকানে, লাইব্রেরীতে, মসজিদে ওর মত এমন আরো অনেক নওমুসলিমা বোনকে দেখে পুলকিত হই, আশা জাগে আগামী দিনে ইসলামের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত নিয়ে। আবার ভয় হয় আমরা যারা জন্মগতভাবে একে পেয়েও হেলায় হারিয়েছি তারা বুঝি আবার অপ্রয়োজনীয় এবং অপাংক্তেয় হয়ে পড়ি!

*****************

Posted in আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম, ইসলাম ও নারী, উপদেশ, সংগৃহিত | মন্তব্য দিন

সালাফী মতাদর্শ কী?


zjdjdjz

মূল: আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন আলবানী রহ.

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

প্রশ্ন: সালাফী মতাদর্শ কী এবং তা কিসের সাথে সম্পৃক্ত?

উত্তর: সালাফী মতাদর্শ বলতে বুঝায় পূর্বসূরীদের মূলনীতি ও আদর্শ। এটি সম্পৃক্ত সালাফ তথা পূর্বসূরীদের সাথে।

সুতরাং আলেমগণ কী অর্থে ‘সালাফ’ শব্দ ব্যবহার করেন তা আমাদের জানা আবশ্যক। তাহলে বুঝা যাবে সালাফী কাকে বলে বা সালাফী শব্দের মর্ম কি।

‘সালাফ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল এমন তিন শতাব্দির ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উম্মতের শ্রেষ্ঠতম মানুষ হিসেবে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। যেমন বুখারী ও মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে মুতাওয়াতির সূত্রে একদল সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ، ثُمَّ الَّذيِنَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذيِنَ يَلُونَهُمْ

“সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হল, আমার যুগের মানুষ অত:পর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ অত:পর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ।” (বুখারী ও মুসলিম)

এই তিন যুগের মানুষকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‌আর সালাফীগণ এই পূর্বসুরীদের সাথে সম্পৃক্ত।

আমরা সালাফ শব্দের অর্থ জানতে পারলাম। এবার আমি দুটি বিষয় বলব:

প্রথম বিষয়, মুসলিম বিশ্বে বর্তমানে বিভিন্ন জামায়াত বা দলের মত সালাফী আন্দোলন কোন এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং এই সম্পৃক্ততা হল পবিত্র ও নিষ্কলুষ একটি আদর্শের সাথে। কারণ, পূর্বসুরীগণ সম্মিলিতভাবে গোমরাহীর উপর থাকবেন-এটা সম্ভবপর নয়। পক্ষান্তরে পরবর্তীত যুগের মানুষের ব্যাপারে শরীয়তে প্রশংসা বর্ণিত হয় নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নিন্দাবাদ বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি পূবোর্ক্ত হাদীসের শেষাংশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঙ্গিত করে বলেছেন:

ثُمَّ يأتي مِن بعدِهِم أقوامٌ يَشْهَدُون ولا يُسْتَشْهَدُون إلى آخر الحديث

“এরপর তাদের পরে এমন সব মানুষের আবির্ভাব ঘটবে যারা স্বাক্ষ্য দিবে কিন্তু তাদের নিকট স্বাক্ষ্য চাওয়া হবে না।” তিনি অন্য আরেক হাদীসেও এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। উক্ত হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, তিনি সেখানে মুসলিমদের একটি দলের প্রশংসা এবং ‘অধিকাংশ’ লোকের নিন্দা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম, সংশোধন | মন্তব্য দিন

চরমপন্থা ও আমাদের করণীয়


say-no-to-terrorism-938x535

উস্তাদ নুমান আলী খান

সবাইকে আবারো সালাম জানাচ্ছি, আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহ মাতুল্লাহ। নিউজ চ্যানেল এবং পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আপনারা ইতিমধ্যেই জানেন কি জঘন্য , ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড (অরল্যান্ডো হামলা) ঘটানো হয়েছে। যার ফলে গোটা দেশ তথা সারা পৃথিবী আজ বাকরুদ্ধ, বিশেষ করে মুসলিম সমাজ আবারো আক্রান্ত।

