সন্ত্রাসের ইসলাম তালাকের কোরান


শেখ ফরিদ আলম

সালটা ২০১৩ । ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিক । ঠান্ডা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে । সেই সময় ইসলামপুর হাই স্কুল মাঠে বই মেলা চলছিল । ১৮ ‘তম জেলা বইমেলা । নিউ ইন্ডিয়া বুক ডিপো নামে একটা বইয়ের দোকানে দেখলাম সব রেয়্যার বইয়ের কালেকশান । পুরোনো বই বেশির ভাগ । ছেড়া, ময়লা ধরা, প্রচ্ছদ ছাড়া বই বেশির ভাগ । তারপরেও আগ্রহ হল । কারন অনেক এমন বই পেয়ে যেতে পারি যেগুলো এখন আর পাওয়ায় যায়না । হয়ত ব্যান হওয়া বইও পেয়ে যেতে পারি । সেই উদ্দেশ্যেই ঢুকে পড়লাম আর অনেকক্ষন হাতড়ে খোঁজ পেলাম এই বইটার ।

   বইয়ের এবং লেখকের নাম দুটোই খুব ইন্টারেস্টিং লাগল । বিতর্কিতও । বইয়ের নাম সন্ত্রাসের ইসলাম তালাকের কোরান । আর লেখকের নাম মালেক তসলিম রুশীদ । নামটা থেকে কেন জানি তসলিম নাসরিন আর সলমন রুশদীর গন্ধ আসছে । যাইহোক, বইটা হাতে নিয়েই সোজা সূচিপত্রে চলে গেলাম । সূচিপত্র দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ । এ তো ভয়ানক বই । সূচি পড়ে মনে হচ্ছিল তখনই শুরু করে ফেলি পড়তে । ফাটাফাট কিনে ফেললাম ।

     বইটির চারটি অধ্যায় । প্রথম অধ্যায় ‘প্রচলিত চর্চা’ । এই অধ্যায়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ, সমালোচনা এবং প্রচলিত ধারণা আছে তা উল্লেখ করা হয়েছি অনেক অনেক বইয়ের এবং খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে । বিশেষ করে আনন্দবাজার এবং দেশ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে । এর পরের অধ্যা্য ‘প্রতিক্রিয়া’ । এই অধ্যায়ে প্রচলিত চর্চার ফলে যেসব প্রতিক্রিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে । তৃতীয় অধ্যায়ে ‘যাচাই’ করা হয়েছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ, বই ও পত্র পত্রিকার সমস্ত সমালোচনা ও খবরের সত্যতা । চতুর্থ অধ্যায় ‘যাচাইয়ের পরে’ । যেখানে সিদ্ধান্ত গুলো দেওয়া হয়েছে ।

     বইটি খুবই তথ্য সমৃদ্ধ । বইটা লিখতে লেখককে কত পরিশ্রম করতে হয়েছে সেটা বোঝা যায় পাতাই পাতাই হাজার হাজার খবরের কাগজের ডেট সহ উদ্ধৃতি আর বিভিন্ন বইয়ের উদ্ধৃতি থেকে । প্রায় সব বাংলা খবরের কাগজের প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয়, চিঠিপত্র ইত্যাদি সংকলিত হয়েছে বইটির পাতায় পাতায় ।

   বইটি খুব সুন্দর সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে । এত তথ্য ও প্রমান নির্ভর যে, যে কেউ বইটির সাথে সহমত জ্ঞাপন করবেন । বইটি পড়লে মুসলিমদের সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা দূর হবে । সাথে মিডিয়া এবং রাজনীতির কারনে কিভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তাও বোঝা যাবে । মুসলিমদের সম্পর্কে বা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা বা অভিযোগ গুলো যাচাই করে তার জবাব দেওয়া হয়েছে ।

বইটি পরে আর প্রকাশিত হয়েছে কিনা জানিনা । তবে কলকাতার আশেপাশে যারা আছেন লেখা প্রকাশনীতে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন । বর্তমান পরিস্থিতে মুসলিমদের আকসার বিভিন্ন প্রশ্নের সন্মুখিন হতে হয় । যার উত্তর অনেকের পক্ষেই দেওয়া কঠিন হয়ে যাই । এ বই আপনার জ্ঞান বাড়াবে এবং অন্যদের ভুল ধারনা দূর করতে পারবেন । তাই অবশ্যই সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন ।

 

বই পরিচিতিঃ

সন্ত্রাসের ইসলাম তালাকের কোরান

লেখক – মালেক তসলিম রুশীদ

পরিবেশক – লেখা প্রকাশনী

প্রথম প্রকাশ – জুন, ২০১০

পৃষ্ঠা – ৪৩২

মুল্য – ২০০ টাকা

পরিবেশকঃ লেখা প্রকাশনী; ৫৭ডি কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা-৭৩; ফোন – ২২৪১ ৯৭১৮; মোবাইল – ৯৪৩৩২৮০৭২০

পরনিন্দাকারী ও চুগলখোর জান্নাতে যাবে না


Beauty-of-nature-random-4884759-1280-800শেখ ফরিদ আলম

মসজিদের ইমাম সাহেব কিংবা বিভিন্ন আলেম ওলামার কাছে মাঝে মাঝে শুনে থাকি গীবদকারী ও চুগলখোরদের শাস্তির কথা । আমরা প্রায় সকলেই জানি চুগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না । যে কাজের শাস্তি বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) সরাসরি জাহান্নাম ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে পরনিন্দা অন্যতম । অথচ, আমরা এই ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্বই দেয় না । যেমন হাদীসে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মানুষ কোন ভ্রুক্ষেপ না করে আল্লাহর অসন্তুষ্টপূর্ণ এমন কতক কথা বলে, যার পরিণাম জাহান্নাম যা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রসারিত’ (বুখারী, মিশকাত – শিষ্টাচার অধ্যায়)। আসলে আমরা নামাজ, রোজা, হজ, দাড়ি, খাত্নাকেই ধর্ম বলে মানি । যত্নের সাথে তা করি । কিন্তু ইসলাম এমন জীবন ব্যবস্থা যা ঘুম থেকে ওঠা থেকে নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সকল ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে । যা মানা মুসলিমদের জন্য আবশ্যকীয় ।