সবার সন্দেহ-সংশয় দূর করার জন্য বলতে হয়, আমাদের দ্বীন শর্তহীনভাবে সকল মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। আর এর কোন ব্যতিক্রম নেই। প্রকৃত পক্ষে, আমাদের আলেমদের অনেকেই তাদের সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে বলেছেন, তারা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধেই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হউক না কেন। কারণ প্রত্যেকটা মানুষেরই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বেঁচে থাকার অধিকার এমন এক বিষয় যা আমাদের দ্বীন কোন শর্ত ছাড়াই স্বীকার করে। তাদের এই মতামত পোস্ট করার পর মুসলিম নামের অনেককেই এই বলে মন্তব্য করতে দেখা যায় যে, আপনি কিভাবে এটা বলতে পারেন? এই লোকগুলোকে মেরে ফেলাই উচিত, ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও ভয়ংকর বিভিন্ন বিষয় বলা হয়েছে। এটা দেখে আমি অনুধাবন করলাম যে,

আমাদেরকে দুটি বিষয়ে চিন্তাশীল হতে হবে। আমাদের দু ধরনের শ্রোতা রয়েছে। অমুসলিম শ্রোতা যারা ফেইসবুক বা অন্য কোথাও থেকে এই জবাবগুলো দেখছে যে এই ব্যাপারে মুসলিমরা কি বলছে। আর অন্য শ্রোতা হল মুসলিমরাই। দুই শ্রেনীই আলাদা। দেখা যায় বেশির ভাগ সময় আমরা যেটা ভাবি যে দেশের সবার কষ্ট বা শোককে কমাতে আমাদের জবাব কি হবে। অমুসলিমদের প্রতি। আমরা এই সমাজেরই অংশ। আর বিশ্বের সমাজব্যবস্থারও অংশ। তো তাদের স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন থাকে। সেই প্রশ্নগুলো যেগুলো বিশেষ করে মিডিয়াতে উঠে আসে আর যেকোনোভাবে বুঝানোর চেষ্টা চলতে থাকে যে এই ঘটনাগুলোর জন্য ইসলাম দায়ী! কথোপকথনের কেন্দ্র থাকে এটাই। তাই তারা আমাদের কাছ থেকেও শুনতে চায়। মুসলিম হিসেবে আমাদের কি ধারণা এ ব্যাপারে। আর এমনটা যখন হয় তখন আমরা অনেক সময় পাবলিসিটি নিয়ে বেশি সচেতন হয়ে যাই কিংবা রাজনৈতিক দিক দিয়ে সঠিক কোন কথা বলি।

সবার প্রথমে আমাদের যেটা জানতে হবে সেটা হল, শ্রোতা যেই হোক, মুসলিম কিংবা অমুসলিম, আল্লাহর দ্বীন কখনও বদলায় না। এই দ্বীন আমাদের বিশ্বাসমতে আল্লাহ পাক থেকে নাযীলকৃত। যে এই দ্বীনের বিরুদ্ধে কিছু করলো, সে অন্যায় করলো তা সে মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম…। আর এটা একটা অন্যায়। আর কোনও দিক থেকে দেখার উপায় নেই আসলে। আর এই ব্যাপারটি কোনও রকম বিতর্ক বা আলোচনা সাপেক্ষও না। তারাই এর বিপরীতে বলবে যাদের ইসলামের একদম মৌলিক ধারনাই সঠিক নেই। আর তাদেরকে আমি কোনোভাবেই আল্লাহ পাকের কালামের ছাত্রও ভাবতে পারি না। তা হতেই পারে না। আমরা এই কুরআনের ছাত্র হয়ে ঐরকম এক অবস্থানে পৌঁছাব তা হতেই পারে না। কোন কারণ ছাড়া মানুষকে হত্যা করা তা আপনি যাই মনে করেন না কেন, সে যে পাপই করুক না কেন, তা অবশ্যই অন্যায়। কেউ যদি মনে করে তা অন্যায় নয়, এই রকম অবস্থানে এমন কেউ কখনই আসতে পারে না যে কিনা এই কুরআনকে ভালোভাবে শিখছে।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, উপদেশ, সন্ত্রাসবাদ, সমসাময়িক | মন্তব্য দিন

মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই!