     যাইহোক, পরনিন্দা সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি । কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে কষ্টকর কিছু বলা, যদিও তা সত্য হয় অর্থাৎ তার মধ্যে তা থাকে সেটাকেই পরনিন্দা বলা হয় । আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে এবং কেউ মিথ্যা বলে তাহলে সেটা হবে অপবাদ । যেমন নবীজী বলেছেন, ‘যখন তুমি তোমার কোন ভাইয়ের এমন দোষের কথা বলবে যা তার মধ্যে আছে, তবে তুমি তার গীবত (নিন্দা) করলে । আর যখন তুমি তার সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই তাহলে তার প্রতি অপবাদ দিলে’ (মুসলিম, মিশকাত/৪৮২৯) । আর চুগলখোরি হল একের কথা অন্যকে লাগানো । এই পরনিন্দা বা চুগলখোরি কত ভয়ানক তার প্রমান হল এই পাপের তওবা করে ক্ষমা হয় না । যার নিন্দা করা হয়েছে বা যার বিরুদ্ধে চুগলখোরি করা হয়েছে তার কাছেই ক্ষমা নিতে হয় । বড় পাপ দু’ভাগে বিভক্ত । এক, আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত যা তাওবা ব্যতীত ক্ষমা হয় না । দুই, মানুষের সাথে সম্পৃক্ত যা তাওবা করে ক্ষমা হয় না বরং মানুষের নিকট ক্ষমা নিতে হয়, আর গীবত এ পাপের অন্তর্ভুক্ত । (কে বড় ক্ষতিগ্রস্ত, আব্দুর রাযযাক; ১৩১ পৃষ্ঠা)

সমালোচনা বা পরনিন্দা কখনও সুখের কিছু বয়ে আনেনা । এটা শুধুই মানুষের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে আর ঝামেলা লাগায় । বেশিরভাগ ঝগড়া-ঝামেলার পেছনে এই দুটি জিনিসই থাকে । সুস্থ সমাজের পক্ষে নিন্দা আর চুগলি খুব ভয়ানক দুটি ক্যান্সার । তাই ডেল কার্নেগীও তার বই প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভে সমালোচনা বা পরনিন্দা নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন এবং উদাহরন সহ প্রমান করেছেন সমালোচনা করে কিছুই হাসিল হয় না । সমালোচনা শুধু ক্ষতিই বয়ে আনে । কথায় আছে, হাতের মার থেকে মুখের মার বেশি ক্ষত সৃষ্টি করে । আর সেই কারনেই পরনিন্দাকারী আর চুগলখোরের কথা মানুষ সহজে ভুলে যেতে পারে না ।

এ বিষয়ে কিছু আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করলাম –

  • ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক । নিশ্চয়ই কতক ধারণা গুনাহ । আর কারো গোপন দোষ অনুসন্ধান কর না এবং পশ্চাতে নিন্দা করো না । তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভায়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করে ? তোমরা একে ঘৃণাই কর’। [সুরা হুজুরাত/১২]

  • হুযায়ফা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) –কে বলতে শুনেছি যে, পরনিন্দাকারী জান্নাতে যাবে না । অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, চুগলখোর জান্নাতে যাবে না । (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত/৪৮২৩)

  • ‘তোমরা কি জানো! কোন জিনিস মানুষকে সবচাইতে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তা হল আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র । তোমরা কি জানো! মানুষকে কোন জিনিস সবচাইতে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তা হল দুটি ছিদ্রপথ । একটি মুখ এবং অপরটি লজ্জাস্থান’ । (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত/৪৬২১)

  • ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দ্বিমুখী, ক্বিয়ামাতের দিন তার (মুখে) আগুনের দু’টি জিহ্বা হবের’ । (দারেমী, মিশকাত/৪৬৩৩)

  • ‘তুমি ক্বিয়ামাতের দিন দু’মুখী লোককে সবচেয়ে অনিষ্টপূর্ণ পাবে । যারা এক জায়গায় যা বলে অন্যস্থানে তার উলটা বলে’ । (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত/৪৮২২)

সৎ এবং সাহসী মানুষ


রেহনুমা বিনত আনিস

১।
জোন অফ আর্ক, ইখতিয়ারুদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজি, উসামা বিন জায়েদ- এরা ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে। কিন্ত এদের মাঝে রয়েছে এক বিরল সাদৃশ্য। এরা প্রত্যেকেই জাতির সংকটময় মূহূর্তে নিজ নিজ সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে অকল্পনীয় পরিস্থিতির ভেতর বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এদের আরেকটা মিল হোল ওরা সবাই ছিল টিনেজার- early teenager. অথচ তাদের বোঝার ক্ষমতা, মেধা, যোগ্যতা, দায়িত্বশীলতা ছিল অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং পরিপক্ক লোকজনকে পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট। আজ পৃথিবীর কোথাও কি আমরা এমন একজন টিনেজার খুঁজে বের করতে পারব?

আমাদের টিনেজারদের দোষ নয়- তাদের বাবারা কলের ইঁদুরের মত টাকার পেছনে ছুটছেন, পরিবারকে এনে দিচ্ছেন সকলপ্রকার ধনসম্পদ প্রাচুর্য সম্ভার কিন্তু সন্তানের গঠনপ্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ করার সময় নেই; মায়েরা স্বাভাবিকভাবেই অনুভূতিপ্রবণ এবং সন্তানের কল্যাণকামী, কিন্তু স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানকে আগলে রাখার প্রবণতা বেড়ে এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যা তাকে পঙ্গু করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। আর স্বামী যখন সর্বদাই অনুপস্থিত তখন মায়ের এই অতিরিক্ত protectiveness সন্তানকে কি জোন অফ আর্ক বা বখতিয়ার খিলজি বানাবে না ভিডিও গেমে পুরো পৃথিবীকে কুপোকাত করে ফেললেও বাস্তব পরিস্থিতিতে অকেজো করে ফেলবে তা সহজেই অনুমেয়।

২।
মিশরের প্রবল পরাক্রমশালী বাদশাহ ফেরাউন, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মহান অধিপতি, ধনৈশ্বর্য্যের কোন ঘাটতি নেই তার রাজ্যে, চারিদিকে গড়ে উঠছে বিশাল বিশাল পিরামিড তার নিজের এবং পুর্বপুরুষদের ক্ষমতার দম্ভের স্তম্ভ হিসেবে, রাজপ্রাসাদে উপচে পড়ছে সুখের সমস্ত আয়োজন- কিন্তু সে সুখি নয়, কারণ সারা পৃথিবী স্ত্রীর পদতলে উজার করে দিলেও তার স্ত্রীর কাছে তার ক্ষমতা এবং অহংকারের কোন মূল্য নেই। স্ত্রী আসিয়া তাকে মুখের ওপরেই বলে- এই ক্ষমতার উৎস অত্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এই প্রাসাদ আর পিরামিড দরিদ্রের অধিকার কেড়ে নিয়ে গড়ে তোলা, সে এর কোন অংশই চায়না, সে ফেরাউনকে দেবতা বলেও স্বীকার করেনা বরং সে আল্লাহর কাছে জান্নাতে একটি ঘর চায়। চূর্ণবিচূর্ণ অহংকারে, রাগে, ক্ষোভে ফেরাউন প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে চুবিয়ে মারে। আসিয়া একে ফেরাউনের সাথে বসবাসের চেয়ে শ্রেয় মনে করে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করে নেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদী এবং জীবনের প্রতি নির্মোহ মহিলা আজকে ক’জন পাওয়া যাবে?