pigeons-1920x1200

শেখ ফরিদ আলম

মহান আল্লাহ বলেন, ‘সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই’। [সুরা হুজুরাত/১০] অর্থাৎ সকল বিশ্বাসী মুসলিম পরস্পর ভাই ভাই। সাদা ভালো, গরীব ধনী, ছোট বড়,ভারতীয় আমেরিকান, আরব অনারব সকল মুসলিমই ভাই ভাই। আর যেহেতু আমরা ভাই ভাই তাই পরস্পরের প্রতি কিছু অধিকার আছে, কিছু কর্তব্য আছে। ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদি স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট গুলো আসার পর একটা সমস্যা অনেক বেড়েছে এবং দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেটা হল মুসলিম ভাইয়ের অধিকার খর্ব করা। আমরা অনেক কিছুকে সাধারণ ব্যাপার মনে করে শেয়ার করি, পোষ্ট করি,আড্ডায় আলোচনা করি, কমেন্ট করি যা ইসলামের দৃষ্টিতে খুব ভয়ানক। আর এই ব্যাপারটা এতটা ভয়ানক আকার ধারণ করেছে যে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করা ভাইয়েরাও এর থেকে মুক্ত নন। এই পোষ্ট সকল মুসলিমদের ভাইদের এমনকি আমার নিজেরও নিজেকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।

১.

আমাদের একটা অনেক বড় সমস্যা অন্যকে বিচার করার। আমরা মুসলিম ভাইয়ের একটু অধটু ভুল দেখেই তার সম্পর্কে অনেক অনেক ধারণা করে ফেলি। আমরা মন্তব্য করে, পোষ্ট দিয়ে তার ছোট ভুলটির সংশোধন করার চেষ্টা করি। যেন আমি শিক্ষক আর তুমি আমার ছাত্র! বিশ্বনবী (সা.) আমাদেরকেই বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের চোখে কুটা দেখতে পায়, কিন্তু নিজের চোখে গাছের গুঁড়ি দেখতে ভুলে যায়!’ (ইবনে হিব্বান/৫৭৬১;সহীহুল জামে/১৮৭১)। আর এভাবে প্রকাশ্যে কারও ভুল নিয়ে আলোচনা করা কোন ভালো কাজ নয়। বরং তার সভ্রম (মান-সন্মান) নষ্ট করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সাবধান করে বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সভ্রম ও ধন সম্পদ অন্য মুসলিমের জন্য হারাম’। (মুসলিম/৬৭০৬)। আর একজন মুসলিমের কর্তব্য হল অপর মুসলিমের ভুল প্রকাশ্যে বলে না বেড়িয়ে তা গোপন করা। নবী (সা.) এব্যাপারে আমাদের খুব সুন্দর শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে দুনিয়াতে কোন বান্দার দোষ গোপন রাখে,আল্লাহ তা’আলা কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন’। (মুসলিম/৬৭৫৯)।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অধিকারীর অধিকার, আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব, ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট, উপদেশ, সংশোধন, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার, সুখী জীবন | মন্তব্য দিন

ইসলামে রাস্তার অধিকার


free-wallpaper-nature-scenes_gg92qq8

শেখ ফরিদ আলম

 ইসলাম এমন এক চমৎকার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন ব্যবস্থা যার সম্পর্কে আপনি যত জানবেন ততই মুগ্ধ হবেন। ইসলাম প্রত্যেক অধিকারীর অধিকার সঠিকভাবে ঘোষনা দিয়েছে। মানবাধিকার, নারী অধিকার, পিতা মাতার অধিকার ইত্যাদি তো বটেই পশু পাখির অধিকার এমনকি রাস্তার অধিকারও ইসলাম দিয়েছে। এটা এক বিশাল বিস্ময়ের ব্যাপার। আমরা জানি রাস্তা মানব জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। রাস্তা ছাড়া কোথাও যাওয়া কত কষ্টকর সেটা জঙ্গলে গেলেই বোঝা যায়। ভাঙা রাস্তা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ আর প্রতিবাদ থেকেও বুঝা যায় রাস্তার গুরুত্ব। যাইহোক, আজকের আলোচনা করব রাস্তার হক নিয়ে বা রাস্তার আদব নিয়ে। বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) এব্যাপারে আমাদের কিছু চমৎকার নির্দেশনা দিয়েছেন। আর প্রত্যেক মুসলিমকে অবশ্যই সেই নির্দেশ পালন করা উচিত। কিন্তু আফসোসের বিষয় আজকাল অনেক মুসলিম রাস্তার হক প্রতিনিয়ত নষ্ট করে চলেছেন। অনেকে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে হরতাল, রাস্তা জ্যাম ইত্যাদিও করছেন। অথচ ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। আসুন হাদিস থেকে রাস্তার আদব সম্পর্কে কিছু জেনে নেই।