Read the rest of this entry

ইসলামে পশু-পাখিদের অধিকার


শেখ ফরিদ আলম

শিরোনামটা অনেককে অবাক করবে। অনেকের ঠোঁট প্রসারিত হয়ে মুখে একটা মুচকি হাসি খেলে যাবে। হুহ! যে ধর্মে কুরবানী নামের পশুবলি উতসব আছে সে ধর্মে আবার পশু অধিকার! আমাদের সমাজে এমন লোকের মোটেও অভাব নাই। কুরবানীর কারনে অনেকেই মনে করেন ইসলাম একটা হিংস্র ধর্ম। অথচ সত্যটা একেবারেই উলটো। ইসলাম পশু-পাখিদের যে অধিকার চৌদ্দশ বছর আগে দিয়েছে সেগুলোর জন্য মাত্র কিছু বছর থেকে সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা গুলো ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইসলামে জীব জন্তুদের অধিকার জানার আগে আমাদের একটা কথা জেনে নেওয়া উচিত। আল্লাহ পশু পাখি এবং পৃথিবীর সবকিছু অর্থাৎ গাছ, জল, আকাশ, সুর্য শুধুমাত্র মানুষদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ [সুরা বাক্বারাহ/২৯]। ইসলাম বৈধ পশু পাখি খাওয়া জায়েয। ইসলাম এমন অযৌক্তিক কথা বলেনা যে সকলে নিরামিষাসী হও অথবা প্রাণ খেও না। এটা একেবারেই অবৈজ্ঞানীক ও যুক্তিহীন কথা। সকলে নিরামিষাশী হলে পৃথিবী টিকেই থাকতো না। আর উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, তাহলে মানুষ খাবে কী?!

ইসলাম পশু পাখি খাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে আবার সেই সাথে কিছু সাবধানবানীও দিয়েছে।  ইসলাম পশু-পক্ষীর ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। অকারণে তাদের মেরা ফেলা, খাওয়ার জন্য ছাড়া হত্যা করা, তাদের উপর বেশী বোঝা চাপানো, নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদের কষ্ট দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন,  ‘আল্লাহর অভিশাপ সেই ব্যক্তির উপর, যে (অকারণে) পশুর অঙ্গহানী ঘটায়‘ [নাসাঈ/৪৪৪২; ইবনে হিব্বান, বাইহাকী]। অর্থাৎ শুধু মজা করার জন্য কোন পশুর অঙ্গহানী করা যাবেনা। তাকে কোন ভাবেই অকারণ কষ্ট দেওয়া যাবেনা। আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা.) একবার কুরাইশ বংশের কতিপয় নবযুবকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় লক্ষ্য করলেন যে, তারা একটি পাখীকে বেঁধে রেখে (হাতের নিশানা ঠিক করার মানসে তার উপর নির্দয়ভাবে) তীর মারছে। তারা পাখির মালিকের সাথে এই চুক্তি করেছিল যে, প্রতিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর তার হয়ে যাবে। সুতরাং যখন তারা ইবনে উমারকে দেখতে পেল, তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেল। ইবনে উমার (রা.) বললেন, ‘এ কাজ কে করেছে? যে এ কাজ করেছে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ। নিঃসন্দেহে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেই ব্যক্তির উপর অভিশাপ করেছেন, যে কোন এমন জিনিসকে (তার তীর খেলার) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে, যার মধ্যে প্রাণ আছে’ [বুখারী মুসলিম]

প্রশ্ন হল, অকারন বা মজা করার জন্য পশু হত্যা করা কেমন ধরনের পাপ? মহানবী (সা.) এব্যাপারে বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট সব চাইতে বড় পাপিষ্ট ব্যক্তির একজন হল সেই ব্যক্তি, যে খামোখা পশু হত্যা করে’ [দ্রঃ হাকেম, বাইহাকী, সহীহুল জামে’/১৫৬৭]। খামাখা পশু হত্যাকারী অর্থাৎ শখের শিখারী যারা তারা হল সব চাইতে বড় পাপিষ্টদের একজন। পশু শিকার অনেকের কাছে অনেক গৌরবের হলেও ইসলাম তার অনুমোদন করেনা। অর্থাৎ ইসলাম পশুদের বেঁচে থাকার অধিকার দিয়েছে। তাদের অকারন হত্যা করাকে নিষিদ্ধ করেছে। এব্যাপারে আরো একটি হাদীস দেখুন। দয়ার নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অধিকার ছাড়া (অযথা) একটি বা তার বেশি চড়ুই হত্যা করবে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ সেই চডুই সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন’। বলা হল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! অধিকারটা কী (যে অধিকারে তাকে হত্যা করা বৈধ হবে)?’ তিনি বললেন, ‘অধিকার হল এই যে, তা যবাই করে খাওয়া হবে এবং মাথা কেটে (হত্যা করে) ফেলে দেওয়া হবে না’ [নাসাঈ; সহীহ তারগীব/২২৬৬]। এই হাদীস থেকে বোঝা যায় শুধু মাত্র খাওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যা করা যাবে। অন্য কোন কারণে নয়। তবে, কোন জন্তু জানোয়ার মানুষের ক্ষতি করলে তাকে মেরে ফেলা যাবে। বিষাক্ত প্রাণী ঘরে ঢুকলেও তাকে ফেরা ফেলা যাবে। যেমন সাপ বা বিচ্ছু। তবে বাইরে কোথাও যেখানে তারা মানুষের কোন ক্ষতি করবেনা সেখানে তাদের মারা যাবেনা। এবং একজনের কারনে পুরো দলকেও মারা যাবেনা। একদা একটি গাছের নিচে একজন নবীকে পিঁপড়ে কামড়ে দিলে তিনি গর্তসহ পিঁপড়ের দল পুড়িয়ে ফেললেন। আল্লাহ তাঁকে অহী করে বললেন, ‘তোমাকে একটি পিঁপড়ে কামড়ে দিলে তুমি এমন একটি জাতিকে পুড়িয়ে মারলে, যে (আমার) তসবিহ পাঠ করত? তুমি মারলে তো একটিই মারলে না কেন, (যে তোমাকে কামড়ে দিয়েছিল) ?’ [বুখারী মুসলিম/২২৪১]। ভেবে দেখুন ইসলাম শুধু পশু পাখি নয় একটা সামান্য পিপড়াও অধিকার নিশ্চিত করেছে। সুবহান’আল্লাহ!

এছাড়াও বলা হয়েছে, একটা পশুর সামনে অন্য পশুকে যবেহ না করতে, মা পাখির থেকে তার শিশুকে আলাদা না করতে, পশু পাখিকে খাবার না দিয়ে বেঁধে না রাখতে ইত্যাদি। এমনকি, পশু পাখিদের প্রতি দয়াপ্রদর্শনে আছে নেকি। একদা লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! জীব জন্তুর প্রতি দয়াপ্রদর্শনেও কি আমাদের সওয়াব আছে? তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক সজীব প্রাণবিশিষ্ট জীবের (প্রতি দয়াপ্রদর্শনে) সওয়াব বিদ্যমান’ [বুখারী/২৪৬৬; মুসলিম/২২৪৪]।

 

 

 

জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ইসলাম গ্রহনের গুজব ছড়িয়ে লাভটা কার?!


লিখেছেন – শেখ ফরিদ আলম

অং সান সু চি, নীল আর্মস্ট্রং, প্যারিস হিলটন, সুনিতা উইলিয়াম, উইল স্মিথ, ধোনি এবং আরো অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ইসলাম গ্রহন নিয়ে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং স্যোশাল সাইট গুলোতে পোষ্ট দেখা যায়। যখনই কেউ এসব দেখে… না জেনে, না বুঝে তা শেয়ার করা শুরু করে দেয়। সত্য মিথ্যার খোঁজও নেই না। এতে মিথ্যাবাদী হয়ে গোনাহগার তো হয়ই তার সাথে ইসলাম বিদ্বেষীদের ফাঁদে পা ফেলে কত বড় বোকামী করে তাও বুঝতে পারেনা। প্রত্যেকটা ‘শেয়ার’ ইসলামের দুশমনদের ‘জয়’ !!

অবাক হচ্ছেন তো?! অবশ্য অবাক হওয়ারই কথা। এই ব্যাপারে বলার আগে কিছু জরুরি কথা জেনে নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! যদি কোন পাপাচারী (ফাসেক) তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আঘাত না কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও’ (সুরা হুজুরাত/৬)। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘মানুষের মিথ্যা ও পাপের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই প্রচার করে’ (সহীহুল জা’মে/৪৩৫৬; ৪৩৫৮)। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে একজন মুসলিমের জন্য কিছু শুনলেই তার সত্যতা না জেনে প্রচার করা যাবেনা, গুজব ছড়ানো যাবেনা। এমনকি ‘ওরা মনে করে’, ‘ওরা বলে’ বলেও কিছু প্রচার করা যাবেনা। যেমন নবী সা. বলেন, ‘ওরা মনে করে (এই বলে কোন কথা প্রচার করা) মানুষের কত নিকৃষ্ট অসীলা!’ (সহীহুল জামে/২৮৪৩)।

এবার আসি মুল আলোচনায়, একথা নিশ্চয় জানেন যে বর্তমানে পৃথিবীতে সবথেকে বেশি বর্ধণশীল ধর্ম হল ইসলাম। ইউরোপ, আমেরিকা সহ সারা বিশ্বেই মানুষরা ইসলামকে জানছে এবং কবুল করছে। আর এটা কোন মিথ্যা প্রচার নয়। অনেক গবেষণা হয়েছে এনিয়ে। অনেক রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন, বৃটেনের সোয়ান্সী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের প্রতি আঘাত ও প্রতিঘাতের ওপর একটা ব্যাপক গবেষনা চালিয়েছে ২০১০ সালে। সেখানে দেখিয়েছে যে, নাইন ইলেভেন পর বৃটেনেই প্রায় এক লক্ষ লোক ইসলাম গ্রহন করেছে। এদের মধ্যে যুবকযুবতী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতরাই বেশী। এই রিপোর্ট আরো অনেক মূল্যবান তথ্য বের করেছে। রিপোর্টটি পড়ুন এই সাইটে http://faith-matters.org/  অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Read the rest of this entry

১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়


মূলঃ আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ্‌ বিন বায (রহঃ) | অনুবাদঃ শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত। দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক সেই মহান নবীর উপর যার পরে আর কোন নবী নেই। আরো নাযিল হোক তাঁর পরিবার বর্গ, সহচর বৃন্দ এবং তাঁর হেদায়াতের অনুসারীদের উপর।

অত:পর হে মুসলিম ভাই! এ কথা জেনে নিন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল বান্দার উপর ইসলামে প্রবেশ করা, উহা আঁকড়ে ধরা এবং উহার পরিপন্থী বিষয় থেকে সতর্ক থাকা ফরজ করেছেন। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে দিকে আহবান করার জন্যই প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্‌ এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত হবে পক্ষান্তরে যে তাঁর থেকে বিমুখ হবে সে পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বহু আয়াতে মুরতাদ হওয়ার মাধ্যম, শির্ক ও কুফরীর সকল প্রকার হতে সতর্ক করেছেন।

বিদ্যানগণ মুরতাদের বিধি-বিধান অধ্যায়ে এই মর্মে উল্লেখ করেছেন যে, একজন মুসলমান ব্যক্তির রক্ত ও ধন-সম্পদ হালাল কারী বিভিন্ন ইসলাম বিধ্বংসী কার্য কলাপ সম্পদনের মাধ্যমে মুরতাদ ও ইসলাম হতে বহিস্কার হয়ে যায়।

ইসলাম বিধ্বংসী কাজ হল সর্ব মোট ১০টি যা শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত তামীমী (রহিমাহু্মুল্লাহ) ও অন্যান্য বিদ্বানগণ উল্লেখ করেছেন। আমরা ঐ সকল ইসলাম বিধ্বংসী কাজ গুলো নিন্মে সংক্ষিপ্ত ভাবে কিঞ্চিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সহ আপনার জন্য উল্লেখ করছি। যাতে আপনি উক্ত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থেকে অপরকে সতর্ক করতে পারেন।

ইসলাম বিধ্বংশী কাজ গুলো নিন্মরূপঃ

প্রথমঃ আল্লাহর ইবাদতে শির্ক করা। আল্লাহ বলেনঃ

إنَّ اللهَ لاَيَغْفِرُ أنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ ماَ دُوْنَ ذلكَ لِمَنْ يَشاَءُ

“নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করেন না। উহা ব্যতিরেকে উহার নিন্ম পর্যায়ের পাপ সবই তিনি যাকে ইচছা ক্ষমা করেন”। [নিসা : ১১৬]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ

إنَّهُ مَنْ يُشْرِكُ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظاَّلِمِيْنَ مِنْ أنْصَارِ

“নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি শির্ক করবে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এই সমস্ত যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না”। [সূরা মায়েদাহ্‌ : ৭২]

জ্ঞাতব্যঃ এই শির্কের অন্তর্ভূক্ত হল: মৃতকে আহবান করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা, তাদের জন্য নযর-নেয়াজ মানা ও পশু যবেহ করা। যেমন কোন ব্যক্তি জ্বিনের জন্য বা কোন কবেরর জন্য যবেহ করল ইত্যাদি।

Read the rest of this entry

আল্লাহর দৃষ্টি থেকে যারা বঞ্ছিত থাকবে!