প্রথমে আপনাদের যে হাদিসটি শুনাবো সেটা ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। রাস্তার আদব কত গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার সেটা এই হাদিস থেকেই বুঝতে পারবেন। এটা খুব প্রসিদ্ধ হাদিস। অনেক গুলো রাবি থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমান ষাঠাধিক অথবা সত্তরাধিক শাখাবিশিষ্ট। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা (কান্ড) হল লা ইলাহা ইলাল্লাহ বলা। আর সর্বনিম্ন শাখা হল পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেওয়া…. (বুখারীর ৯নং সংক্ষিপ্ত, মুসলিম ১৬২) চিন্তা করুন, রাস্তায় পথযাত্রীদের জন্য কষ্টদায়ক বস্তু যেমন পাথর বা অন্য কিছু দূর করা ঈমানের একটা শাখা। শুধু তাই নয়, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কিছু সরানো পাপমুক্তিরও একটা মাধ্যম। বিশ্বনবী (সা.) বলেন, এক ব্যক্তি রাস্তায় চলতে চলতে একটি কাঁটার ডাল পেল, সে সেটিকে সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এই কাজের কদর করলেন এবং তাকে পাপমুক্ত করে দিলেন(বুখারী/৬৫২; মুসলিম/৫০৪৯) 

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অধিকারীর অধিকার, ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট | মন্তব্য দিন

প্রসঙ্গঃ কুরবানীর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা


c16257de3853a81b576713a8e09f3250

শেখ ফরিদ আলম

ইসলামে লোক দেখানো ব্যাপারের কোন স্থান নেই। বিশেষ করে ইবাদাতের ক্ষেত্রে। নবী করীম (সা) বলেছেন, “আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরক থেকে খুব ভয় করছি। সাহাবীরা বললেন – ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম! ছোট শিরক কি? রসুলুল্লাহ (সা) বললেন, তা হলো“রিয়া” বা লোক দেখানো ইবাদত। যেদিন আল্লাহ তাআ’লা বান্দাদের আমলের পুরস্কার প্রদান করবেন, সেদিন রিয়াকারীদেরকে বলবেনঃ যাও, দুনিয়াতে যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করতে, তাদের কাছে যাও। দেখো তাদের কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাও কিনা?” [মুসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীসটি সহীহ – শায়খ আলবানী।]

 নিজের কাজ বা ইবাদতে রিয়া বা অহংকার প্রকাশ কোন প্রকৃত মুসলিমের জন্য খুবই লজ্জাকর। সে সবসময় এই ব্যাপারে সাবধান। স্যোসাল মিডিয়া আসার পর মানুষ নিজেকে প্রকাশ করার ম্যানিয়ায় ভুগছে। এটা একজন সাধারন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার গুলোর ক্ষেত্রে হতেই পারে তবে প্রকৃত মুসলিম এসব করতে পারে না। কুর’বানী সামনে বলেই এসব কথা বলছি। কারন, কয়েক বছরের ফেসবুক অভিজ্ঞতায় বলছি অনেকেই আছে যারা আল্লাহর উদ্দেশে করা কুরবানীর ফটো গর্বের সাথে ফেসবুকে প্রকাশ করে। এটা কোন ভাবেই ঠিক নয়। এটা সামাজিক সাইট বলেই এটা করা ঠিক নয়। আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী করবেন সেটা দুনিয়াকে জানানো কি জরুরি?মহান আল্লাহ বলেন, “আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু – বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।” [সুরা আল-আনআ’মঃ ১৬২]

আর এতে রিয়ার সম্ভাবনা তো থাকেই সাথে ভালো দামী পশু কুরবানী দেওয়ার অহংকার প্রকাশেরও সম্ভাবনা থাকে।‘নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না’[সূরা লোকমান; ৩১:১৮]। প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা) বলেছেনঃ ‘যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা’। শয়তানের কিন্তু বিশাল জয় যদি সে আপনার মনে রিয়া বা অহংকার সরিষা দানা পরিমানও সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাবধান শয়তান থেকে!