সংকলনঃ দাওয়াহ অফিস, রাওদা, রিয়াদ। | অনুবাদঃ শেইখ আব্দুর রাকীব মাদানী

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আম্মাবাদঃ

এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্ছিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না আর না তাদের প্রতি সুনজর দিবেন। তাদের সংখ্যা অনেক। [আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই বঞ্ছিতের অনিষ্ট থেকে হেফাযতে রাখেন, এর কারণ থেকে দূরে রাখেন এবং সেই বঞ্ছিত সম্প্রদায় থেকেও দূরে রাখেন।]

যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার শপথকে সামান্য বিনিময়ে বিক্রয় করেঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখেরাতের কোন অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুতঃ তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [আল্ ইমরান/৭৭] এই আয়াতে মিথ্যা কসম করা হারাম এর প্রমাণ রয়েছে, যা মানুষ সামান্য পর্থিব লাভের জন্যে করে থাকে। উলামাগণ এই কসম কে আল্ ইয়ামীন আল্ গামূস বা ডুবানোর কসম আখ্যা দিয়েছেন কারণ; তা এই কসমকারীকে পাপে ডুবায় অতঃপর জাহান্নামে। [আল্লাহই আশ্রয়দাতা]

গিঁটের (টাখনুর) নিচে বস্ত্র পরিধানকারী

মিথ্যা কসম দিয়ে পণ্য বিক্রয়কারী

কারো উপকার করে তাকে উপকারের খোটা দাতা

আবু হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “ তিন প্রকার এমন লোক রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না আর না কেয়ামতের দিন তাদের দিকে দেখবেন আর না তাদের পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি”। আমি (আবু হুরাইরা) বললামঃ আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “গিঁটের বা টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটা দাতা”। [মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৪]

গিঁটের নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধানকারী হচ্ছে, সেই ব্যক্তি যে তার লুঙ্গি ও কাপড় এত ঝুলিয়ে পরে যে তার দুই গিঁটের নিচে চলে যায়। যদি সে অহংকার স্বরূপ এমন করে, তাহলে তার জন্য উপরোক্ত শাস্তির ঘোষণা কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না যে, তার লুঙ্গি অহংকার স্বরূপ ঝুলিয়ে পরে”। [বুখারী, নং৫৭৮৩/ মুসলিম] আর যে অহংকার স্বরূপ নয় বরং এমনি ঝুলিয়ে পরে, তাহলে তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বাণী প্রযোজ্যঃ “লুঙ্গির যতটা গিঁটের নিচে থাকবে, ততটা জাহান্নামে যাবে”। [বুখারী,নং৫৭৮৭ ] এই ভাবে হাদীসগুলির মাঝে সমন্বয় সাধন হবে। আল্লাহই বেশী জানেন।

পর্দার উদ্দেশ্যে মহিলাদের এক গজ ঝুলিয়ে পরা বৈধ কিন্তু এর বেশী করবে না।

আর মিথ্যা শপথ করে সামগ্রী বিক্রয়কারী হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যে মহান আল্লাহকে তুচ্ছকারী। তাই সে (আল্লাহার কসম দিয়ে) মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লোকদের নিকট পণ্য বিক্রি করে।

আর খোটাদাতা হচ্ছে, যে দান করার পর খোটা দেয়।

যে মুসাফিরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে বাধা দেয়

যে পার্থিব লাভের আশায় কোন মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বায়আত (অঙ্গীকার) করে

আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন প্রকারের লোকের সাথে মহান আল্লাহ কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, না তাদের দিকে তাকাবেন আর না তাদের পবিত্র করবেন; বরং তাদের জন্য রয়েছে শক্ত আযাব। ঐ ব্যক্তি যার নিকট র্নিজন প্রান্তরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মুসাফিরকে তা ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে আমার অতিরিক্ত (রহমত) থেকে বঞ্ছিত করবো, যেমন তুমি তোমার বিনা পরিশ্রমে অর্জিত অতিরিক্ত পানি থেকে বঞ্ছিত কেরেছ এবং সেই ব্যক্তি যে আসরের পর কোন ব্যক্তিকে তার সামগ্রী বিক্রয় করে। আল্লাহর কসম খেয়ে বলে আমি এটা এই এই দামে ক্রয় করেছি। ক্রেতা তার কথা সত্য মনে করে তার কাছ থেকে পণ্য খরিদ করে অথচ সে সত্য নয়। আর সেই ব্যক্তি যে কোন মুসলিম ইমামের (রাষ্ট্রপরিচালকের) হাতে কেবল পার্থিব উদ্দেশ্যেই বাইআত (অঙ্গীকার) করলো; সে যা চায় যদি তাকে তা দেওয়া হয় তো অঙ্গীকার পূরণ করে, আর না দিলে ভঙ্গ করে। [বুখারী, নং ৭২১২/ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৭]

Read the rest of this entry

কুরআনের অলৌকিকতা


একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করিঃ আমার পরিচিত এক যুক্তিবাদী আর মুক্তমনা নাস্তিক এসে একবার আমাকে কিছু কথা বলল যার সারমর্ম হচ্ছে , “ ফাহিম, তোর ইসলাম আর তার যেই মিরাকেলগুলা দেখি আমার হাসি পায় । তোর মত যুক্তিবাদী (!?!) ছেলে ইসলাম গ্রহন করে কিভাবে?”

আমি তাকে কি উত্তর দিয়েছিলাম তা একটু পরে বলছি কারন আপাতত আমার লেখার ভুমিকা দেয়া হয়ে গেছে ।

অনেকের কাছেই হয়তো ব্যাপারটা এখনো পরিস্কার হয় নি । বুঝিয়ে বলছি । গোড়া থেকে শুরু করি ।এই যুক্তিবাদী আর মুক্তমনা নাস্তিক আসলেই বেশ যুক্তিবাদী এবং প্রতিভাবান । বেশ কয়েক বছর আগে সে ইসলাম ত্যাগ করে । ত্যাগ করার আগে সে বেশ কিছু দিন ইসলাম নিয়ে নাড়াচাড়া করেছে । সে সন্তুষ্ট হতে পারে নাই । নামায পড়া , অযু করা এসব তার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে । তার কয়েক বছর পরে তার সাথে আমার দেখা হয় । তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম , “কি হইলে তুই ইসলাম গ্রহন করবি ?” তার উত্তর ছিলো, ”Amaze me”

উত্তরটা আমার পছন্দ হয়েছে । আসলেই তো । আল্লাহ তাআলা কাউকে জোর করে ইসলাম গ্রহন করতে বলেন নি । তিনি যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন মানুষের দিক নিরদেশনার জন্য । তাদের তিনি খালি হাতে পাঠান নি । সাথে ছিলো মুযিযা । যা দেখে তারা বুঝতে পারে যে ইনি আসলেই আল্লাহর নবী বা রাসুল । কল্পনা করুন আপনার পাশের বাসার একজন ; যাকে আপনি অনেক বছর ধরে চেনেন, আপনাকে এসে হটাত এসে বলল “আল্লাহ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন । এখন থেকে আমি যা বলবো তা আমার কথা না বরং আল্লাহর কথা । আর আমার বিরোধিতা করলে আপনি জাহান্নামে যাবেন” আপনি কি করবেন? র‍্যাব ডাকবেন নিশ্চিত । কিন্তু কল্পনা করেন আপনি অতীতে । আপনি হযরত মুসা(আ) এর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন । আর তিনি পানিতে বাড়ি দিয়ে নদীর পানি দুই ভাগ করলেন। কিংবা তার হাতের লাঠি সাপ হয়ে গেলো । অথবা মনে করুন আপনি হযরত ঈসা (আ) সাথে আছেন । তিনি অন্ধকে সুস্থ করে দিচ্ছেন ।স্পর্শ করে কুষ্ঠ ভালো করছেন । তখন আপনার কি তাকে নবী হিসেবে মানতে সমস্যা হত ?

তাহলে বোঝা গেলো যদি কাউকে দেখানো যায় যে আপনি যা করছেন তা অই সময় করো পক্ষে করা কোনভাবেই সম্ভব না তাহলে আপনি হয়তো ঈমান আনবেন বা অন্তত ভেবে দেখবেন । আল্লাহ তায়ালা অন্ধ ভাবে কিছু কে উপাসনা করা পছন্দ করেন না । তাইতো তিনি মুশরিক আর মুরতি পূজকদের উদ্দেশ্য করে বলেন

“Behold! In the creation Of the heavens and the earth, And the alternation Of Night and Day – There are indeed Signs For men of understanding.” [Al-Qur’aan 3:190]

আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) কেও মুযিযা দিয়েই মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন । সর্বশ্রেষ্ঠ যে মুযিযা আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন তা হল আল- কুরআন । — এটা আর নতুন করে বলার নাই । সবাই অনেক আগে থেকেই জানে । এবার আমি আরো কিছু কথা বলবো । এগুলোও আসলে নতুন করে বলার নাই । অনেক আগে থেকেই সবাই জানতো । কিন্তু এখন জানে না । আর জানেনা বলেই আজ আমাদের ইমানের এই বেহাল দশা ।

Read the rest of this entry

সন্তানদের ‘মানুষ’ করা


লিখেছেন: রেহনুমা বিনত আনিস

বান্ধবী শিমু বলত বিয়ের পর সে ছেলের মা হতে চায় যেন সে দেখিয়ে দিতে পারে ছেলেদের কত ভালোভাবে মানুষ করা যায়। অন্যরা বলত তারা মেয়ে সন্তান চায় কারণ মেয়েরা বাবামাকে জ্বালায় না। আর আমি বলতাম আমি বিয়েই করবনা!

কিন্তু অদৃষ্টের লিখন যায় না খন্ডন। বিয়ে হোল। বাচ্চাও হোল। তখন বাচ্চা “মানুষ” করার প্রশ্নও এলো।

এক্ষেত্রে আমার তিনটা বিশেষ সুবিধা ছিল। প্রথমত, আমার অভিজ্ঞতা। ছোট ভাই দু’টি যথাক্রমে আমার ছয় এবং বারো বছরের ছোট ছিল। বিশেষ করে বিদেশে থাকায় ছোটটির প্রায় সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বারো বছর বয়স থেকেই মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার সুযোগ হয়েছে। তাছাড়া বাবা অল্প বয়সে বিয়ে করাতে বাবার বন্ধুদের ছেলেমেয়েরাও ছিল আমার অনেক অনেক ছোট। তাঁরা বিভিন্ন সময় আমার কাছে বাচ্চা রেখে যেতেন, এতে করে বিভিন্ন ধরণের শিশুদের দেখার এবং নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস হয়ে গেছিল অল্প বয়সেই। দ্বিতীয়ত, আমি সর্বভূক। ছোটবেলা থেকেই যেখানে যা পেতাম, বুঝি না বুঝি, পড়তাম। পরে এই টুকরো টুকরো তথ্যগুলো অনেক কাজে লেগে যায়। তৃতীয়ত, আমার বাবামার পাশাপাশি অন্যান্যদের বাবামাকে পর্যবেক্ষণ করে অনেক কিছু শেখার এবং বোঝার সুযোগ পেয়েছি।

আমি খুব ভালো মা নই। আদর্শ মায়েদের মত সন্তানদের খাওয়া দাওয়া, পোশাক আশাক নিয়ে আদিখ্যেতা আমাকে দিয়ে হয়না, প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার ব্যাপারেও আমার বাচ্চাদের ওপর কোন জোর নেই। তবে ছোটবেলা থেকেই তাদের আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব করিয়ে দিয়েছি। পড়তে শেখার সাথে সাথে হাতে অর্থসহ কুর’আন ধরিয়ে দিয়েছি। তাদের বলেছি, “তোমাদের আমাকে বা আব্বুকে বা আর কাউকে খুশী করার কোন প্রয়োজন নেই, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন এমন কোন কাজ তোমরা কখনো কোরনা। তোমরা যদি লুকিয়ে কিছু কর আমি দেখবনা, আব্বু দেখবেনা, হয়ত কেউই দেখবেনা, কিন্তু আল্লাহ দেখবেন। তাহলে আল্লাহ তোমাদের আগুনে শিক কাবাব বানাবেন। আর ওনার কথা শুনলে তোমরা যা চাও সব উনি তোমাদের দেবেন”। আমি চাইনা আমার সন্তানেরা রূপকথা শিখুক। আ্মাদের অধিকাংশেই ইসলাম সম্পর্কে ধারণা রূপকথার মতই। বিভিন্নজনের কাছে টুকটাক শোনা বা চটিবই পড়াতেই আমাদের ধর্মীয় জ্ঞান সীমাবদ্ধ। ফলে আমাদের মধ্যে জন্ম নেয় নানানরকম ভুল ধারণা, অনেক ভুল আচরণ। আসলে যে কি করতে বলা হয়েছে, কি মানা করা হয়েছে বা কেন এ’ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট কোন ধারণা নেই। তাই আমরা নামসর্বস্ব মুসলিম হিসেবে বেড়ে উঠি। কুর’আনের কোন অংশ শুনলে “নিজের যুক্তি” দিয়ে বিচার করি। অথচ আমাদের মানদন্ড হওয়া উচিত কুর’আন এবং “যুক্তি” হওয়া উচিত সেই মানদন্ডের প্রেক্ষিতে। তাই আমি চাই ওরা নিজে পড়ে জেনে বুঝে “মানুষ” হোক। তাছাড়া এই বইটিতে যেভাবে আদর্শ আচরণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা যদি কোন মানুষ অনুসরণ করে তবে সে শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাবা বা মা, বন্ধু, প্রতিবেশী, মালিক বা কর্মচারী সবই হতে পারবে। ব্যাস, আমার কাজ হয়ে গেল!