আবার অনেকে অন্য ধর্মের লোকেদের এসব দেখিয়েও আনন্দ পান। বিকৃত আনন্দ। এটা আরো ভয়ংকর ব্যাপার। একজন মুসলিম হিসেবে মনে রাখা উচিত ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য, দায়িত্ব। আমরা নবী জীবনি পড়লেই বুঝতে পারব বিশ্বনবী (সা.) সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। শান্তির জন্যই একের পর এক সন্ধি করেছেন। তাই সকল ফেসবুক ফ্রেন্ডদের অনুরোধ করব এরকম জঘন্য কাজ করবেন না। কলকাতার দুজন বিখ্যাত আলেমও অনুরোধ করেছেন যাতে কেউ কুরবানীর ছবি শেয়ার না করে। কুরবানী একটা ইবাদত। এটাকে প্রচার করে বেড়ানোর কিছু নাই। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝ দান করুন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করার সৈনিক হিসেবে কাজ করার তাওফিক দিন। আমীন!

Posted in অধিকারীর অধিকার, আলোচনা, ইসলাম, ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট, উপদেশ, কুরবানী, শরিয়াত, সংশোধন, সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহার, সমসাময়িক | মন্তব্য দিন

ইসলাম কেন আলাদা ?


শেখ ফরিদ আলম

পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম ইসলাম যা পরিস্কারভাবে বলে দেয় যদি কোন মুসলিম কুর’আনের কোন বিধান বা কোন আয়াতকে অমান্য করে এমনকি সন্দেহপ্রকাশ করে তবে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। মানে সে আর মুসলিম থাকেনা। অন্য কোন ধর্মেই এমন কথা বলা হয়নি। আর পৃথিবীতে যত ধার্মীক আছে তাদের মধ্যে কেবল মুসলিমরাই এমন যারা কুরানের ব্যাপারে না সন্দেহ করে না কোন আয়াতকে অমান্য করে। বাকী অন্য ধর্মের যতই ধার্মীক বা ধর্মগুরু হোক না কেন সে স্বীকার করতে বাধ্য যে ধর্মগ্রন্থের সবু্কিছু সত্য নয়, সবকিছু সম্ভব নয়, অনেক ভুল আছে। ইসলাম নিয়ে সারা বিশ্বে যত সমালোচনা হয়েছে তার থেকে কয়েক গুন বেশি প্রশংসা হয়েছে। কিন্তু কিচ্ছু ইসলাম বিদ্বেষী শুধু সমালোচনা গুলোকেই প্রচার করে বেড়ায়, পৃথিবীর কত সাহিত্যিক, খেলোয়ার, বিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক ইসলামের প্রসংসা করেছে সেসব দেখেও এরা চোখ বন্ধ করে নেই। ভারতে অরুন সৌরি নামেও একজন উগ্র আর.এস.এস কর্মী ইসলামের বিরুদ্ধে বই লিখেছিল। জাকির নাইক যাকে সারা বিশ্বের সামনে নগ্ন করে দিয়েছে যাই হোক, এই আর.এস.এস বা বিজেপি কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দকেই তাদের আদর্শ মনে করে। এরা ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষী। ভারত থেকে মুসলিমদের তাড়াতে পারলেই এদের শান্তি অথচ স্বামীজি ইসলাম এবং মুসলিমদের সমন্ধে বলেছেন –‘দেখা যাবে ইসলাম যেথায় গিয়েছে সেথায় আদিম নিবাসীদের রক্ষা করেছে। সেসব জাত সেথায় বর্তমান। তাদের ভাষা জাতীয়তা আজও বর্তমান’। [প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য/১১৮ পৃষ্ঠা]

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন –‘মুহাম্মাদ (সা) ছিলেন একজন মহান পয়গম্বর। তিনি সাহসী ছিলেন এবং আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না। তিনি কখনও এক কথা বলে অন্য কাজ করতেন না। এই পয়গম্বর ছিলেন ফকিরের মতো। তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে প্রচুর সম্পদ করতে পারতেন। আমি যখন তাঁর দুঃখের কাহিনী পড়ি তখন আমার চোখ দিয়ে কান্না ঝরে পড়ে। তিনি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীরা কতই না কষ্ট ভোগ করেছিলেন স্বেচ্ছায়। তাই আমার মতো একজন সত্যাগ্রহী তাঁর মতো মানুষকে শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারে না। যিনি তাঁর মনকে নিবদ্ধ রেখেছিলেন এক আল্লাহর প্রতি এবং তিনি চিরকাল হেঁটেছেন আল্লাহ ভীরুতার পথে। মানব জাতির প্রতি তাঁর সহানুভূতি ছিল সীমাহীন। (Islam and its holy prophet as judged by the Non Muslim world; page- 20)

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম | মন্তব্য দিন