আমি যখন জানলাম তিনমাস বয়স থেকে গর্ভস্থ শিশুর হৃৎপিন্ড চালু হয়ে যায় এবং পাঁচমাস বয়স থেকে সে শুনতে পায় তখন একটা প্ল্যান করলাম। তিনমাসের সময় চুপি চুপি পড়ার পরিবর্তে জোরেজোরে কুর’আন হাদি্স বইপত্র পড়তে শুরু করলাম, রাগ কমিয়ে হাসিখুশী থাকার চেষ্টা করতে শুরু করলাম, মানুষের সাথে আরো বেশী ভালো আচরণ করতে শুরু করলাম। পাঁচমাসের সময় আমি আমার সন্তানদের সাথে কথা বলতে শুরু করতাম, ভালো খারাপ বোঝাতাম। অনেকে এটাকে পাগলামী মনে করে। কিন্তু একটা সাধারন পরীক্ষা করলেই বুঝতে পারবেন এতে পাগলামীর কিছু নেই। ভূমিষ্ঠ হবার পর শিশু তার বাবাকে দেখে পিটপিট করে তাকায়, তার গলার স্বরে সাড়া দেয়। সে কি করে বোঝে এটা তার বাবা? কারণ সে আগে থেকেই বাবাকে চেনে!

Read the rest of this entry

ভূমিকম্পের শিক্ষা


সাবির আলী

ভূমিকম্প মানেই একটা আতঙ্কিত অনুভূতি। শরীর সহ রূহেও কম্পন ধরিয়ে দেয়, আল্লাহর এই অন্যতম নিদর্শন। দ্বীন ইসলামের এক বিস্তীর্ণ ব্যাপার জুড়েই রয়েছে ভূমিকম্পের অবস্থান। একটা আস্ত সুরা রয়েছে ভূমিকম্প শিরোনামে। অসংখ্য সহীহ হাদীস রয়েছে, যেখানে ভূমিকম্প নিয়ে আছে বিস্তর আলোচনা। কখনো পাপের শাস্তির পরিণামে আল্লাহর গযব হিসাবে, কখনো কিয়ামতের আলামত হিসাবে আলোচিত হয়েছে ভূমিকম্প। এগুলিছাড়াও ভূমিকম্পের একটি বিশেষ দিক রয়েছে, সেটি নিয়েই কিছু বলার আছে-
প্রত্যেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প এমনকি মহামারীও এই তালিকায় সামিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে মূলত দু’টি কারণে। এক, পাপাচারের প্রত্যক্ষ শাস্তি হিসাবে, অথবা দুই, মানুষকে পরীক্ষা করার উপায় হিসাবে। দু’টি কারণই একে অপরের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত। যেমন, সহীহ হাদীসে এসেছে যে, যখন কোন এলাকায় পাপের শাস্তি হিসাবে আল্লাহর গযব নেমে আসে, সেখানকার ভালোমানুষগুলিও সেই গযবের আওতায় পড়ে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, ভালোমানুষরা কেন, গযবের শিকার হবেন। জবাব হচ্ছে, ভালো মানুষদের জন্য দুর্যোগটি পাপের শাস্তি নয়, বরং পরীক্ষার অংশ। আল্লাহ বলেন, আমরা জন্ম ও মৃত্যু তৈরী করেছি যাতে করে পরীক্ষা করতে পারি তোমাদের মধ্যে কে আমলে সবচাইতে উত্তম (সুরা মুল্ক)। এছাড়া আল্লাহ বলেন, আমরা তোমাদের পরীক্ষা করব ভয় দ্বারা, ক্ষুধা দ্বারা, জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা (সুরা বাকারাহ)। সুতরাং, নিঃসন্দেহে ভূমিকম্প এই সমস্ত পরীক্ষাদির অন্তর্ভুক্ত। তবে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাইতে ভূমিকম্পের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আর তা হল, এর সাথে কিয়ামতের যোগাযোগ রয়েছে। কিয়ামতের অসংখ্য ছোট আলামত সমূহ রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সংঘটিত। ঘন ঘন ভূমিকম্প সেই ছোট আলামত সমূহের অন্যতম। কিয়ামতের একটি বড় আলামত হচ্ছে, বড় বড় তিনটি ভূমিধ্বস, যা এখনও অসংঘটিত। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কিয়ামত শুরুই হবে ভূমিকম্প দিয়ে, যেমনটি আল্লাহ সুরা যিলযালে উল্লেখ করেছেন। তাই ভূমিকম্পের নিঃসন্দেহে অন্যান্য দুর্যোগের চাইতে বিশেষত্ব রয়েছে। সেজন্যই হইতো দেখাযায়, অন্যান্য দুর্যোগে মানুষ যতটা ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়, ভূমিকম্পে তার চাইতে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় এলেও দেখবেন, মানুষ তবুও থীতু হয়ে বসে থাকে, কিন্তু ভূমিকম্পে সামান্য টেবিল নড়লেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। মানুষ তার ইচ্ছার স্বাধীনতার কারণে আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করে সত্য, কিন্তু নিজের অজান্তেই যে তারা মহান আল্লাহর নিকটে তাদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বোধহয় এটিই। এবারে শুরুর কথায় ফিরে আসি। বলছিলাম, আল্লাহ আমাদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে হয় আযাবের স্বাদ আস্বাদন করান অথবা পরীক্ষা নেন। কিন্তু এই আযাব বা পরীক্ষার মধ্যে তিনি আসলে কি বোঝাতে চান? আসলে কিন্তু তিনি আমাদের শিক্ষা দিতে চান। শিক্ষা ঐ সমস্ত আত্মরম্ভী মানুষের জন্য যারা আজও আদ জাতির মত ‘আমদের চাইতে শক্তিশালী আর কে আছে?’ অথবা ফিরাউনের মত ‘আনা রাব্বুকুমুল আলা’ জাতীয় অহংকারী উক্তির উপরে ভর দিয়ে দুনিয়ায় কতৃত্ব ফলাতে সচেষ্ট। শিক্ষা ঐ সমস্ত নিরেট মূর্খদের জন্য যারা আজও আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। শিক্ষা ঐ দাম্ভিক বিজ্ঞানীদের জন্য যাদের একফোঁটা অক্সিজেন তৈরীর ক্ষমতা নেয় অথচ আল্লাহর অস্তিত্বকে নস্যাৎ করার দুঃসাহস দেখায়। শিক্ষা ঐ মুশরিকদের জন্য যাদের ‘ক্ষমতাবান’ বিগ্রহরা আজ ধূলিধূসরিত। শিক্ষা ঐ মুনাফিকদের জন্য, যারা আল্লাহ ও মু’মিনদের উপহাসের পাত্র বানায়। আগামীকাল থেকে খাঁটি মুসলিম হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঐ সমস্ত বংশীয় মুসলিমদের জন্য শিক্ষা। শিক্ষা ঐ যুবক ছেলেটির জন্য যে, সন্ধ্যের পরে ক্রিকেটের ব্যাট বল বা নগ্ন চিয়ার লিডারদের দেহ প্রদর্শনে মগ্ন থেকে আল্লাহর আরশের ছায়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঐ কর্মচঞ্চল ছেলেটির জন্যই শিক্ষা যে, কাজকেই ধর্ম মনে করে দিব্যি আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ। ঐ তরুণ, ঐ রিটায়ারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া অথবা রিটায়ার্ড মানুষটির জন্যই শিক্ষা যে আজও হারাম দিয়ে (সুদ, ঘুষ ইত্যাদি) তার দেহ গঠন করে চলেছে। তার জন্যই রয়েছে শিক্ষা যে লোকসভা, পুরসভার ভোটে নিজের দলের পক্ষে অস্ত্র ধরতেও কুন্ঠিত হচ্ছেনা। শিক্ষা এটাই যে আজও সময় আছে। আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিলেন তাঁর ক্ষমতার মাত্রা। যে ক্ষমতার রাশের অধিকারী তিনি নিজেই। তাঁর কাছে কোন বিরোধীপক্ষ নেই। তিনিই হাইকোর্ট, তিনিই সুপ্রিমকোর্ট, তিনিই বিচারক। পালাবার পথ নেই। তাঁর নিকটেই অবশ্যম্ভাবী প্রত্যাবর্তন। কোন ধর্মঘট, কোন ধরনা কোন কাজে আসবে না। পরাক্রমশালী স্রষ্টা নেহাতই দয়ালু এবং করুণাময়, তাইতো তিনি সুযোগ দিচ্ছেন। সময় দিচ্ছেন তাওবা করার। তাঁর নিকটে আত্মসমর্পণ করার। আরেকবার আল্লাহ বুঝিয়ে দিচ্ছেন, নশ্বর এই পৃথিবীতে নশ্বর মানুষের অবিনশ্বরী মনোভাব মোটেই মানানসই নয়। তাই আসুন, সেদিন পৃথিবী আপনার আমার কৃতকর্ম সম্পর্কে কিছু বলে দেওয়ার আগেই (সুরা যিলযাল) আমরা আল্লাহর নিকটে ধরা দিই। আকুল ভাবে কাঁদি। চোখের পানিতে আমাদের গুনাহ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাক। তাওবা করি। যে আগামীকাল থেকে আমরা খাঁটি মুসলিম হওয়ার নিত্য প্রতিশ্রুতি দিই, আজ এই মুহূর্ত হয়ে উঠুক সেই আগামীকালের শুভক্ষণ। আল্লাহর দেওয়া সুযোগকে হাতছাড়া করার বোকামী যেন আমরা না করি। ঐ শুনুন আল্লাহর বাণী- “ হে ঈমানদারগন! তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যবরন করোনা” (সুরা আলে ইমরান)। যে রাসুল(সা) কে গালী দিলে আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়, তাঁর কথাটা ঐ শুনুন: “আল্লাহ্‌ এই নিদর্শনসমূহ কারও জন্ম বা মৃত্যু উপলক্ষে পাঠান না। তিনি এগুলো পাঠান তার বান্দাদের সন্ত্রস্ত করতে। তাই তোমরা যখন এরকম কিছু দেখো তখনই আল্লাহ্‌র স্মরণে, তার কাছে দু’আ করতে ও তার কাছে ক্ষমা চাইতে ছুটে যাও”। [বুখারী ও মুসলিম]

ইসলাম : শান্তি ও মুক্তির দ্বীন

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা শেখা

রিয়াদুস সলিহীন

সহীহ ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস সংবলিত এবং বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় বহুল প্রচারিত গ্রন্থ 'রিয়াদুস সালেহীন'

আলোকিত শান্তির বাণী

ইসলামি স্কলার এবং চিন্তাবিদদের উদ্ধৃতি

বাঙলা

আফসার নিজাম সম্পাদিত : চিন্তাশীল পাঠকের মননশীল সৃজন

৭ শতকের প্রজন্ম

"চিন্তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা সে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারে"

সরল পথ

'প্রচার কর, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়'

Its all about ISLAM

Its all about ISLAM

‌সব কটা জানালা খোলে দাও না

মুনিম সিদ্দিকীর ব্যাক্তিগত ব্লগ

দ্বীনের পথে রাত্রি দিন হাঁটতে হয়।

আল্লাহ সাথে থাকেন অষ্টপ্রহর!

সরল পথ একটিই

"নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ । সুতরাং এরই অনুসরণ কর এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন ক'রে ফেলবে ।" (কুরআন, ৬:১৫৩)

আজাদ কাশ্মীর জামান

পৃথিবীর যা কিছু কল্যাণকর যা কিছু প্রত্যাশায় ... হোক তা সার্বজনীন।

আলোর পথে

আলোকিত চিন্তা-ভাবনা আর অনুভূতির সংগ্রহশালা

চলো পাল্টাই

A topnotch WordPress.com site

ধর্মগ্রন্থ

Just another WordPress.com site

PDF Islamic Book

In the Name of Allah, Most Benefcient, Most Merciful.

AL BASAIR ISLAMIC MEDIA

Every muslim should be the media for Islam

dineralo

**সত্যের অনুসন্ধানী.....

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 55 other followers

%d bloggers like this: